অস্ট্রেলিয়ার অনুশীলনে স্মিথ-ওয়ার্নার

0 147

স্পোর্টস ডেস্ক: কেপটাউনে বল টেম্পারিং কাণ্ডে নিষিদ্ধ হওয়া স্টিভেন স্মিথ, ডেভিড ওয়ার্নার ও ক্যামেরুন ব্যানক্রফটের ওপর থেকে শাস্তি তুলে নেওয়ার অনুরোধ করেছিল অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন (এসিবি)।

এসিবি ছাড়াও অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক ইয়ান চ্যাপেলও বলেছিলেন, যেহেতু বল টেম্পারিংয়ে বোর্ডেরও দায় রয়েছে, তাই কেবল খেলোয়াড়দের শাস্তি দেওয়াটা অন্যায়ই। কিন্তু স্মিথদের শাস্তি তুলে নেওয়ার দাবিতে কান দেয়নি ‘সিএ’ (ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া)। গভর্নি বডির স্বাধীন পর্যালোচনা শেষে তিন ক্রিকেটারের শাস্তি বহাল রাখা হয়।

বল বিকৃতি কেলেঙ্কারিতে স্মিথ ও ওয়ার্নার এক বছরের আন্তর্জাতিক ও প্রথম শ্রেণির নিষেধাজ্ঞা পান। আর ব্যানক্রফ্ট ৯ মাসের। নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকায় আগামী বছরের মার্চেই মুক্তি মিলবে স্মিথ ও ওয়ার্নারের। আর ব্যানক্রফট ক্রিকেটে ফিরবেন ডিসেম্বরে। নিষেধাজ্ঞা শেষ হতে বেশ সময় বাকি থাকলেও সবাইকে অবাক করে দিয়ে চলতি ভারতের বিপক্ষে সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার অনুশীলনে যোগ দিয়েছেন দলটির সাবেক অধিনায়ক ও সহ অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ ও ডেভিড ওয়ার্নার।

নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া না হলেও অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট বোর্ড নিজেরাই উদ্যোগী হয়ে স্টিভেন স্মিথ ও ডেভিড ওয়ার্নারকে অনুশীলনে ডেকে নিয়েছে। ভারতের বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট সিরিজের অনুশীলন শুরু করেছে দল।

আর সেই অনুশীলনেই যোগ দিয়েছেন স্মিথ ও ওয়ার্নার। তবে তাদের দলে আসার কোনো সম্ভাবনা নেই। দল যাতে তাদের কাছ থেকে অভিজ্ঞতা পেতে পারে সে জন্যই তাদের ডেকে আনা। রবিবার (২৫ নভেম্বর) সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এসসিজি) টেস্ট দলের সদস্যদের সঙ্গে অনুশীলন করেন তারা।

এ সম্পর্কে স্টার্ক অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘ব্যাটসম্যানের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ওরা আমাদের বলে দেবে, কোন জায়গায় ঠিক বা ভুল হচ্ছে। ওদের মতো ব্যাটসম্যানের চেয়ে ভাল বিশ্লেষণ আর কে করতে পারবে? আমরা যখন তাকে (স্মিথ) আমাদের নেটে আসতে বলি, ভীষণ খুশি হয় স্মিথ। এক কথায় রাজি হয়ে যায়। স্মিথকে আমাদের নেটে পাওয়া দারুণ ব্যাপার। সে বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান। আমরা কেমন বোলিং করছি, সে ব্যাপারে ওর মতামতটা নেওয়া খুবই জরুরি।’

উল্লেখ্য, চলতি বছরের মার্চে দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার কেপটাউন টেস্টে বল বিকৃতির ঘটনা ঘটে। অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটার ক্যামেরন ব্যানক্রফটকে দেখা যায় হলুদ টেপ-জাতীয় কিছু হাতে নিয়ে বল ঘষতে।

পুরো ব্যাপারটি ধরা পড়ে টেলিভিশন ক্যামেরায়। পরে অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ এক চাঞ্চল্যকর সংবাদ সম্মেলনে স্বীকার করেন বল বিকৃতির পরিকল্পনার কথা। বিষয়টি আলোড়ন তুলেছে গোটা ক্রিকেট দুনিয়ায়।

বল বিকৃতির স্বীকারোক্তির পরের দিনই অস্ট্রেলীয় সরকার স্মিথকে অধিনায়কত্বের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াকে চাপ দেয়। ফলে অধিনায়কত্বের পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হয় তাকে। সহ-অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নারও সরে দাঁড়ান তার পদ থেকে।

ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা আইসিসি অবশ্য বল বিকৃতির এই ঘটনায় একটি টেস্ট থেকে নিষিদ্ধ করে স্মিথকে। জরিমানা করা হয় তার ম্যাচ ফি। ব্যানক্রফটকে নিষেধাজ্ঞা না দিলেও করা হয় ম্যাচ ফির ৭৫ শতাংশ জরিমানা।

বিডি সংবাদ টোয়েন্টিফোর ডটকম/

Leave A Reply

Your email address will not be published.