নির্বাচিত খবর

করোনাকালে সাংবাদিকরা অগ্রনী ভূমিকা পালন করছে

মনিরুল ইসলাম: সারাবিশ্ব ব্যাপী ছড়িয়ে পড়া এক আতঙ্কের নাম “কোভিড-১৯” বা “করোনা” ভাইরাস। আর এই করোনা মোকাবিলার যুদ্ধে সাংবাদিকরা সামনের সারির যোদ্ধা হিসেবে কাজ করছেন। সারাদিন ঘটে যাওয়া ঘটনা গুলো বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারের মধ্যে দিয়ে নিরলস ভাবে কাজ করছেন দেশের সাংবাদিকগন।

আপনি একবার চোখ বন্ধ করে ভেবে দেখুন তো! যদি ২৪ ঘন্টা অর্থাৎ একটি দিন ও রাত আপনি সংবাদ জানতে পারলেননা। নিজের কাছে যেন একটা অপূরনীয় চাহিদা রয়ে যাবে। ঠিক আপনার এই মৌলিক চাহিদা পূরনে সাংবাদিকদের  ভূমিকা অপরিহার্য।

বর্তমানে সারাবিশ্বের ন্যায় আমাদের দেশেও মহামারী রূপ ধারণ করেছে “করোনা” ভাইরাস। সাধারণ মানুষ যখন করোনার দাপটে তটস্ত ঠিক এমন সময়ে জীবনের বাজি রেখে প্রতিটা মূহুর্তের সংবাদ আপনার কাছে পৌঁছে দিচ্ছে সাংবাদিকগন।কিন্তু সাংবাদিকরা এখনো পর্যন্ত বি ত রয়েছে ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম থেকে।

এই মহামারী পরিস্থিতে ব্যক্তি উদ্যগে ও কিছু প্রতিষ্ঠানের উদ্যগে ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম পেয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় যা নেহায়েত কম। অনেকে পেশাগত ঝুঁকি নিয়ে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। এ পর্যন্ত অনেক সংবাদকর্মী আক্রান্ত হয়েছে করোনা ভাইরাসে।

শুধু তাই নয়, এই মহামারী লগ্নে নিজস্ব সোর্স কমে গেছে সাংবাদিকদের। যার কারনে অন্যদের দেওয়া তথ্যের উপর ভিত্তি করে চলতে হচ্ছে সংবাদকর্মীদের। অনেক সংবাদ কর্মী ছাঁটাই হচ্ছে গণমাধ্যম থেকে। যাতে করে বেড়েছে আর্থিক অস্বচ্ছলতা। এতে বেশ ক’দিন ধরে সাংবাদিকতার তাল পাল্টে গেছে।

সাংবাদিকতা অন্যসব পেশার চেয়ে একটু আলাদা। দেশের চতুর্থ স্থরের স্থপতি সাংবাদিকরা এখন ভুগছে নানাবিধ সংকটে। সরকারী চাকুরিজীবিদের স্থর অনুযায়ী  প্রণোদনা ঘোষনা করা হয়েছে। সেদিক থেকে সাংবাদিকদের নাম কি কোথাও রয়েছে? উত্তর নেই।

বলা হয়েছে, সরকারী কর্মকর্তারা করোনা সংক্রমিত হয়ে কেউ ঘরে থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হলেও তিনি এই সহায়তা পাবেন। হাসপাতালে চিকিৎসার প্রয়োজন হলে বিনামূল্য চিকিৎসা পাবেন। সাংবাদিকরা কি এর আওতায় পড়বেন? মনে হয়না।

অথচ এই প্রণোদনা ও ঝুঁকি ভাতার খবর পৌঁছানোর জন্য সাংবাদিকরা কে কার উপর পড়ে সংবাদ করা নিয়ে ব্যাস্ত হয়ে পড়েন। এটা তাদের দায়িত্ব। আর এই সংকটাপন্ন মূহুর্তেও চাকরিচ্যুত হওয়াও মনে হয় দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।

প্রকৃত পক্ষে সাংবাদিকরা অতি নিরীহ। এদেরকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা সহ গালমন্দ করা যায় বিনা বাধায়। সে খুশি সেই ইচ্ছে করলেই গালি দিতে পারে সাংবাদিকদের। বর্তমান সময়ে অনেকেই সাংবাদিকদের ব্যাবহার করেন। ব্যাবহার হলেই কদর শেষ।

আজ দেশের এই করোনা মূহুর্তে সাংবাদিকরা যেমন অগ্রনী ভ’মিকা পালন করছেন হয়তো ভবিষ্যতেও এভাবেই পেশাগত দায়িত্ব পালন করবেন তারা। শত বাধাতেও থেমে থাকবেনা গণমাধ্যমকর্মীরা। তাই রাজনৈতিক দল, সরকারী কর্মকর্তা, আমলা সহ সকলের প্রতি অনুরোধ থাকবে সাংবাদিকদের সঠিক মূল্যায়ন করে তাদেরকে সহায়তা করুন।

লেখক: কলামিষ্ট ও সাংবাদিক।

প্রিন্ট করুন

বিভাগ: মিডিয়া