গান থেকে দূরে, নামাজ ও কোরআন পড়েই সময় কাটান বেবী নাজনীন

0 103

দেশের প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন। সুরেলা কণ্ঠে তিনি উপহার দিয়েছেন অসংখ্য জনপ্রিয় গান। জায়গা করে নিয়েছেন শ্রোতাদের মনে। আজ ২৩ আগস্ট খ্যাতিমান এই সঙ্গীতশিল্পীর জন্মদিন।১৯৬৫ সালের ২৩ আগস্ট নীলফামারীর সৈয়দপুরে জন্মগ্রহণ করেন বেবী নাজনীন। ছোট বেলা থেকেই গানের চর্চা করেছেন। আর পেশাদার গায়কী জীবন ১৯৮০ সাল থেকে। সে বছর এহতেশাম পরিচালিত ‘লাগাম’ সিনেমায় গান গাওয়ার মাধ্যমে প্লেব্যাকে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

বাংলাদেশ বেতার, টেলিভিশন, চলচ্চিত্র, অডিও এবং কনসার্ট; সব মাধ্যমেই দাপটের সঙ্গে গান করে এসেছেন বেবী নাজনীন। তার প্রথম অ্যালবাম প্রকাশ হয়েছিল ১৯৮৭ সালে। মকসুদ জামিল মিন্টুর সঙ্গীত পরিচালনায় সে অ্যালবামের নাম ছিল ‘পত্রমিতা’। এই অ্যালবামের মাধ্যমেই বেবী নাজনীনের ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরে যায়।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা এই শিল্পী গণমাধ্যমকে জানালেন বিশেষ এই দিনটা কাটানোর পরিকল্পনার কথা। তিনি বললেন,
এবার জন্মদিন উদ্‌যাপনের কোনো ধরনের পরিকল্পনা নেই। প্রতিদিন খারাপ খবর দিয়েই সকাল শুরু হয়। বাংলাদেশ কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের অন্য শহর থেকেও কমবেশি দুঃসংবাদ পাচ্ছি সবসময়। ফোন বাজলেই মনে হয়, আবারও একই খবর কিনা? বদলে গেছে পৃথিবীর চেহারা। এমনটি হতে পারে, চিন্তা করিনি কোনো দিন। এমন পরিস্থিতিতে জন্মদিন পালন করা যায়?

প্রবাস জীবন কেমন কাটছে? এমন প্রশ্নের জবাবে ব্লাক ডায়মন্ড খ্যাত এই শিল্পী বলেন, নিউইয়র্কে পরিবারের সঙ্গে ভালোই সময় কাটছে। তবে মন পড়ে আছে দেশের জন্য। সবসময় দেশের খোঁজখবর রাখছি। মাঝেমধ্যে বাজার-সদাই করা ছাড়া ঘরের বাইরে যাওয়া হয় না। ছেলে মহারাজ অনলাইনে পড়াশোনা করে। আমার সময় কাটে নিউজ দেখে, এটা-সেটা রান্না করে, নামাজ-কোরআন শরিফ পড়ে। এসব করেই কাটছে বিগত কয়েক মাস।

বেবী নাজনীনের কণ্ঠে বহু গান শ্রোতাপ্রিয়তা পেয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- ‘ঐ রংধনু থেকে’, ‘কাল সারা রাত ছিলো স্বপনেরও রাত’, ‘এলো মেলো বাতাসে উড়িয়েছি শাড়ির আঁচল’, ‘দু চোখে ঘুম আসে না তোমাকে দেখার পরে’, ‘আমার ঘুম ভাঙ্গাইয়া গেলোরে মরার কোকিলে’, ‘মানুষ নিষ্পাপ পৃথিবিতে আসে’, ‘কই গেলা নিঠুর বন্ধুরে সারা বাংলা খুঁজি তোমারে’, ‘পূবালী বাতাসে’, ‘ও বন্ধু তুমি কই কই রে’ ইত্যাদি।

বাংলা সঙ্গীত জগতে বেবী নাজনীন ‘ব্লাক ডায়মন্ড’ ও ‘উত্তর বঙ্গের দোয়েল’ হিসেবে পরিচিত। অসামান্য শ্রোতাপ্রিয়তার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- ২০০৩ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ গায়িকার পুরস্কার।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

x