নির্বাচিত খবর

করোনায় পাইকগাছার কিন্ডার গার্টেন স্কুলের শিক্ষকদের মানবেতর জীবন-যাপন

ইমদাদুল হক,পাইকগাছা,খুলনা: মহামারী করোনার কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় মানবেতর জীবন-যাপন করছে পাইকগাছার প্রাথমিক পর্যায়ের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিন্ডার গার্টেন স্কুলের দুই শতাধিক শিক্ষক। গত ৬ মাস উপজেলার প্রায় ৩০টি প্রতিষ্ঠানের দুই শতাধিক শিক্ষক বেকার হয়ে পড়েছে।  ইতোমধ্যে সরকার করোনায় বিভিন্ন খাতে প্রনোদনার ব্যবস্থা করলেও কিন্ডার গার্টেন স্কুলের শিক্ষকদের জন্য বিশেষ কোন ব্যবস্থা না থাকায় চরম দূর্ভোগে রয়েছেন এ সব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা। অন্যান্য খাতের ন্যায় প্রাথমিক পর্যায়ের বেসরকারি এ সব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের জন্য সরকার বিশেষ সহায়তার ব্যবস্থা করবেন এমনটাই প্রত্যাশা করেছেন এলাকার শিক্ষক সমাজ।

 

সূত্রমতে, চলতি বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম মহামারী কোভিড-১৯ সনাক্ত হয়। এরপর সংক্রমন প্রতিরোধে সরকার লকডাউন ও সাধারণ ছুটি ঘোষণা করার পাশাপাশি দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেন।  ইতোমধ্যে সাধারণ ছুটি ও লকডাউন তুলে নিলেও বন্ধ রয়েছে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও যথারীতি বেতনভাতা পাচ্ছেন সরকারি, বেসরকারি (এমপিও) ভুক্ত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারীরা। এমনকি মহামারী করোনায় সরকার বিভিন্ন খাতে বিশেষ প্রনোদনার ব্যবস্থা রেখেছেন। যার অংশ হিসেবে শিক্ষা খাতে নন এমপিও শিক্ষকরাও সরকারের এই সুবিধা পেয়েছেন।

কিন্তু দূর্ভাগ্য অত্র এলাকার প্রাথমিক পর্যায়ের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিন্ডার গার্টেন স্কুলের শিক্ষকদের। তাদের জন্য নেই সরকারের বিশেষ কোন ব্যবস্থা। প্রতিষ্ঠান পরিচালনা থেকে শুরু করে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনভাতার একমাত্র উৎস্য হচ্ছে শিক্ষার্থীদের ওপর ধার্যকৃত বেতন।

গত ৬ মাস শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বন্ধ হয়ে গেছে কর্মরত শিক্ষকদের রুটি রোজগার। অথচ মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে কিন্ডার গার্টেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে  শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রদান করা হয় বিনামূল্যের পাঠ্যবই। এমনকি সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত হয় অত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সকল কার্যক্রম। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা বন্ধের মধ্যে বেতনভাতা পেলেও কিন্ডার গার্টেন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের জন্য নেই কোন বিশেষ ব্যবস্থা।

 

গত কয়েকমাস আগে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের মধ্যে মানবিক সহায়তা হিসেবে বেশকিছু প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের খাদ্য সামগ্রী প্রদান করা হয়। এরপর তারা কেমন আছে, কি করছে, পরিবার পরিজন নিয়ে কেমন চলছে তাদের সংসার এর খোঁজ কেউ নেয়নি। বর্তমানে পৌর এলাকার মধ্যে ১০টি সহ অত্র উপজেলায় প্রায় ৩০টি কিন্ডার গার্টেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত দুই শতাধিক শিক্ষক মানবেতর জীবন-যাপন করছে।

ইউনিভার্স্যাল এডাস স্কুলের প্রধান শিক্ষক প্রদীপ সরকার জানান, গত ৬ মাসেরও বেশি সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় আমার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ১২জন শিক্ষক ও ২জন কর্মচারী সবাই মানবেতর জীবন-যাপন করছে। না পারছি সাধারণ কোন কাজ করতে, না পারছি অন্যকোন পেশা বেছে নিতে। শিক্ষকদের রোজগারের সকল পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে সংসার চালানো এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। আমরা চাই আমাদের জন্য শিক্ষাবান্ধব মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনাকালীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকা পর্যন্ত বিশেষ সহায়তার ব্যবস্থা করবেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী জানান, কিন্ডার গার্টেন স্কুলের শিক্ষকদের জন্য সরকারের বিশেষ কোন প্রনোদনার ব্যবস্থা নাই। উপজেলা প্রশাসনেরও নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে মানবিক দিক বিবেচনা করে তাদের পক্ষ থেকে সঠিক তালিকা প্রদান সাপেক্ষে যদি আবেদন করা হয় তবে স্থানীয়ভাবে যতটা সম্ভব তাদেরকে সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে বলে স্থানীয় প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এ কর্মকর্তা আশ্বস্ত করেন।

প্রিন্ট করুন

বিভাগ: খুলনা,সারাদেশ