ক্ষতিপূরণের সঙ্গে বাড়ি পাচ্ছেন পায়রার ক্ষতিগ্রস্তরা

0 227

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না জানিয়ে নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, পায়রা বন্দর নির্মাণে ক্ষতিগ্রস্তদের নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়েছে এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

রবিবার (১৭ জানুয়ারি) পটুয়াখালীতে পায়রা বন্দরের পুনর্বাসিতদের জন্য নির্মিতব্য আবাসন এলাকা পরিদর্শনকালে এ তথ্য জানান নৌ প্রতিমন্ত্রী।

জানা যায়, পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দরের জন্য সাড়ে ছয় হাজার একর জমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত সাড়ে তিন হাজার পরিবারকে জমি, স্থাপনা, গাছপালা-ঘরবাড়ির তিনগুণ মূল্য পরিশোধ ছাড়াও দেয়া হচ্ছে আধুনিক বসতি। জমি অধিগ্রহণের ফলে যারা বসতি হারিয়েছেন (গৃহহীন), সেই ধরনের সাড়ে তিন হাজার পরিবারের জন্য আধুনিক বসতি নির্মাণ করে দিচ্ছে পায়রা সমুদ্র বন্দর কর্তৃপক্ষ। এর আগে জমি অধিগ্রহণে বসতি হারানো কোনও পরিবারকে বসতি নির্মাণ করে দেয়নি সরকার। তাই পায়রা বন্দরের জমি অধিগ্রহণে বসতি হারানো সাড়ে তিন হাজার পরিবারের জন্য নির্মাণাধীন আধুনিক বসতিকে (টাউনশিপ) ‘প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ পুরস্কার’ বলে অভিহিত করা হচ্ছে।

পরিদর্শনকালে নৌ প্রতিমন্ত্রী বলেন, পায়রা বন্দর নির্মাণে ভূমি অধিগ্রহণের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের পুনার্বাসনের লক্ষ্যে ৪৮৪ একর ভূমিতে ১৪টি প্যাকেজে মোট ৭টি কেন্দ্রে ক্ষতিগ্রস্ত সকল পরিবারকে পুনর্বাসনের জন্য প্রায় তিন হাজার ৪২৩টি বাড়ি নির্মাণাধীন রয়েছে। যার মধ্যে এ-টাইপ (৪ কাঠা জায়গার উপর ৯৭৮ বর্গফুটের ভবন) এক হাজার ১৬৫টি এবং বি-টাইপ (৩ কাঠা জায়গার উপর ৮৮৫ বর্গফুটের ভবন) দুই হাজার ২৫৮টি। ১৪টি প্যাকেজের মোট চুক্তি মূল্য ১০৪২ দশমিক ৫৪ কোটি টাকা। প্রতিটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে স্কুল কাম কমিউনিটি ক্লিনিক, মসজিদ, বিদ্যুৎ সংযোগ, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, ড্রেনেজ সিস্টেম, অভ্যন্তরীণ রাস্তা, পুকুর, মার্কেট, পরিবেশবান্ধব সামাজিক বনায়নসহ অন্যান্য সকল সুবিধাদি থাকবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিগগিরই এসব আবাসন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন।

পরিদর্শনকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমডোর হুমায়ুন কল্লোল, সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) কমান্ডার এম রাফিউল হাসান, সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর এম মামুনুর রশীদ, সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) কমডোর রাজীব ত্রিপুরা এবং প্রকল্প পরিচালক ক্যাপ্টেন মুনীর হোসেন।

পুনর্বাসন প্যাকেজসমূহের মধ্যে প্যাকেজ-১ এর কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এখানে মোট ১১৪টি বাড়ি রয়েছে, যার মধ্যে এ-টাইপবাড়ি ৩৬টি ও বি-টাইপবাড়ি ৭৮টি। প্রতিটি বাড়িতে রয়েছে তিনটি বেডরুম, দুইটি বাথরুম, একটি কিচেন এবং একটি বারান্দা, যার মধ্যে এটাচড বাথরুমসহ একটি মাস্টার বেডরুম আছে। এছাড়া প্রতি চারটি বাড়ির জন্য একটি সেপটিক ট্যাংক (উভয়টি ৫০ জন ব্যবহারকারীর ধারণক্ষমতা সম্পন্ন) রয়েছে এবং প্রতিটি বাড়িতে ওভারহেড ওয়াটার ট্যাংকের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করার ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়াও রাস্তা, স্কুল, মসজিদ, বিদ্যুৎ, খেলার মাঠ, পরিবেশবান্ধব সামাজিক বনায়ন ব্যবস্থাসহ অন্যান্য সুবিধাদি রয়েছে।

ভূমি অধিগ্রহণের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের পুনর্বাসিত করার পাশাপাশি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আওতায় ৪ হাজার ২০০ জনকে ২২টি ট্রেডে প্রশিক্ষণ প্রদানের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৬টি ট্রেডে ১০৪টি ব্যাচে মোট ২ হাজার ৬০০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। ট্রেডগুলো হলো- বেসিক কম্পিউটার, ওয়েলডিং, মেকানিক্যাল ওয়ার্কশপ/লেদমেশিন, মোবাইল সার্ভিসিং ও রিপেয়ারিং উল্লেখযোগ্য।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

x