সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন বঞ্চিতরা ঝুঁকছেন উপজেলায়

রাজনীতি ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হাওয়া শেষ হতে না হতেই দেশে বইতে শুরু করেছে উপজেলা নির্বাচনের হাওয়া। সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিতরা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের মনোনয়নের পেছনে ছুটতে শুরু করেছেন।

এবার প্রথমবারের মতো ৪৯৩টি উপজেলায় উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান তিনটি পদে দলীয় প্রতীকে ভোট হবে। এর আগে উপজেলা পরিষদ সবগুলো নির্বাচনই নির্দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সংসদ নির্বাচনের মতো উপজেলার নির্বাচনেও বিশাল জয়ের প্রত্যাশায় মাঠে নেমে পড়েছেন ক্ষমতাসীন দলটির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। একাদশ সংসদ নির্বাচনে অনেক উপজেলার চেয়ারম্যন অংশ গ্রহণ করতে চাইলেও দলীয় মনোনয়ন পাবেন না বলে দলের শীর্ষ পর্যায় থেকেও সাফ জানিয়ে দেয়া হয়েছিলো। চেয়ারম্যানরা স্বপদে থেকে সংসদ নির্বাচন করতে পারবেন না বলে আদেশ দেন উচ্চ আদালতও।

সাংসদ টিকিট বঞ্চিতরা তাই এবার ঝুঁকছেন উপজেলা নির্বাচনে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র কিনেন মোসলেম উদ্দিন। তিনি আখাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যান। উপজেলা চেয়ারম্যানের পদে থাকায় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন নি। এখন তিনি আবারও উপজেলা নির্বাচনে দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী।

অন্যদিকে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে এমপি মনোনয়ন কিনেন আওয়ামী লীগের জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল আলম, সাবেক পৌরমেয়র হেলাল উদ্দিন, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মিনারা আলম, সাবেক ছাত্রনেতা আশরাফ উদ্দিন লিমন, মো. শামসুদ্দোহা, জহিরুল ইসলাম রতন। তারা কেউ দলের মনোনয়ন পাননি। এখন তারা উপজেলা নির্বাচনে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।

রপুর-১ আসনের গঙ্গাচরা উপজেলার চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান (বাবুল) একাদশ জাতীয় সংসদের দলীয় মনোনোয়ন বঞ্চিত হয়ে উপজেলায় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। রংপুর-৫ মিঠাপুকুর উপজেলার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন সরকার সংসদ নির্বাচনে দলীয় টিকিট পায়নি। ‍তিনিও উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে ঝুকছেন। সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৪ আসনের কাউনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম মায়া দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ করেও পাননি। তবে উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন তিনি। রংপুর সদর উপজেলার চেয়ারম্যান নাসিমা জামান ববিও দলীয় মনোনয়ন কিনে পাননি। তিনি এবারও উপজেলা নির্বাচন করতে চাচ্ছেন।

ভোলা জেলার লালমোহন উপজেলা আওয়ামী লীগে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক দিদারুল ইসলাম অরুণ। তিনি এমপি নির্বাচনের মনোনয়ন না পেয়ে উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এমপি পদে দলীয় মনোনয়ন না পাওয়া লালমোহন পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাদলও উপজেলা নির্বাচনে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

উপজেলা নির্বাচনে সৎ-গ্রহণযোগ্য ও জনপ্রিয় ব্যক্তিদের দলীয় মনোনয়ন দেয়া হবে বলে ব্রেকিংনিউজকে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগে সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। তৃণমূল কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে উপজেলা পরিষদের জনপ্রিয় নেতাদেরকে দলটির মনোনয়ন দেয়া হতে পারে। তিনি বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন বঞ্চিতদের মধ্যে যারা সৎ ও জনপ্রিয় তাদের বিষয়টিও বিবেচনায় নেয়া হবে।’

আওয়ামী লীগের সভাপতিণ্ডলির সদস্য কর্নেল (অব.) ফারুক খান এ প্রসঙ্গে ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘সব উপজেলায় আমাদের সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। উপজেলা ও জেলা কমিটির সুপারিশ বিবেচনায় নিয়ে কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ড প্রার্থী মনোনয়ন দেবে। কোনো উপজেলায় যোগ্য প্রার্থী থাকলে জোটের শরিকদেরও মনোনয়ন দেবে আওয়ামী লীগ।’

ইসি সূত্র জানায়, চলতি বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা, পবিত্র রমজান মাস ও আবহাওয়া পরিস্থিতি বিবেচনায় কয়েক ধাপে সারা দেশের উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জানুয়ারির শেষে না হলে ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে তফসিল ঘোষণা হতে পারে। মার্চ মাসের মধ্যে প্রথম ধাপের ভোটাভুটি ইসি সম্পন্ন করতে চায় বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। সূ‍ত্র: ব্রেকিংনিউজ/

প্রিন্ট করুন

বিভাগ: রাজনীতি