কান্নায় ভেঙে পড়লেন অরিত্রীর মা, ২ শিক্ষকের বিরুদ্ধে পরোয়ানা

0 56

রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রী অধিকারীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলার প্রতিষ্ঠানটির ২ শিক্ষক নাজনীন আক্তার ও জিনাত আরার জামিন বাতিল করে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। 

রবিবার (২৩ আগস্ট) সাক্ষ্যগ্রহণের নির্ধারিত দিনে আদালতে দুই আসামির অনুপস্থিতিতে ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ রবিউল আলম এ আদেশ দেন।

আলোচিত এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের দ্বিতীয় সাক্ষী হিসেবে এদিন আদালতে জবানবন্দ দেন অরিত্রীর মা বিউটি অধিকারী। অপরদিকে আসামিরা আদালতে উপস্থিত না থাকায় তাদের আইনজীবীও কোনও আবেদন করেননি।

এদিন সাক্ষ্য দিতে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন বিউটি অধিকারী। শিক্ষকদের ‘অন্যায় অপমানজনক আচরণ ও হুমকির কারণে’ কী রকম মানসিক যন্ত্রণা নিয়ে অরিত্রী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিল- আদালতের সামনে সেই বর্ণনা তুলে ধরেন তিনি।

মামলার দুই আসামির মধ্যে নাজনীন আক্তার ভিকারুননিসার প্রধান ক্যাম্পাসের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আর জিনাত আরা বেইলি রোডের ওই শাখার প্রভাতি শাখার প্রধান।

অরিত্রীর শ্রেণিশিক্ষক হাসনা হেনাও মামলাটিতে আসামি ছিলেন। তবে অভিযোগপত্রে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

গেল বছরের ২৫ নভেম্বর এ মামলার বাদী অরিত্রীর বাবা দিলীপ অধিকারীর জবানবন্দির মধ্য দিয়ে এ মামলার সাক্ষগ্রহণ শুরু হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. সালাহউদ্দিন হাওলাদার জানিয়েছেন, আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন আদালত।

২০১৮ সালের ২ ডিসেম্বর স্কুলে পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষকরা অরিত্রীর কাছে মোবাইল ফোন পান। মোবাইলে নকল করার অভিযোগে অরিত্রীর মা-বাবাকে নিয়ে স্কুলে যেতে বলা হয়। এরপর অরিত্রীর বাবা মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে স্কুলে গেলে ভাইস প্রিন্সিপাল তাদের অপমান করে কক্ষ থেকে বের করে দেন এবং মেয়েকে টিসি (স্কুল থেকে দেওয়া ছাড়পত্র) নিয়ে যেতে বলেন। পরে প্রিন্সিপালের কক্ষে গেলে তিনিও একই রকম আচরণ করেন।

এসময় অরিত্রী দ্রুত প্রিন্সিপালের কক্ষ থেকে বের হয়ে যায়। এরপর অরিত্রীর বাবা-মা বাসায় গিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় অরিত্রীর লাশ দেখতে পান।

তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হলে ৩ ডিসেম্বর চিকিৎসকরা অরিত্রীকে মৃত ঘোষণা করেন।

ওই ঘটনার পর ৪ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টন থানায় অরিত্রীর বাবা দিলীপ অধিকারী বাদী হয়ে দণ্ডবিধির ৩০৫ ধারায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ-শিক্ষকসহ ৩ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের একদিন পর ৫ ডিসেম্বর শ্রেণিশিক্ষক হাসনা হেনাকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করে পল্টন থানা পুলিশ। মামলাটি তদন্ত করে গত ২৮ মার্চ ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস ও শাখাপ্রধান জিনাত আখতারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। তবে শ্রেণিশিক্ষক হাসনা হেনাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

ওই ঘটনার সময় আন্দোলনে নেমে অরিত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনায় বিচার না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি দেয় ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা। পরে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের আশ্বাসের ভিত্তিতে কর্মসূচি প্রত্যাহার করে শিক্ষার্থীরা।

Leave A Reply

Your email address will not be published.