১০ লাখ টাকা ছিনতাই, পুলিশসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট: রাজধানীর মতিঝিলে ১০ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় বংশাল থানা পুলিশের কনস্টেবল আল মামুনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের একজনের নাম জিতু, আরেকজন অজ্ঞাতনামা। মামলার বাদী ১০ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের শিকার আবুল কালাম আজাদ।

বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১টার দিকে মতিঝিল থানায় এই মামলা করা হয়। ছিনতাইয়ের অভিযোগে মামলা নম্বর-৮।

বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) মতিঝিল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মনির হোসেন মোল্লা বিষয়টি ব্রেকিংনিউজকে নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘টাকা ছিনতাইয়ের সময় জনতার রোষানলে পড়া পুলিশ কনস্টেবল মামুন পাওনা টাকা তুলে দেওয়ার কথা বললেও প্রাথমিক তদন্তে এর কোনো সত্যতা মেলেনি। মামুন, জিতুসহ মোট তিনজন ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই টাকার ব্যাগ টান দেয় এবং বাধা দিলে পুলিশের হ্যান্ডকাপ দিয়ে বাদীর মাথায় আঘাত করে।’

মনির হোসেন বলেন, ‘মামুন যদি আসলেই পাওনা টাকা তুলে দিতে সেখানে যেত, তাহলে টাকার ব্যাগ নিয়ে থানায় ফিরতো। কিন্তু সেটি না করে তারা টাকা নিয়ে অন্যদিকে পালানোর চেষ্টা করেছে।’

মামলার বাদী আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘যারা টাকার ছিনিয়ে নেয় তাদের কাউকে আমি চিনি না। কোনোদিন দেখিও নাই। এরা ধরা পড়ার পর গল্প বানিয়েছে। এমনকি জিতু থানায় এসেও বলেছে যে, আমার নম্বরে না-কি সে দীর্ঘদিন ধরে ফোন করে, কিন্তু আমি ধরি না। পরে সেই নম্বরে পুলিশ কল করলে ফরিদপুরের এক নারী কল রিসিভ করেন। তার কাছে জানতে চাওয়া হয় যে, ঢাকার পল্টনে থাকে আবুল কালাম আজাদ নামে কাউকে তিনি চেনেন কিনা। জবাবে ওই নারী বলেন, রং নম্বর।’

তিনি বলেন, ‘ছিনতাই ঘটনার পর সকলকে থানায় নিয়ে আসা হলো। থানায় এসে দেখি মামুনকে সবাই চেনে। ওসি মামুনকে লকাপে না ঢুকিয়ে তার কক্ষে বসিয়ে রাখেন। এরপর শুরু হলো, টাকার উৎস সম্পর্কে। কে দিয়েছে, কার টাকা, এতো টাকা তুলে একা যাচ্ছিলে কেন? এটি হুন্ডির টাকা নয়তো? ইত্যাদি প্রশ্ন করা হয়। আমি বলেছি, এই টাকা আমার। আমার ব্যবসায়ীক পার্টির পাঠানো টাকা আমি ব্যাংক থেকে তুলেছি। এর কিছুক্ষণ পর দেখি, টাকা গুনছে। আমাকে বলা হয়, কত টাকা আছে। আমি বলেছি, ১০ লাখ ৪৫ হাজার। পরে টাকা গণনা করে ১০ লাখ ৫৫ হাজার মিলেছে। আমি আলাদা ১০ হাজার তুলেছিলাম, সেটি বলতে ভুলে গিয়েছিলাম।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, ‘তিনি বলেছেন ১০ লাখ ৪৫ হাজার, আর টাকা গণনা করে পাওয়া যায় ১০ লাখ ৫৫ হাজার। এতে সন্দেহ হলে হুন্ডির বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হয়েছে। এটি অনেক সময় সত্যও হয়ে থাকে। তবে এক্ষেত্রে হয়নি।’

প্রসঙ্গত, বুধবার বিকেল সাড়ে ৩ টার দিকে মতিঝিল এনআরবিসি ব্যাংক থেকে টাকা তুলে মোহামেডান ক্লাবের সামনের সড়কে এলে তিনজন পুলিশ পরিচয় দিয়ে ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদের কাছ থেকে টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নিতে চায়। এতে বাধা দিলে মামুন তার হাতে থাকা হ্যান্ডকাপ দিয়ে আজাদের মাথায় আঘাত করেন। পরে টাকার ব্যাগ নিয়ে পালানোর সময় জনতা দুইজনকে ধরে ফেললেও একজন পালিয়ে যায়।

ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদের বাড়ি ব্রাক্ষণবাড়িয়ার বাঞ্চারামপুরে। তিনি মতিঝিল আরামবাগ এলাকায় থাকেন। পল্টনের শখ টাওয়ারে তার ইলেক্ট্রিক সরঞ্জাম ব্যবসার অফিস আছে।

প্রিন্ট করুন

বিভাগ: রাজধানী