আমাদের নির্বাচনে যাওয়ার দরকার নেই: খালেদা জিয়া

276

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট: তফসিল ঘোষণার পরও সরকারের দমননীতির কঠোর সমালোচনা করে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘মামলা দিয়ে কোর্টের মাধ্যমে আমাদের আটকে রাখা হচ্ছে। তাহলে আমাদের এটাও বলে দেয়া হোক যে, আমাদের নির্বাচনে যাওয়ার দরকার নেই।’

বুধবার (১৪ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে অবস্থিত ঢাকার ৯নং বিশেষ জজ মাহমুদুল কবিরের আদালতে নাইকো মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানিতে হাজির হয়ে বেগম জিয়া এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘একদিকে মামলা চলবে, অন্যদিকে তারা (ক্ষমতাসীন দল) নির্বাচন করবে -এটা তো হতে পারে না। বলে বলুক- আমাদের নির্বাচনে যাওয়ার দরকার নেই।’

এদিন হুইল চেয়ারে বসে আদালতে আসেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত বেগম জিয়া গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি আছেন।

আদালতে হাজির হয়ে বেগম জিয়া বলেন, ‘আমার মামলাগুলোর বিচারকাজ কেন এত দ্রুত শেষ করা হচ্ছে? আমার মামলা ছাড়া কয়টা মামলা দ্রুত বিচারে নিষ্পত্তি করা হয়েছে? সেভেন মার্ডার (নারায়ণগঞ্জের ৭ খুন) মামলা কি দ্রুত বিচার আইনে হয়েছে? বর্তমান রাজনীতির সঙ্গে সবকিছু চলছে।’

নির্বাচনের পর অভিযোগ গঠনের পরবর্তী শুনানির জন্য আদালতের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, ‘নির্বাচনে আমার নেতাকর্মীরা ব্যস্ত থাকবেন। কেউ আসতে পারবেন না। এ কারণে নির্বাচনের পর শুনানির দিন ধার্য করা হোক।’

এসময় আদালত বেগম জিয়ার আবেদন আমলে নিয়ে আগামী ৩ জানুয়ারি নাইকো মামলার অভিযোগ গঠনের পরবর্তী দিন ধার্য করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, কানাডিয়ান প্রতিষ্ঠান নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতিসাধন ও দুর্নীতির অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় মামলাটি দায়ের করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম। ২০০৮ সালের ৫ মে বেগম জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে নাইকো মামলায় অভিযোগ গঠন হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়।

এদিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ৫ বছরের কারাদণ্ড বেড়ে ১০ বছর এবং জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিশেষ আদালতে ৭ বছরের কারাদণ্ড পেয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি বেগম জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন আদালত। এর পর থেকেই তিনি নাজিমুদ্দিন রোডের পুরনো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি।

এর পর এক রিট আবেদনের নিষ্পতি করে গত ৪ অক্টোবর বেগম জিয়াকে বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। সেই মোতাবেক গত ৬ অক্টোবর খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউ নেয়া হয়।

একমাসেরও বেশি সময় হাসপাতালে থাকার পর গত ৮ নভেম্বর নাইকো দুর্নীতি মামলার শুনানি হাজির করতে বেগম জিয়াকে আদালতে নেয়া হয়। ওই দিনই পুনরায় তাঁকে কারাগারে ফিরিয়ে নেয়া হয়।

ওইদিনই সাংবাদিকদের করা প্রশ্নে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের পক্ষ থেকে বলা হয়, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা এখন ‘যথেষ্ট স্থিতিশীল’। তাঁর আপাতত হাসপাতালে থাকার প্রয়োজন নেই।

তবে বিএনপি বরাবরই দাবি করে আসছে, বেগম জিয়া গুরুত্বর অসুস্থ। তাঁকে উন্নত চিকিৎসা দেয়া দরকার। গতকাল সোমবার কারাগারে বিএনপির শীর্ষ ৫ নেতা দলের চেয়ারপারসনের সঙ্গে দেখা করে বেরিয়ে আসার পথে মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের জানান, বেগম জিয়াকে গত ৭ দিন ধরে থেরাপি দেয়া হচ্ছে না। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে সরকার দেশনেত্রীকে মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে।

বিডি সংবাদ টোয়েন্টিফোর ডটকম/

x