কম্বোডিয়ায় বন উজাড় বন্ধ করতে চালু হয়েছে ইকোট্যুরিজম

১৯৪

কম্বোডিয়ায় প্রাহ ভিহিয়া প্রদেশের তাবোস গ্রামের বাসিন্দারা পরিবেশ বাঁচানোর জন্য, অর্থ উপার্জনের একটি বিকল্প উপায় খুঁজতে ইকোট্যুরিজমের দিকে ঝুঁকেছে। কারণ আগে গ্রামবাসীদের অনেকেই গাছ কাটার উপার্জনের উপর অনেক বেশি নির্ভর করত।  ‘বি ট্রিড’ ইকোট্যুরিজম প্রকল্পের প্রতিষ্ঠাতা বেন ডেভিস বলেছেন, ‘বি ট্রিড’ একটি প্রকৃতি পর্যটন সাইট এবং এটি পরিবেশবাদী এবং স্থানীয় সম্প্রদায় দ্বারা পরিচালিত ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। সূত্র: A24 News Agency

এটির উদ্দেশ্য বন্যপ্রাণী এবং বন সংরক্ষণ করা। মিঃ বেন ডেভিস গ্রামের বাসিন্দাদের আশেপাশের বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় নেতৃত্ব দেন কারণ তাদের এলাকাটি এখন একটি ইকো-ট্যুরিস্ট সাইটে রূপান্তরিত হয়েছে যেখানে স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যটকরা রোমাঞ্চের জন্য আসছেন।

তিনি বলেন, “আমরা ‘বি ট্রিড’ নামক এই জায়গাটিকে একটি পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে তৈরি করেছি এবং আমরা বন্যপ্রাণী, বিশেষ করে বন সংরক্ষণের জন্য পরিবেশবাদী সম্প্রদায়ের সাথে কাজ করি। সাথে আমরা পর্যটকদেরও স্বাগতম জানাই।“এলাকাটিতে একটি সুন্দর বন এবং পর্বত আছে। মিস্টার ভেসনা নামে নম পেনের এক ব্লগার তার ভ্রমন অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন, “গতকাল, নম পেন থেকে ভ্রমণ করতে আমার প্রায় ৬ – ৭ ঘন্টা লেগেছিল।

কমিউনিটি হাউসে দুপুরের খাবারের পর, আমি দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে কোর ইয়নে চড়ে আবার হেঁটে গেলাম নম ফনাক নামক পাহাড়টি দেখতে। আমি বলি এটি খুব কঠিন নয় বা হতে পারে, তবে এটি কঠিন নয় কারণ আমাদের কমিউনিটি ট্যুর গাইড আমাদের মোটরবাইকে কিছু ভারী লাগেজ বহন করতে সহায়তা করে; কিন্তু আমাদের পায়ে হেঁটে যেতে হয়।

সেই সময়ে, আমি সত্যিই ক্লান্ত ছিলাম, হাল ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছিলাম, প্রায় অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছিলাম। যাই হোক, যখন আমরা শীর্ষে পৌঁছলাম, সুন্দর দৃশ্য দেখতে পেয়ে আমার ক্লান্তির অনুভূতি ম্লান হয়ে গেল। তারপর আমরা তাঁবু বসাতে শুরু করলাম, খাওয়ার জন্য খাবার তৈরি করলাম। আমাদের কমিউনিটি ট্যুর গাইড যিনি আমাদের দেখা- শোনা করেছেন তিনি মুরগি গ্রিল করতে শুরু করলেন।

এরপর, আমরা রাতে মজা করেছি, আগুনের চারপাশে একসাথ হয়ে গেমস খেলেছি। সকালে উঠে সূর্যোদয় দেখতে দেখতে দোল এবং কফি খেয়েছি। এমন ভয়ঙ্কর স্মৃতি এবং অভিজ্ঞতা হয়েছে। আমি মনে করি পথে কষ্টের জন্য আমি কখনই অনুশোচনা করব না।“

ইকো ট্যুরিজমের জন্য উদ্যোক্তারা এমন একটি উপায় অবলম্বন করছেন যেখানে গ্রামবাসীরা ট্যুর গাইড হিসাবে কাজ করে আয় করতে পারে এবং তাদের উপার্জনের জন্য অবৈধভাবে গাছ কাটা এবং পশু শিকার করা বন্ধ করতে পারে। প্রোগ্রামটির সংগঠক মিস. ভিচেতা বলেন, “আমি তাদের জন্য যা করতে পারি তা হল তাদের সম্প্রদায়কে সমর্থন করার জন্য ইকো-ট্যুরিস্টদের একত্রিত করা।

কারণ মিঃ বেন ডেভিস ‘বি ট্রিড’ ও ‘তাবোয়াস’ সম্প্রদায় প্রতিষ্ঠা করেছেন। আমরা এখানে পৌঁছে দেখি গাছের সাগর, এটা দেখতে অনেক সুন্দর একটা জঙ্গল। ক্যাম্পিংয়ের জন্যও জায়গাটি আরামদায়ক কারণ আমাদের সম্প্রদায়ের ট্যুর গাইড আগাছা নেই এমন একটি জায়গায় আমাদের জন্য তাঁবু তৈরির জায়গা থিক করে দিয়েছেন। সুতরাং, যদি আমরা একটি ইকোট্যুরিজম সাইটে গিয়ে তার মাধ্যমে ট্যুর করি, আমরা সম্প্রদায়ের লোকেদের গাছ কাটার চেয়ে বেশি অর্থ উপার্জন করতে সহায়তা করতে পারব।”

এদিকে, ট্যুরিজম সম্প্রদায় প্রতিনিধি মিঃ সোয়েম থৌরি জানান, “অনেক আগে আমরা যখন জঙ্গলে হাঁটতাম, তখন প্রাণীদের আওয়াজ শোনা সহজ ছিল না। এখন, আমরা হাঁটাহাঁটি করতে বেশিরভাগ সময়ই পাখির কিচিরমিচির শুনতে পাই, আমরা পশুপাখি ইত্যাদি দেখতে পাই। আগে এগুলো কিছু ছিল না, যখনই আমরা হাঁটতাম, ঘুমাতাম, তখনই আমরা করাত মেশিনের শব্দ শুনতে পেতাম।“

তিনি আরও বলেন, “তাবোয়াস ইকো-ট্যুরিজম সম্প্রদায় শুধুমাত্র গাইডের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়নি। আমাদের আরেকটি ভূমিকা আছে, কমিউনিটি বনে টহল দিতে সাহায্য করা। অতএব, আমাদের মধ্যে কিছু মানুষ যারা বন কাটত, বিশেষ করে যুবকরা, এখন ট্যুর গাইডের ভূমিকা নিয়ে ইকো-ট্যুরিস্টদের বনের পথ দেখাতে গিয়ে চারা রোপণ করে আসে।

আমাদের প্রকল্পটি ২০১৯ সালে শুরু হয়েছিল, কিন্তু গত দুই বছর কোভিড-এর কারণে আমরা ইকো-ট্যুরিজম নিয়ে কাজ করতে পারিনি। তাই, আমরা বেন ডেভিসের সাথে কাজ শুরু করেছি কারণ তার রেঞ্জারদের সাথে যোগাযোগ রয়েছে তাই আমরা তাদের সাথে টহল দিই।“

ভিডিও দেখতে ক্লিক করুনঃ https://youtu.be/EbCoDKyDuM8

 

Comments are closed.