ষষ্ঠবারের মতো কারাগারে ঈদ করবেন খালেদা জিয়া

নিউজ ডেস্ক: ৭৪ বছরে পা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এবারের ঈদুল আজহা নিয়ে কারাগারে বন্দিদশার মধ্যেই ষষ্ঠবারের মতো ঈদ করতে হচ্ছে তাঁকে। ‘আপসহীন নেত্রীর’ খেতাব পাওয়া বেগম জিয়া কারাগারে থাকায় দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যেও ঈদের আনন্দ তেমন একটা দেখা যাচ্ছে না। এমনকি ঈদের দিন বেগম জিয়ার সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীরা সাক্ষাৎ করতে পারবেন কিনা তাও এখনও অনিশ্চিত।

এদিকে নেত্রী কারাগারে থাকায় ঈদের আনন্দও অনেকটা ম্লান হয়ে গেছে বিএনপি নেতাকর্মীদের। অনেকেই বেগম জিয়ার মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে চান না। বিএনপির শীর্ষ নেতারা ঈদুল ফিতরের মতো ঈদুল আজহাকেও বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেদনাদায়ক ঈদ বলে মন্তব্য করেছেন।

শুধু বেগম জিয়াই নন, বিএনপিসহ বিরোধী দলের প্রায় ৫০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা রয়েছে বলে অভিযোগ আছে। প্রত্যেকেই বাড়িঘরছাড়া কিংবা কারাগারে আছেন। ফলে লাখ লাখ পরিবারে এবারও নেই ঈদ আনন্দ।

সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দ্বিতীয়বারের মতো গ্রেফতার হয়ে ষষ্ঠবার কারাগারে ঈদ করতে হচ্ছে বেগম জিয়াকে। ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ভোরে খালেদা জিয়াকে তৎকালীন ক্যান্টনমেন্টের মইনুল রোডের বাসভবন থেকে গ্রেফতারের পর সোজা নিয়ে যাওয়া হয় সিএমএম আদালতে। সেখানে তাঁর জামিন নামঞ্জুর হলে তাকে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় স্থাপিত সাব-জেলে নিয়ে যাওয়া হয়। ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তিনি মুক্তি পান।

২০০৭ সালের ১৪ অক্টোবর প্রথমবার কারাগারে ঈদ করেন খালেদা জিয়া। ওই বছর ঈদের দিন তাঁর বড় ছেলে তারেক রহমান, ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী ও তাদের সন্তানেরা কারাগারে বেগম জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এদিকে প্রায় এক যুগ ধরে দলটির সাজাপ্রাপ্ত সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান পরিবারসহ আছেন লন্ডনে। আর ২০১৫ সালে ছোটে ছেলে আরাফাত রহমান কোকো মৃত্যুবরণ করেছেন।

২০০৭ সালের কোরবানির ঈদও ওই সাব-জেলেই করেছিলেন বিএনপি নেত্রী। জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় ঘোষিত সাবজেলে ওই দুই ঈদে খালেদা জিয়ার পাশের আরেকটি সাবজেলে ছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও।

জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় স্থাপিত সাব-জেলে থাকার সময় ২০০৭ সালের ১৪ অক্টোবর প্রথম উদযাপিত হয় রোজার ঈদ। এরপর ২০০৭ সালের ২১ ডিসেম্বর কোরবানির ঈদও ওই সাবজেলেই উদযাপন করেন তিনি। ওই কারাগারে ৩৭২ দিন কাটানোর পর ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বরে মুক্তি পান খালেদা জিয়া।

এর পর ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ৫ বছর কারাদণ্ড দেন। ওইদিনই তাঁকে আদালত থেকে সরাসরি নাজিমউদ্দিন রোডে অবস্থিত সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিত্যক্ত ওই কারাগারে একমাত্র বন্দি ৭৪ বছর বয়সী সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

গত ১ এপ্রিল থেকে চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে অবস্থান করছেন খালেদা জিয়া। তাই গেল ঈদুল ফিতরের পর ঈদুল আজহাতেও তাঁকে হাসপাতালে বন্দিদশাতেই ঈদ করতে হবে।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাবন্দি হওয়ার পর এ নিয়ে টানা চারটি ঈদে কারাগারেই কাটাতে হচ্ছে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে।

এদিকে আগামীকাল সোমবার ঈদের দিন দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা বেগম জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে আলাদাভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন। সুযোগ পেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিথি ও নাতনি জাহিয়া রহমানসহ স্বজনরাও বিএসএমএমইউ হাসপাতালে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে জানা গেছে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন, ঈদের দিন বিএসএমএমইউ হাসপাতালে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি চেয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে। অনুমতি পেলে ঈদের দিন সকালে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা চেয়ারপারসনের সঙ্গে দেখা করতে হাসপাতালে যাবেন। এ ছাড়া খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে তাঁর পরিবারের সদস্যরাও অনুমতি চেয়েছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদের দিন দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা প্রথমে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত করবেন। সেখান থেকে বনানীতে খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠপুত্র প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর কবর জিয়ারত করবেন নেতারা।

উল্লেখ্য, ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি রাজনীতিতে যোগ দেয়ার পর বেশ কয়েকবার গ্রেফতার হন খালেদা জিয়া। বিশেষত এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় ১৯৮৩ সালের ২৮ নভেম্বর, ১৯৮৪ সালের ৩ মে, ১৯৮৭ সালের ১১ নভেম্বর তিনি গ্রেফতার হলেও বেশিদিন তাঁকে কারাগারে বন্দি থাকতে হয়নি।

প্রিন্ট করুন

বিভাগ: রাজনীতি