আমি ঐক্যফ্রন্টে যুক্ত হওয়ায় হামলা-মামলা: জাফরুল্লাহ

0 155

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট: গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, ‘সাভারে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে র‌্যাবের অভিযান ছিল পুরো সন্ত্রাসী কার্যকলাপের মতো। আমি ঐক্যফ্রন্টে যুক্ত হওয়ার ফলে এই ধরনের কার্যক্রম চলছে। আমাদের প্রতিষ্ঠানে যে হামলা-মামলা চলছে তাতে কি প্রধানমন্ত্রী উপকৃত হচ্ছেন। এতে প্রধানমন্ত্রীকে তারা আরও বিপদে ফেলছে।’

শনিবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে ঘণ্টাব্যাপী সাভারে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে হামলা, দখল এবং ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর নামে একের পর মামলা নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে মেয়াদউত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়া গেছে, এগুলো ধ্বংস করার জন্য রাখা হয়েছিল। ওষুধগুলো ইচ্ছামতো ধ্বংস করা যায় না, এর জন্য একটি বোর্ড আছে। বোর্ড সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নেয় এবং নিয়ম অনুসারে ধ্বংস করা হয়।’

তিনি জানান, ‘গণস্বাস্থ্য ফার্মায় র‌্যাব কিছু রি-এজেন্টও পেয়েছে। রি-এজেন্ট ওষুধ তৈরিতে ব্যবহার হয় না, ওষুধের মান যাচাই করার জন্য ব্যবহার হয়। সেই রি-এজেন্টকে মেয়াদউত্তীর্ণ বলে গণস্বাস্থ্যকে অভিযুক্ত করা হয়। এছাড়া কিছু জীবনরক্ষাকারী অ্যান্টিবায়োটিকের মোড়ক দেখতে একটু অস্পষ্ট বলে এগুলোকে মেয়াদউত্তীণের তালিকায় ফেলে র‌্যাব; কিন্তু এগুলো মেয়াদ উত্তীর্ণ ছিল না।

আন্দোলন সম্পর্কে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘আন্দোলন সফলের জন্য ‘রোল প্লে’ করতে হয়। যে কোনও পরিবর্তনের জন্য রক্ত দিতে হয়। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আন্দোলন দরিদ্র মানুষের উন্নয়নের জন্য।’

পরে জাফরুল্লাহকে প্রশ্ন করা হয়- আপনার জন্য প্রতিষ্ঠানটি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এক্ষেত্রে আপনি সরে যাবেন কি? উত্তরে জাফরুল্লাহ বলেন, ‘আমি ১০ বছর আগেই অবসর নিয়ে সাভার গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে ঢাকায় চলে এসেছি। আমি ট্রাস্টি বোর্ডের অবৈতনিক একজন সদস্য মাত্র।’

রাজধানীর গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারপারসন অধ্যাপক আলতাফুন্নেসা।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, র‍্যাব তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের ১৫ লাখ টাকা জরিমানা পরিশোদ করার নির্দেশ দেয়। আমরা র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাছে অনুরোধ জানায় টাকা প্রদানের জন্য কিছুদিন সময় দিতে হবে। তারা আমাদের জানান যে, মোবাইল কোর্টে জরিমানার টাকা পরিশোধের সময় দেয়ার কোনও নিয়ম নেই। হয় টাকা দিতে হবে নাহলে জেলে যেতে হবে।

জরিমানার অর্থ চেকে পরিশোধ করলে হবে কি-না জানতে চাইলে তারা জানান, কোনও প্রকার চেকে লেনদেন হয় না। পরে রাত ১টার সময় শর্ত সাপেক্ষে পরের দিন সকাল ১১টার মধ্যে টাকা পরিশোধের সময় দিয়ে পরিদর্শক দল স্থান ত্যাগ করেন।

পরের দিন সকাল ১১টায় টাকা পরিশোধ না করায় র‍্যাব পুনরায় কারখানায় প্রবেশ করে। অনেক অনুরোধের পরেও টাকা পরিশোধের সময় না দিয়ে দুপুর ১টায় গণস্বাস্থ্য ফার্মাসিকিউটিকেলস এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক শ্রীমতি সন্ধ্যা রায়, উৎপাদন পরিচালক নিতীশ চন্দ্র চৌধুরী এবং হিসাব কর্মকর্তা লিপু দাসকে সাভারের র‍্যাব অফিসে ধরে নিয়ে জেলে পাঠানোর ভয়ভীতি দেখানোর প্রায় আড়াই ঘণ্টা পরে ব্যাংক থেকে চেক ভাঙিয়ে নগফ ১৫ লাখ টাকা মোবাইল কোর্টকে দিলে তিনজন সংখ্যালঘু কর্মীকে র‍্যাব অফিস থেকে মুক্তি দেয়। ক্যাশ টাকা পাওয়ার পর কোনও রশিদ দেয়নি, শুধুমাত্র জরিমানার একটি স্লিপ দিয়েছে।

এই ঘটনায় পরপরই মোহাম্মাদ আলী, সৈয়দ সেলিম, রবিউল, নাসির, আনিস, জিকির আলী, তাইজুল, রজ্জব আলীর নেতৃতে ৫০-৬০ জনের সন্ত্রাসী বাহিনী গণস্বাস্থ্য ফার্মাসিকিউটিকেলসের কারখানায় আক্রমণ চালায়। তারা নির্মাণাধীন সেফালোস্প্রিন ভবনে কর্মরত শ্রমিকদের উপর অতর্কিত হামলা চালায় ও ভবন এলাকা দখলের চেষ্টা করে। হামলাকারীরা ওই সময় নারী শ্রমিকদের লাঞ্চিত করে যা পত্রপত্রিকায় এসেছে।

বিডি সংবাদ টোয়েন্টিফোর ডটকম/

Leave A Reply

Your email address will not be published.