সন্তানের ভুলে আপনার যা করা উচিত

লাইফস্টাইল ডেস্ক: বেশির ভাগ ভুল বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কৈশোর বয়সে হয়ে থাকে। প্রশ্ন আসতে পারে, এত আদর-ভালোবাসা, যত্নের পরও কেন সন্তান ভুল পথে পা দেয়? এর উত্তর হলো, প্রথমে বুঝতে হবে উঠতি বয়সী সন্তানের মনের কাঠামো।

হঠাৎই কিশোর-কিশোরীর নিজস্ব ভালো লাগা, নিজের মতো জীবনযাপন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এর সঙ্গে থাকে আবেগের তীব্রতা, কৌতূহল, মোটা দাগে ভালো-মন্দ বা জীবন-জগৎ সম্পর্কে অপরিপক্ব ধারণা। সবকিছুতে নিজের ইচ্ছার প্রাধান্য, নিষেধ না মানার প্রবণতা, ফলাফল বিবেচনা না করে আবেগনির্ভর সিদ্ধান্ত নেওয়া ইত্যাদি এই বয়সের বৈশিষ্ট্য। এসবের বাইরে ছেলে-মেয়ের পরস্পরের প্রতি আগ্রহ, জৈবিক আকর্ষণ তার মনোজগতে নতুন মাত্রা যোগ করে। এসব বৈশিষ্ট্যের ক্রমশ ভাঙাগড়ার মধ্য দিয়ে যেতে যেতেই একসময় তার মানস কাঠামো পরিপক্বতার রূপ পায়। আবার এসব পরিবর্তনের কারণেই এ বয়সটা ঝুঁকিপূর্ণ, ক্ষেত্রবিশেষে ভুল করার সময়।

বাবা–মায়ের কী করা উচিত?

সন্তান ভুল করলে দূরে না ঠেলে তাকে সম্পূর্ণ গ্রহণ করতে হবে। তাকে আশ্বস্ত করুন, তার প্রতি আপনার ভালোবাসার জায়গা আগের মতোই। বাড়িয়ে দিন সাহায্যের হাত। কঠিন শাস্তি কখনোই সমস্যার সমাধান নয়।
নেতিবাচক কিছু দেখলে এর ফলাফল সম্পর্কে ধারণা দিন। আপনার উদ্বেগের কারণটা বলুন। কোনো কিছুতে আপনার সরাসরি বাধা এ বয়সের সন্তানকে আরও উৎসাহিতই শুধু করবে না, বরং আপনার সঙ্গে দূরত্বও বাড়াবে।

কী করবেন না?
ভুলের জন্য ক্ষমা করা হবে না বা আপনার দরজা চিরদিনের জন্য বন্ধ -এ ধরনের আচরণ করা যাবে না।

ভুল করলে পড়ালেখা বন্ধ বা বিয়ে দিয়ে দেওয়া হবে-এ ধরনের হুমকি কখনোই নয়।

ভবিষ্যতের ভুলের ভয়ে সন্তানকে কারও সঙ্গে না মিশতে দেয়া, অতিরিক্ত আগলে রাখা, অতিরিক্ত শাসনও করা ঠিক নয়। মনে রাখবেন, ভবিষ্যতে আপনার নিরাপত্তার ছায়া যখন আপনার সন্তানের ওপর থাকবে না, জীবন–দক্ষতা ছাড়া জীবনের চড়াই-উতরাই পার হওয়া তার জন্য কঠিন হবে।

কোনো পরিস্থিতি, সেটা যত নেতিবাচকই হোক না কেন, অন্যের বাড়িয়ে দেওয়া হাতই পারে এ অবস্থা থেকে বের করে জীবনের সম্ভাবনার নতুন পথ দেখাতে। সে ক্ষেত্রে সেই বাড়িয়ে দেওয়া প্রথম হাতটা হোক মা–বাবার।

বিডি সংবাদ টোয়েন্টিফোর ডটকম/

প্রিন্ট করুন

বিভাগ: লাইফস্টাইল