শ্রীলঙ্কা থেকে ফেরা ১১ শ্রমিককে বিমানবন্দরেই জিজ্ঞাসাবাদ

জাতীয় ডেস্ক: শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ সিরিজ বোমা হামলার পর দেশে ফিরে এসেছেন ১১ শ্রমিক। শুক্রবার ( ২৬ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় মালিন্দ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে (ওডি ১৬৪) ঢাকায় আসেন তারা। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ইমিগ্রেশন পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন।

জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিমানবন্দর থেকে পুলিশের বিশেষ ইউনিট কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট তাদের হেফাজতে নিয়েছে। ব্রেকিংনিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিমানবন্দরে কর্তব্যরত একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা।

জানা যায়, কলম্বোর দুই পাঁচতারকা হোটেলে আত্মঘাতী দুই ভাইয়ের মধ্যে ছোট ভাই ইনসাফ ইব্রাহিমের মালিকানাধীন তামার ফ্যাক্টরিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন এসব শ্রমিক। তাদের পাসপোর্ট ফ্যাক্টরিতেই জমা ছিল। হঠাৎ ফ্যাক্টরি বন্ধ হলে সেখান থেকে তারা ফেরত পাননি পাসপোর্ট। পরে এই ১১ জন বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। দূতাবাসের মাধ্যমে তাদের আউটপাসের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়।

এই শ্রমিকরা স্বেচ্ছায় ফিরে এসেছে, না-কি শ্রীলঙ্কা সরকার তাদের ফেরত পাঠিয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কারখানাটিতে ওই হামলার বোমা তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শ্রীলঙ্কা থেকে ফেরা ১১ শ্রমিক প্রসঙ্গে ঢাকায় ইমিগ্রেশন পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, সন্দেহভাজন হিসেবে শ্রীলঙ্কা থেকে আসা এই শ্রমিকদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। বিমানবন্দর থেকে তাদের একটি গোয়েন্দা সংস্থার হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলেছে। শ্রীলঙ্কা থেকে ফেরত আসা শ্রমিকদের সবার বাড়ি টাঙ্গাইলে জানা গেলেও তাদের বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি।

ঢাকার কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের একজন কর্মকর্তা জানান, শ্রীলঙ্কায় হামলার পর থেকেই আমরা আরও বেশি সতর্ক রয়েছি। আমাদের এখানে যেসব থ্রেট রয়েছে, আমরা সেসব বিশ্লেষণ করছি।

ইমিগ্রেশন পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শ্রীলঙ্কায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে থাকা সেখানে অধ্যয়নরত একজন বাংলাদেশি ছাত্রীকে ঢাকা পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস। শ্রীলঙ্কার পূর্ব প্রদেশের সাউথ ইস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ফলিত পদার্থ বিদ্যা বিভাগের চতুর্থ বর্ষে অধ্যয়নরত ওই ছাত্রীকে আজ পাঠানো হবে। বিশ্ববিদ্যালয়টি ছুটি শেষে গত সোমবার বিশ্ববিদ্যালয় খোলার কথা। কিন্তু বোমা বিস্ফোরণের কারণে ছুটি বাড়ানো হয়েছে। ফলে ফাঁকা হোস্টেলে শুধু ওই ছাত্রী নিরাপত্তাহীনতায় পড়ে। শ্রীলঙ্কার বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রিয়াজ হামিদুল্লাহ তৎপর হয়ে তাকে দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা শুরু করেন।সূত্র: ব্রেকিংনিউজ/

প্রিন্ট করুন

বিভাগ: জাতীয়