স্বেচ্ছায় করোনার প্রথম ‘পরীক্ষামূলক’ ভ্যাকসিন নিলেন যে নারী!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের ভয়ে জনশূন্য হয়ে পড়েছে চীনের উহান শহর, একই অবস্থা ইতালির মত দেশেরও। চলছে প্রতিষেধক আবিষ্কারে জোর প্রচেষ্ঠা। পৃথিবী জুড়ে সবাই যখন আতঙ্কিত তখন এক বিস্ময়কর নারী স্বেচ্ছায় পরীক্ষামূলক ভাবে নিজের শরীরে নিলেন করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক টিকা।

জেনিফার হেলার নামের ৪৩ বছর বয়সী এই নারী এটা সম্পূর্ণ বিপদমুক্ত নয় জেনেও সেচ্ছায় এই ভ্যাকসিন নিলেন। প্রথম তিনজন স্বেচ্ছাসেবীর মধ্যে তিনিই প্রথমে এই ভ্যাকসিন নেন। গতকাল সোমবার কাইজার পারমানেন্ট ওয়াশিংটন হেল্‌থ রিসার্চ ইনস্টিটিউট-এ তার উপর পরীক্ষামূলক এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়।
জানা গেছে, শারীরিক ভাবে সুস্থ স্বেচ্ছায় অংশগ্রহণকারী ১৮ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে বিভিন্ন বয়সের মোট ৪৫ জনের উপর এই প্রতিষেধক পরীক্ষামূলক ভাবে প্রয়োগ করা হবে। প্রায় ছ’সপ্তাহ ধরে চলবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ।

জেনিফার হলারের মাইক্রোসফটের প্রয়াত সহপ্রতিষ্ঠাতা পল অ্যালেনের স্ট্রোটোলঞ্চ স্পেস ভেঞ্চারে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। বর্তমানে মেশিন লার্নিং নিয়ে কাজ করা সিয়াটলভিত্তিক স্টার্টআপ কোম্পানি অটানলিতে বাড়িতে বসে কাজ করছেন তিনি।

এমন সাহসী ও মহৎ পদক্ষেপের পর জেনিফার বলেন, ‘আমরা সবাই অসহায়বোধ করছি। আর আমি মনে করি কারো জন্য কিছু করার জন্য এটা একটা অবিশ্বাস্য পদক্ষেপ’।

ভ্যাকসিন নিজের শরীরে নেয়ার পর পরীক্ষাগার থেকে বের হয়ে জেনিফার বলেন, ‘এটা একটা অসাধারণ অনুভূতি’।

এদিকে, করোনা–ভ্যাকসিন নেওয়ার তালিকায় থাকা দ্বিতীয় স্বেচ্ছাসেবী মাইক্রোসফটের নেটওয়ার্কের কর্মী নীল ব্রাউনিংয়ের মতে, নাগরিক মূল্যবোধের জায়গা থেকেই তিনি এ পরীক্ষা করছেন। তাঁর সন্তানেরা এর জন্য গর্বিত। তিনি বলেন, প্রত্যেক মা-বাবা চান তাঁর সন্তানরা তাঁদের দেখাশোনা করুক।

মার্কিন প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘এমআরএনএ-১২৭৩’ নামের এই টিকার প্রয়োগ শুরু করেছেন আমেরিকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেল্থ (এনআইএইচ)-এর অধীন দ্য ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (এনআইএআইডি)-র বিজ্ঞানীরা এবং তার সহযোগী বায়োটেকনোলজি সংস্থা মডার্না আইএনসি।

প্রিন্ট করুন

বিভাগ: আন্তর্জাতিক