শেরপুর পৌর সচিবের অফিস সময় কি সকাল ১১টা!

সৌরভ অধিকারী শুভ, শেরপুর,বগুড়া: বগুড়ার শেরপুর পৌরসভার সচিব ইমরোজ মুজিবের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দূর্নিতির অভিযোগ উঠেছে। অফিস সময় সকাল ৯টা হলেও তিনি প্রতিনিয়ত সকাল ১১টার পরে অফিসে ঢোকে এতে করে সংশ্লিষ্ট অফিসের কার্যক্রম ও নাগরিক সুবিধা ব্যাহত হচ্ছে।
সুত্রমতে, সরকারী পরিপত্রে উল্লেখ আছে যে কর্মকর্তা কর্মচারীগণের সঙ্গে জনসাধারন ও অন্যান্য সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় সংযোগ স্থাপন দুঃসাধ্য বা অসম্ভব হয়ে পড়ে। এতে সাধারন নাগরিকগণ যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হন, তেমনি সরকারি কাজের গতিও শ্লথ হয়। মাঠ পর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী সকাল ৯টা থেকে ৪০ মিনিট সময় পর্যন্ত নিজ অফিস কক্ষে অবস্থান করবে এবং অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। কিন্তু এই কর্মকর্তা নিজের খেয়াল খুশি মত পৌর অফিস চালাচ্ছেন। তবে কাউকে জবাব দিতে নারাজ হয়ে এ কর্মকর্তা যেমন খুশি তেমন চলো নীতিতে প্রতিনিয়ত কর্মযজ্ঞ চালিয়ে আসছে।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, সকাল ১১টা কিন্তু তখনও শেরপুর পৌরসভার সচিবের অফিস রুমে তালা ঝুলছে। অনেক কর্মচারী অফিস থেকে ছুটি না নিয়ে ছুটি কাটাচ্ছে। কিন্তু এ ব্যাপারে কোন কর্মচারীদের জবাবদিহিও করতে হয় না। ঘড়ির কাটা যখন ১১ টা ৪৫ তখন সচিব মহোদয় অফিসে অনুপস্থিত।
এ বিষয়ে প্রতিবেদক পৌর সচিবের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন আমি অফিসের কাজে বাহিরে আছি বলে বিরক্তি প্রকাশ করে মোবাইল ফোন কেটে দেন। ঠিক তার ৫ মিনিট পরে অফিসে এসে হাজির সেই কর্মকর্তা। সৌজন্য সাক্ষাতে তার সাথে কথা বললে তিনি বলেন অফিসের কাজে আমি ব্যাস্ত ছিলাম। পৌর কিচেন মার্কেট পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। সরকারিভাবে যখন সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে এবং আপনি প্রতিদিন অফিসে দেরি করে আসেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অফিসের মধ্যে কাজ করতে হবে এমনতো কিছু না! আমি অফিসের বাহিরে কাজে থাকি। সরকার যখন নির্ধারিত সময় বেঁধে দিয়েছে তখন সরকারি প্রজ্ঞাপনকে বৃদ্ধাঙ্গলি দেখিয়ে নিজে ধরাকে স্বরা জ্ঞান করছেন না এই কর্মকর্তা । এছাড়া পৌরসভার সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প কাজে বরাদ্দের টাকাতেও নানা অনিয়মও করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার এক কর্মচারী জানান, তিনি প্রতিদিন নিজের খেয়াল খুশিমত অফিসে আসেন। আমাদের বেতন ভাতা বকেয়া ও অন্যান্য কাজের জন্য বলতে গেলে কোন ব্যাবস্থা না নিয়ে উল্টো গালমন্দ করতে দ্বিধা করেননা। অন্যদিকে ওই পৌর সচিব ইমরোজ মুজিব নিজে বিলাসিতার মধ্যে দিয়ে চলছে। তাছাড়া তিনি পৌর অফিসে নির্ধারিক সময়ে উপস্থিত না হওয়ার কারনে অনেক পৌর নাগরিক বিভিন্ন সেবা পেতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। এ যেন তাকে কিছু বলার মত কেউ নেই?
এ বিষয়ে পৌরসভার মেয়র আলহাজ¦ আব্দুস সাত্তারের মোবাইল ফোনে একাধিক বার যোগাযোগ করলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার মন্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

প্রিন্ট করুন

বিভাগ: রাজশাহী,সারাদেশ