সরকারের হুকুমেই খালেদা জিয়ার মনোনয়ন বাতিল: রিজভী

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট: সরকারের হুকুমেই বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে অভিযোগ করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, ‘নির্বাচন কমিশনে একজন কমিশনারের সঠিক রায়কে উপেক্ষা করে স্বার্থসন্ধানী প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে বাকি কমিশনাররা বিভক্ত ও প্রশ্নবিদ্ধ আদেশ দিয়ে মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন।’

রবিবার (৯ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘গতকাল আপিল শুনানি চলাকালে আইনগতভাবে ন্যায়ের পক্ষে রায় না দিয়ে বিনা কারণে সময়ক্ষেপণ করেছে নির্বাচন কমিশন। সংবাদ পেয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের নোয়াখালী থেকে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বলেন যে, আইনগতভাবে খালেদা জিয়া নির্বাচন করতে পারবেন না। এর এক ঘণ্টার মধ্যেই আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানকের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনে ছুটে যান এবং নির্বাচন কমিশনকে বেগম খালেদা জিয়ার মনোনয়ন বিষয়ে সতর্ক করেন। প্রতিনিধি দল সাংবাদিকদের সামনে বলেন, ইসিকে সতর্ক করতেই তারা কমিশনে এসেছেন এবং আরও বলেন, সাংবিধানিকভাবে বেগম খালেদা জিয়ার নির্বাচন করার কোনো সুযোগ নেই। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই নির্বাচন কমিশন বেগম খালেদা জিয়ার মনোনয়ন বাতিল করে। মূলত: তারা বেগম খালেদা জিয়ার মনোনয়ন বাতিলের নির্দেশনা দিতেই আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দল সেখানে গিয়েছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সবসময় বেগম খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তাকে নিয়ে আতঙ্কে ভুগছে। আইনগতভাবে বেগম খালেদা জিয়ার নির্বাচন করতে কোনো বাধা না থাকলেও গভীর চক্রান্ত ও মাস্টারপ্ল্যানের অংশ হিসেবেই গতকাল নির্বাচন কমিশন তাঁর মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করেছে। সিইসির নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশন অনেক দণ্ডপ্রাপ্ত লোকের মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা করেছেন, যেমন ১৩ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পংকজ দেবনাথ, হাজী সেলিম, মহিউদ্দিন খান আলমগীর (ম খা আলমগীর) এবং নাজমুল হুদাসহ অনেকেরই মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা করেছে ইসি। তাহলে বেগম জিয়ারটা নয় কেন? নয় এজন্য যে, বেগম খালেদা জিয়ার মনোনয়ন অবৈধ করতে সিইসির প্রতি শেখ হাসিনার নির্দেশ ছিল। আইন সম্মতভাবেই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মনোনয়ন পাওয়ার যোগ্য।’

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া ফেনী-১, বগুড়া-৬ ও বগুড়া-৭ আসন থেকে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। রিটার্নিং কর্মকর্তারা আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে বেগম জিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল করেন-যা সম্পূর্ণভাবে হাস্যকর। বেগম জিয়া তো কারাগারে, তাহলে তিনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করলেন কীভাবে? রিটার্র্নিং কর্মকর্তার সিংহ আর হরিণ শাবকের পানি ঘোলা করার ঈশপের গল্পের মতো আদেশের বিরুদ্ধে আপিল শুনানির রায়ে গোটা দেশবাসী আশা করেছিল ন্যায় বিচার পাবেন তাদের নেত্রী। কিন্তু কি ভয়াবহ দলদাসত্ব দেখালেন সিইসি কে এম নুরুল হুদা ও তাঁর কয়েকজন কমিশনার।’

‘সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে কে এম নুরুল হুদাসহ কয়েকজন কমিশনার আপিলে বেগম জিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন। এই ঘটনায় জাতীয় নির্বাচনী পরিবেশ আওয়ামী দাপটে এখন মিথ্যা জয়ের ফলাফলের স্পষ্ট আভাস বিধৃত হলো। নির্বাচন কমিশন মুখোশের শেষ সুতোটুকু ছুঁড়ে আওয়ামী স্বার্থের মেশিন হিসেবে স্বীয় মহিমায় উদ্ভাসিত হলো।’

রিজভী আরও বলেন, ‘চরম ক্রান্তিকালে আমরা এক অকল্পনীয় আওয়ামী জুলুমের জাহিলিয়াতের পরিস্থিতিতে নির্বাচন করছি। আমাদের সাথে আজ ঐক্য গড়েছেন দেশের সকল দেশপ্রেমিক শক্তি। জাতি আজ ঐক্যবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য গণতন্ত্র ও গণতন্ত্র পূণরুদ্ধারের অবিসংবাদিত নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা। দেশনায়ক তারেক রহমানকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে তাঁর ওপর যে জুলুম চালানো হচ্ছে তা বন্ধ করা ও তাঁকে সসম্মানে দেশে ফিরিয়ে আনা। দেশকে নব্য হানাদারদের হাত থেকে মুক্ত করা। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। এই নির্বাচন হলো আমাদের আন্দোলন। ভোটের আন্দোলন। আমাদের দায়িত্ব হলো-বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি তথা দেশকে মুক্ত করার এই আন্দোলনের ভোটে কোন ধরনের অভিমান রাখা যাবে না। বেগম জিয়ার মুক্তি ও দেশের স্বার্থে সবাইকে নির্বাচনে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শাহিদা রফিক, যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বিডি সংবাদ টোয়েন্টিফোর ডটকম/

প্রিন্ট করুন

বিভাগ: রাজনীতি