সুপার মুন হয় একাধিক রকমের

মুক্তমত ডেস্ক : সুপার মুন হয় একাধিক রকমের। বিভিন্ন পত্রিকায় দেখতে পেলাম পূর্ণিমার চাঁদের তুলনায় ৩০ গুন বড় চাঁদ দেখা যাবে ১৪ নভেম্বর। ১৯৪৮ সালের পর দীর্ঘ ৬৮ বছর পর আকাশে সবচেয়ে বড় চাঁদ দেখা যাবে এই রাতে।

জানা গেছে, এদিন চাঁদ পৃথিবীর খুব কাছাকাছি আসবে সূর্য ও পৃথিবীর পারস্পরিক অবস্থান এবং চাঁদের বিচিত্র কক্ষপথে বিচরণের জন্য অনেক কাছ থেকে দেখা যাবে চাঁদ পূর্ণিমার চাঁদ যতোটা বড় হত তার তুলনায় ৩০ গুন বড় দেখাবে ১৪ নভেম্বর রাতের চাঁদটা।

এই সুপারমুন সবচেয়ে ভালো করে দেখতে পারবে উত্তর আমেরিকার মানুষ। ২০৩৪ সালের ২৫ নভেম্বর আরও একটি সুপারমুনের রাত আসবে কিন্তু তখনও এতো কাছে আসবে না।

মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের লুনার স্টাডিজের সহযোগী অধ্যাপক অনির্বাণ মুখোপাধ্যায় বলেন, যখন চাঁদ সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যে একটি সরলরেখা টানলে চাঁদ এবং সূর্যের অবস্থান বিপরীত অভিমুখে দেখা যায় এই সময়টা পূর্ণিমা হয়। তিনি আরও বলেন, নভেম্বরের এই চাদের দূরত্ব হবে পৃথিবী থেকে ২ লক্ষ ২৩ হাজার ৬৯০ মাইলের কম।

চাঁদ আমাদের পৃথিবীকে প্রদক্ষিন করে ডিম্বাকার কক্ষপথে তাই এটি কখনও পৃথিবীর কাছে আসে কখনওবা দূরে সরে যায়।

সুপার মুন যথা তিন প্রকারের হয়ে থাকে যেমন বড়, মধ্যম ও ছোট এবং প্রথমে বড় সুপার মুনের কথা চিন্তা করা যাক এবং ইহার মধ্যেই বিশেষ উদাহরণ টানিয়া দেখা যাক যেমন ইংরেজি সালের সাথে আরবি সালের বিশেষ কোন মিল নাই। যেমন ইংরেজি সালের বছর হয় ৩৬৫ দিনে আর আরবি বছর হয় ৩৫৫ দিনে এবং এখানে বিশেষ করে একটা কথা লক্ষ্য করে দেখতে হবে যে, মনে করেন যদি এই বছর ডিসেম্বর মাসের এক তারিখে যদি আমাদের পবিত্র রমজান অথবা রোজা শুরু হয় তাহলে আগামী বছর রোজা শুরু হবে নবেম্বর মাসের ২০ তারিখে।

এবং তার পরের বছর রোজা শুরু হবে নবেম্বর মাসের দশ তারিখে। এভাবেই প্রতি তিন বছরে একমাস করে আমাদের রোজা এগিয়ে আসতে থাকে এবং এ ভাবেই আমরা যদি আগামীতে ডিসেম্বর মাসের এক তারিখে রোজা শুরু দেখতে চাই তাহলে আমাদের অপেক্ষা করতে হবে ইংরেজি বছরের ৩৫ বছর। আর আরবি বছরের ৩৬ এবং আমাদের রোজা যেমন এক ডিসেম্বরে শুরু হলে আবার পুনরায় এই দিনে রোজা পাইতে হইলে আমাদের অপেক্ষা করতে হয় ইংরেজি ৩৫ বছর আর আরবি ৩৬ বছর এবং তেমনি ভাবেই আগামি সুপার মুন ১৪ গুন বড় দেখতে হলে আমাদের ইংরেজি ৩৫ বছর অপেক্ষা করতে হবে।

তার কারণ, মহাকাশে সূর্যকে কেন্দ্র করে মহাকাশের সমস্ত গ্রহ উপগ্রহ গুলো সূর্যের সকল দিকে প্রদক্ষিন করতে থাকে এবং তেমনি ভাবেই আমাদের পৃথিবীকে কেন্দ্র করে পৃথিবীর চারদিকে চাঁদ প্রদক্ষিন করে থাকে। নিজের সীমা রেখাতে থেকে এবং চাঁদ পৃথিবীকে কেন্দ্র করে পৃথিবীর চারদিকে আপন গতিতে একটি সার্কেলের উপর দিয়ে অথবা সার্কেলের মতোই অনুভূতি আকর্ষণের উপর দিয়ে গুড়িতে থাকে এবং চাঁদের ঘুরন্ত সার্কেল অথবা রোড গুলা হচ্ছে গোলের মধ্যে বাঁকা তেঁরা এবং এই বাঁকা তেরা পথ দিয়ে চাঁদ চলাফেরা করে বলে চাঁদকে পথে টেনে কখনো পৃথিবীর অনেক কাছে নিয়ে আসে আবার কখনো চাঁদকে পৃথিবী হতে অনেক দূরে নিয়ে যায়।

যেমন, রেলগাড়ি লাইনের উপর দিয়ে চলতে থাকে লাইন যেদিকে গেছে রেল গাড়ি সেই দিকে যেতে হয় ঠিক তেমনি ভাবেই চাঁদ তাঁর পথের বাইরে কখনোই যেতে পারবেনা এবং এভাবেই ১৪/১১/২০১৬ সুপার মুনে ফিরে আস্তে চাঁদের সময় অতি বাহিত করতে হবে ইংরেজি ৩৫ বছর আর আরবি ৩৬ বছর। এবং এর ভিতরে চাঁদের পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করতে হবে ৪৩২ বার অথবা চাঁদ পৃথিবীর চারদিকে ৪৩২ ঘুর্ণণ দেবার পরে ১৪/১১/২০১৬ তারিখের সুপার মুনের জায়গাতে এসে পৌছতে পারবে।

অথবা আমরা আগামি ২০৫২ সনে পুনরায় এই সুপার মুন দেখতে পারব। এবং ১৪/১১/২০১৬ সুপার মুন ছিল স্বাভাবিক চাঁদের তুলনায় ১৪ গুন বড় ছিল আর ৩০ গুন উজ্জ্বল ছিল আর এই সুপারমুন যখন হয় তখন চাঁদের সাথে পৃথিবীর দূরত্ব ছিল প্রায় দুই লক্ষ্য ২৩হাজার মাইলের কিছু বেশি এবং স্বাভাবিক ভাবে পৃথিবী হতে চাদের দূরত্ব থাকে প্রায় পাঁচ লক্ষ্য ২৫হাজার হতে ৩০ হাজার মাইল এবং ১৪/১১/২০১৬ তারিখের সুপারমুনের সময় চাঁদ পুরোপুরি পৃথিবীর কক্ষপথের ভিতরে চলে এসেছিল।

মধ্যম আকারের সুপার মুন প্রতি তিন বছর পরপর হয়ে থাকে আর মধ্যম আকারের সুপার মুন
স্বাভাবিক চাঁদ হতে ছয় গুন পর্যন্ত বড় হয়ে থাকে এবং এই মধ্যম আকারের সুপারমুন কিন্তু চাঁদের চলন্ত পথের বাঁকা তেরার কারণেই হয়ে থাকে অথবা যে সার্কেলের উপর দিয়ে চাঁদ পৃথিবীকে কেন্দ্র করে পৃথিবীর চারদিকে ঘুরে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে থাকে ঐ সার্কেল হচ্ছে গোলের মধ্যে বাঁকা তেরা পেঁচানো।

যার কারনে ঐ রাস্তা দিয়ে চাঁদ আপন গতিতে চলতে থাকলে কখনো পৃথিবীর অনেক কাছে আসতে হয় আবার কখনো পৃথিবীর অনেক দূরে চলে যেতে হয় এবং যখনই পৃথিবীর অনেক কাছে এসে পরে চাঁদ তখনই সুপারমুন বলা হয়। এবং এই মধ্যম আকারের সুপারমুন যখন হয় তখন পৃথিবীর সাথে চাঁদের দূরত্ব থাকে প্রায় ৩৫০০০০ হইতে ৩৭৫০০০ মাইল আর এই মধ্যম আকারের সুপারমুন নিয়ে তেমন কিছু ভাবার নেই।

ছোট আকারের সুপারমুন প্রতি বছরে দুইবার হতে দেখা যায় আর এই ছোট আকারের সুপারমুন হয়ে থাকে আমাদের পৃথিবীর ঋতুর পরিবর্তনের উপর নির্ভর করে। যেমন আমাদের পৃথিবীতে
ছয় ঋতুর মধ্যে দুটি ঋতু আমরা দেখতে পাই। যেমন শীতকাল ও গরমকাল এবং আমাদের পৃথিবীর এই দুটি ঋতু শীতকাল ও গরমকাল চাঁদ হতে নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে এবং আমাদের পৃথিবীতে যখন উত্তর মেরুতে শীতকাল থাকে তখন পৃথিবীর দক্ষিন মেরুতে গরমকাল থাকে।

আবার যখন পৃথিবীর দক্ষিন মেরুতে শীতকাল থাকে তখন আবার পৃথিবীর উত্তর মেরুতে আবার গরমকাল থাকে এবং পৃথিবীর ঋতুর পরিবর্তন হয়ে থাকে আমাদের বাংলা মাসের মাঘ ও ফাল্গুন মাসের মধ্যে অথবা এই দুই মাসের মধ্যে যেমন শীত শেষ হতে আর গরম আসতে এই সময় টাতেই পৃথিবীর উত্তর মেরু হতে শীত ধীরে ধীরে চলে যাবার সময় গরম আসার সময়। এবং এই সময় টাতে চাঁদ মাথার উপর দিয়ে দক্ষিন দিকে প্রসারিত হতে থাকে। চাঁদের এই প্রসারণের সাথেই দক্ষিন দিক হতে সূর্যটা আমাদের মাথার উপরে আসে। আর তার সাথেই আমাদের উত্তর মেরুতে গরম শুরু হয়ে যায়।

পৃথিবীর দক্ষিন মেরুতে শীতকাল হয়ে যায় এবং যখন পৃথিবীর ঋতুর পরিবর্তনের জন্য চাঁদ প্রসারিত হয়ে থাকে তখন চাঁদ স্বাভাবিক যায়গা হতে অনেক দূরে চলে যায় ছিটকে এবং আবার যখন অনেক দূর হতে চাঁদ আস্তে আস্তে যথাস্থানে ফিরে আসতে থাকে তখন চলন্ত গতি বেগের ধাক্কায় পৃথিবীর অনেক কাছে আসার পরে আর এই সময় টাতে বিশেষ কর ছোট একটি সুপারমুন হয়ে থাকেভ

আর এই সুপারমুনের সময় পৃথিবী হতে চাঁদের দূরত্ব থাকে প্রায় ৪৫০০০০ মাইল এবং আবার কার্তিক অগ্রাহায়ন মাস এই দুই মাসের মধ্যে আবার ঋতুর পরিবর্তন হতে থাকে যেমন গরমকাল শেষ করে শীতকাল শুরু হবার পথে এই সময় টাতে চাঁদ আবার দক্ষিন দিক হতে উত্তর দিকে লম্ফ দিয়ে থাকে আর তার সাথে পৃথিবীর উত্তর মেরুতে শীতকাল হয়ে যায়। আর এই সময় টাতে পৃথিবীর দক্ষিন মেরুতে গরমকাল হয়ে যায় এবং যখন চাঁদ ঋতুর পরিবর্তনের জন্য উত্তর দিকে লম্ফ দিয়ে থাকে তখন চাঁদ ছিটকিয়ে স্বাভাবিক যায়গা হইতে অনেক দূরে চলে যায়।

এবং ঐ দূর হতে চাঁদ স্বাভাবিক জায়গাতে আস্তে গিয়ে ধাক্কার চোটে পৃথিবীর কিছুটা কাছাকাছি এসে পড়ে এবং এই সময় টাতেও বিশেষ করে ছোট খাটো সুপারমুন হয়ে থাকে আর এই প্রতি বছরের দুইবারের ছোট খাটো সুপারমুন বিশেষ করে বিজ্ঞানিদের চোখে পড়ে না বলেই বিশেষ কাগজে কলমে লেখা হয় না। এবং মহাকাশে যখন বিশেষ করে বড় কিছু হতে থাকে তখন বিজ্ঞানিদের চোখে পড়ে থাকে আর তার সাথে গোটা পৃথিবীকে দেখাতে থাকে এবং উপরে বর্ণিত অধ্যাপক অনির্বাণ মহোদয় সুপারমুনকে কেন্দ্র করে যতটুকু ধারনা দিয়েছেন তার জন্য তাকে সম্মান জানাই। লেখা: মোঃ মুস্তাফা কামাল ইমেইল: dmustafa41@yahoo.com

বি: দ্র: এই লেখার বিষয়বস্তুর সাথে বিডি সংবাদ টোয়েন্টিফোর ডটকম সম্পাদকীয় নীতিমালার কোন সম্পর্ক নেই। এই লেখা লেখকের নিজস্ব মত। এই লেখার প্রভাবে কেউ প্রভাবিত হলে তার দায়ভার বিডি সংবাদ টোয়েন্টিফোর ডটকম বহন করবে না।

প্রিন্ট করুন

বিভাগ: মুক্তমত