কারাগারে বসেই ধানের শীষের ১১ প্রার্থীর ভোট

0 246

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট: চলমান একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার পর বিএনপির জোটের প্রার্থীদের মামলা ও গ্রেফতার বেড়ে গেছে। তফসিল ঘোষণার পর থেকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের একাধিক প্রার্থীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সরকার বিরোধী পক্ষের এই জোটের ১১ প্রার্থী কারাগারে বন্দি থেকেই ভোটের মাঠে লড়ছেন।

কারাগারে থেকে ভোটে অংশ নিয়েছেন বিএনপি নেতা গাজীপুর-৫ আসনের প্রার্থী ফজলুল হক মিলন, টাঙ্গাইল ২-এর সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কুমিল্লা ১০-এর মনিরুল হক চৌধুরী, মাগুরা ১-এর মনোয়ার হোসেন খান, নরসিংদী ১-এর খায়রুল কবির খোকন, রাজশাহী ৬-এর আবু সাঈদ চাঁদ, চট্টগ্রাম-৯ আসনের ড. শাহদাত হোসেন, চট্টগ্রাম ১৫-এর বিএনপি সমর্থিত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আ ন ম শামসুল ইসলাম, খুলনা ৬-এর আবুল কালাম আজাদ, সাতক্ষীরা-৪ আসনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী জামায়াত নেতা গাজী নজরুল ইসলাম এবং কুষ্টিয়া-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা।

জানা গেছে, এসব প্রার্থীর কারামুক্তির জন্য এক বা একাধিক মামলায় জামিন নেয়া প্রয়োজন। তবে এর জন্য তাদের যে আইনি প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে, তা কোনোভাবেই ভোটের এই ১৩ দিনে সম্ভব নয়।

ফজলুল হক মিলন
গত ১৩ ডিসেম্বর গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার স্ত্রী শম্পা হকের দাবি- মিলনের বিরুদ্ধে ৩৩টি মামলার সবকটিতেই তার জামিন রয়েছে। তিনি গাজীপুর-৫ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী।

খায়রুল কবির খোকন
গত ২৯ নভেম্বর বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকনকে কারাগারে পাঠান নরসিংদীর জেলা ও দায়রা জজ আদালত। তিনি নরসিংদী-১ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী।

মনোয়ার হোসেন
গত ২৯ নভেম্বর মাগুরা-১ আসনের বিএনপি দলীয় প্রার্থী মনোয়ার হোসেন খান মাগুরা জেলা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন; কিন্তু বিচারক তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠান। তবে সেই আদেশের কপি এখন পর্যন্ত পাননি বলে জানায় মনোয়ার হোসেনের পরিবার। ফলে তার পক্ষে উচ্চ আদালতে জামিনের আবেদন করাও সম্ভব হচ্ছে না।

আবু সাঈদ চাঁদ
রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনে বিএনপির প্রার্থী ও চারঘাটের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সাঈদ চাঁদকে গত ১ সেপ্টেম্বর নিজ এলাকা চারঘাট থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গত ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সব মামলায় বিভিন্ন আদালত থেকে তার জামিন হলেও ৯ ডিসেম্বর নতুন এক গায়েবি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু
যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও টাঙ্গাইল-২ আসনের প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে নাশকতার ১৪ মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন গত ৯ ডিসেম্বর বাতিল করেছেন আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে তাকে নিম্ন আদালতে জামিন চাইতে বলা হয়। এর আগে হাইকোর্ট প্রায় ৬ মাস ধরে কারাগারে থাকা এই নেতাকে এক বছরের জামিন দিয়েছিলেন; কিন্তু বাতিল হয়ে যাওয়ায় নির্বাচনের আগে তার কারামুক্তির পথ আটকে গেছে। তার নামে ২০১২ থেকে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দায়ের করা মামলা ১৩৯টি।

মনিরুল হক চৌধুরী
২৪ অক্টোবর জামিন নিতে গেলে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও কুমিল্লা-১০ আসনে বিএনপির প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরীকে কারাগারে পাঠানো হয়। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হস্তক্ষেপে হাইকোর্টে ডিএজি তিনবার সময় নিলেও ৪ নভেম্বর তিনি জামিন পান। কিন্তু জামিনের কাগজপত্র কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় পৌঁছানোর পর পুরোনো দুইটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

আবুল কালাম আজাদ
বিএনপি সমর্থিত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও খুলনা মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা আবুল কালাম আজাদ গ্রেফতার হন গত ২৭ অক্টোবর। তার বিরুদ্ধে এক ডজনের বেশি মামলা রয়েছে। গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে পর্যায়ক্রমে আজাদকে ছয়টি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

শাহাদাত হোসেন
চট্টগ্রাম-৯ আসনের প্রার্থী নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনকে গত ৭ নভেম্বর ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ৪৫টি মামলা রয়েছে। গত ৬ ডিসেম্বরের পর আর ৬টি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

আ ন ম শামছুল ইসলাম
একাধিক নাশকতার মামলায় কারাগারে রয়েছেন চট্টগ্রাম-১৫ আসনের প্রার্থী জামায়াত নেতা আ ন ম শামছুল ইসলাম। গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি কারাগারে।

নজরুল ইসলাম
গত ১৬ ডিসেম্বর সাতক্ষীরা-৪ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী জামায়াত নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে গতকাল গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি তার বিরুদ্ধে নাশকতা সৃষ্টির একাধিক অভিযোগে মামলা রয়েছে। বুধবার (১৯ ডিসেম্বর) শ্যামনগর কোর্টের জিআরো হাফিজুর রহমান ৫৪ ধারায় আদালতে আপত্তি জনালে আদালত তা নামঞ্জুর করেন। ফলে গাজী নজরুল ইসলামের জামিনের আবেদন নাকচ হয়ে যায়।

রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা
কুষ্টিয়া-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা নাশকতার মামলায় স্থায়ী জামিন নিতে বুধবার (১৯ ডিসেম্বর) জেলা ও দায়রা জজ আদালতে যান। শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

বিডি সংবাদ টোয়েন্টিফোর ডটকম/

Leave A Reply

Your email address will not be published.

x