সাংবাদিকদের তথ্য প্রদানে গরিমশির অভিযোগ পুঠিয়ায় রোপা-আমন ধান সংগ্রহ অভিযান ৫ দিনে ৩ জন কৃষকের ধান ক্রয়

পুঠিয়া (রাজশাহী) প্রতিনিধি : রাজশাহীর পুঠিয়ায় চলতি অর্থ বছরে রোপা-আমন ধান সংগ্রহ অভিযানে প্রকৃত কৃষকদের লটারীর মধ্যমে ৬ শত ২৮ জনের নাম সংগ্রহ করা হলেও ৫ দিনে মাত্র ৩ জন কৃষক খাদ্য গুদানে তাদরে ধান বিক্রি করেছেন। এ নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। অথচ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মদদে কয়েকজন ডিলার ও মিলাররা পৌর ও ইউনিয়নে লটারী সময় উপস্থিত হয়ে কৃষকদের নিকট থেকে ৩ হাজার টাকা দেকে ৫ হাজার টাকা দিয়ে কার্ড কেনার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া অফিসের দিনে দিনের বেশির ভাগ সময় কয়েকজন ডিলার ও মিলাররা উপস্থিত থেকে খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও গুদামের অফিসে বিভিন্ন আপ্যায়ন করে থাকে। শুধু তাই নয়। বিভিন্ন সময় যে কোন অনুষ্ঠানে এবং পুরাতন গোডাউন থেকে নতুন গোডাউন ও খদ্য নিয়ন্ত্রক কায্যালয়ে যাতয়াতের জন্য খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন নিজে ডিলার ও মিলারদের মোটরসাইকেলে যাতায়াত করে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
আর লটারীতে প্রাপ্ত কৃষকদের নামের তথ্য সাংবাদিকদের দেওয়ার ক্ষেত্রে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকার্তা ও গুদানের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার গরিমশির অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলা খাদ্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থ বছরে ও মাসে ৫ ও ৭ ডিসেম্বর ৬ টি ইউনিয়নে এবং একটি পৌরসভায় লটারীর মাধ্যমে রোপা-আমন ধান সংগ্রহ অভিযানে পুঠিয়া পৌরসভায় ৪০ জন কৃষক, পুঠিয়া ইউনিয়নে ৯০ জন কৃষক, বানেশ্বর ইউনিয়নে ১২০ জন কৃষক, বেলপুকুরিয়া ইউনিয়নে ১০০ জন কৃষক, ভালুকগাছী ইউনিয়নে ১১০ জন কৃষক, শিলমাড়িয়া ইউনিয়নে ৬০ জন কৃষক, জিউপাড়া ইউনিয়নে ১০৮ জন কৃষককে লটারীর ম্যাধ্যমে নির্বাচিত করা হয়। এরপর ১০ ডিসেম্বর থেকে কৃষকরা ধান দেওয়া শুরু করে। কিন্তু রহস্য জনক কারণে গত ৫ দিনে ৩ জন কৃষক ধান জমা দিতে পেরেছে। এই অভিযান ২৮ ফেব্র“য়ার পর্যন্ত চলবে বলে জানা গেছে।
পুঠিয়া পৌরসভা, ভালুকগাছী ও জিউপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, তাদের দপ্তরে লটারী হলেও নির্বাচিত কৃষকদের তালিকা তাদের কাছে নাই।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামসুনাহার ভূইয়া জানান, আমাদের উপজেলার কৃষকদের নাম ওয়েবসাইটে দেওয়া আছে। তারা সেখান থেকে নিয়েছে। কিন্তু লটারীতে প্রাপ্ত কৃষকদের তালিকা আমাদের কাছে নেই।
উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মোঃ জালাল উদ্দিন জানান, আমাদের ৫ ও ৭ ডিসেম্বর লটালী হয়েছে। সেই নামের তালিকা রেজিষ্টার খাতায় তোলা হচ্ছে। ৮ দিনেও ৬ শত ২৮ জন কৃষকের নাম এখনো তুলা হয়নি। সেই নাম রেজিষ্টার খাতায় তোলা হলে অফিসারদের স্বাক্ষর হবে তারপর সাংবাদিকদের দেওয়া হবে এর আগে নয়।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শেখ মোঃ মোফাজ্জল হোসেন জানান, আমি ছুটিতে ছিলাম। আমি যতদুর জানি এখনো রেজিষ্টার খাতায় তোলা হয়নি। সেটা তোলা হলে তারপর দেওয়া হবে। কিন্ত কবে হবে তাও বলতে পারেনি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ওলিউজ্জামান জানান, আমি ফুড অফিসকে বলেছি আপনাদের লটারীতে প্রাপ্ত তালিকার তথ্য দেওয়ার জন্য। এখনো দেয়নি। বিষটি আমরা দেখছি।

প্রিন্ট করুন

বিভাগ: রাজশাহী,সারাদেশ