সমসাময়িক সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সবাইকে সর্বদা সচেষ্ট থাকতে হবে-প্রধানমন্ত্রী

বিডি সংবাদ টোয়েন্টিফোর ডটকম: বর্তমান সময়ে অপরাধের ধরণ প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। গতানুগতিক অপরাধের পাশাপাশি সাইবার ক্রাইম, মানিলন্ডারিং, মানবপাচার ইত্যাদি বৈশ্বিক অপরাধে সংগঠিত হচ্ছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদকের মত অশুভ সামাজিক ব্যাধি। সমাজ থেকে এসব অপকর্ম নির্মূলে এবং সমসাময়িক সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সবাইকে সর্বদা সচেষ্ট থাকতে হবে। রবিবার সকালে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে ৩৬তম বিসিএস ব্যাচের শিক্ষানবীস সহকারী পুলিশ সুপারদের প্রশিক্ষণ সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশ পুলিশের অব্যাহত সাফল্য শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। এই দেশের মাটিতে কোন ভাবেই জঙ্গি, সন্ত্রাসী ও যুদ্ধাপরাধীদের ঠাঁই হবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সরকার বিগত ২০০৯ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর এ দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও জনমানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নসহ সেবা প্রাপ্তি সহজতর করার লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপন এর মাধ্যমে মহাকাশেও আমাদের অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে। যোগাযোগ খাতে আমাদের যুগান্তকারী উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। মেট্রো রেল এবং নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। ইতিামধ্যেই জাতিসংঘ বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ হতে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে ঘোষণা করেছে।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, আজ আপনারা মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করতে যাচ্ছেন। মনে রাখতে হবে, একজন মানুষ তার সবচেয়ে বিপদের সময় পুলিশের কাছে সাহায্যের জন্য আসে। তাই আপনাদের সেবা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে গণমানুষের আস্থা অর্জন সচেষ্ট থাকতে হবে।

আমরা গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার মাধ্যমে দেশে আইন শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চাই। আমি আশা করি, আপনাদের প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে রুপকল্প-২০২১ এবং রুপকল্প-২০৪১ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে আন্তরিকভাবে সচেষ্ট থাকবেন।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে অবতরণ করে। বেলা ১১টায় প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। এরপর প্রধানমন্ত্রী সহকারী পুলিশ সুপারদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে অভিবাদন গ্রহণ এবং প্যারেড পরিদর্শন করেন। এরপর প্রশিক্ষণে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী পাঁচজন কর্মকর্তার মাঝে ট্রফি বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ শ্যূটার হিসেবে খায়রুল কবির, শ্রেষ্ঠ ফিল্ড পারফমার হিসেবে আব্দুল্লাহ-আল-মামুন, শ্রেষ্ঠ হর্সম্যানশিপ হিসেবে সালাহ্উদ্দিন, শ্রেষ্ঠ একামিক হিসেবে সাইফুল ইসলাম খান এবং শ্রেষ্ঠ প্রবেশনার হিসেবে সালাহউদ্দিনকে ট্রফি দেয়া হয়। প্যারেডে ১৭ জন নারী অফিসারসহ ১১৭ জন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার অংশগ্রহন করেন। তারা এক বছর মেয়াদী মৌলিক গ্রশিক্ষণ গ্রহন করেন।

এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, একাডেমিক পিন্সিপ্যাল মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান সহ সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা পুলিশ একাডেমিতে উপস্থিত ছিলেন।

এতে আরও উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক, ডাঃ মনসুর রহমান এবং আয়েন উদ্দিন প্রমুখ।

প্রিন্ট করুন

বিভাগ: জাতীয়