অসহনীয় জীবনযাত্রার ব্যয়ের কারণে বাল্য বিবাহের আশ্রয় নেয় ইয়েমেনের

১৮৩

পরিবারগুলো ইয়েমেন এমন একটি যুদ্ধ-বিধ্বস্ত অঞ্চল, যেখানে সশস্ত্র সংঘাত কখনই থামবে বলে মনে হয় না। ইয়েমেনে হাজার হাজার মেয়ে শিশুকে কম বয়সী বিয়েতে বাধ্য করা হয়, যা তাদেরকে শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে এবং তাদের স্বপ্ন কেড়ে নেয়। সূত্র: A24 News Agency

১২ বছর বয়সী মেয়ে রোজানা আবদেল সালাম মাহিওব এবং ২৩ বছর বয়সী আংহাম মোহাম্মদ আহমাদ বিয়ে করতে চলেছেন কারণ তাদের বাবা-মা, যারা চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করে, তারা তাদের থেকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যাতে তারা তাদের যত্নের খরচ এবং তাদের বরদের দেওয়া অর্থ ভোগ করতে পারেন। কেউ কেউ অর্থপ্রাপ্তির জন্য বিক্রি করে দিতে চান নিজের মেয়েকেই।

এমন একটি মেয়ে অ্যাংহাম, তার মা বলেন, আমার মেয়ে বাচ্চা হলেও বিক্রি করে দেব। এটা সত্য যে আমি দুঃখ বোধ করি কিন্তু আমার কাছে অন্য কোন উপায় নেই। আমি তাকে ৫০০ হাজারে বিক্রি করব। আমি কিভাবে তার বোন এবং ভাইয়ের স্কুলের খরচ বহন করব? আমার ১৬ বছরের ছেলে খুব বেশি কাজ করতে পারে না। তবে শান্তি ও সামাজিক নিরাপত্তা সংস্থা হস্তক্ষেপ করে এই ধরনের বিয়ে বন্ধ করে দেয়।

এই বিষয়ে, সংস্থাটি অপ্রাপ্তবয়স্ক বিবাহের কারণে সৃষ্ট ক্ষতি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে চায়। তাদের আউটরিচ প্রোগ্রামের পরিচালক রাওয়াহ আকলান জানান,আমরা যখন বাল্যবিবাহের দুটি ঘটনা খতিয়ে দেখেছিলাম, তখন আমরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি যে এর দুটি প্রধান কারণ রয়েছে যা অভিভাবকদের এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে। যার প্রথমটি হল পরিবারের দুর্বল সাংস্কৃতিক ও সামাজিক অবস্থা। যার দ্বিতীয়টি হলো, দারিদ্র্য সম্পর্কিত অস্থিরতা এবং কোন সংস্থার অনুপস্থিতি বা কোন কর্তৃপক্ষের দ্বারা কোন সাহায্যের অনুপস্থিতি ।

সংস্থাটির মতে, প্রধানত খাদ্য এবং ওষুধের তীব্র প্রয়োজনই পরিবারগুলোর মেয়েদের বাল্যবিবাহে বাধ্য করার পেছনে প্রধান কারণ। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে সংস্থাটি বাল্যবিবাহের ক্ষতি সম্পর্কে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালায়।

Comments are closed.