চট্টগ্রামের সাথে উত্তর-পূর্ব রাজ্যকে যুক্ত করার পরিকল্পনা ভারতের

0 296

বিডি সংবাদ টোয়েন্টিফোর ডটকম : বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দরের সাথে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো উন্নয়নের জন্য বড় ধরনের একটি পরিকল্পনা করেছে দেশটি। প্রতিবেশী এই রাষ্ট্রের পরিকল্পনা চট্টগ্রাম বন্দরের সাথে সংযোগ স্থাপন করা। সেখানে স্বল্প সংখ্যক চীনা বিনিয়োগেরও আহ্বান জানানো হতে পারে।

সম্প্রতি বিজেপির সাধারণ সম্পাদক রাম মাধব গিয়েছিলেন চীনা সফরে। মাধবের সফর সঙ্গী ছিলেন উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসাম, ত্রিপুরা ও নাগাল্যান্ডের সিনিয়র ক্যাবিনেট মন্ত্রীরা। সেই সফরে চীনের গুয়াঙঝু নগরীতে ভারতীয় ও চীনা ব্যবসায়ীদের একটি অালোচনা হয়। সেখানেই এই পরিকল্পনার কথা জানান ভারতের নেতারা।

এই পরিকল্পনা ও সফর নিয়ে ভারতের একাধিক মিডিয়া প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। মাধব ভারতীয় মিডিয়াকে বলেন, বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর উন্নয়নের লক্ষ্যে সড়ক পথে মুম্বাই বা চেন্নাই বন্দরে না নিয়ে রফতানি পণ্য জাহাজযোগে পরিবহনের লক্ষ্যে ভূবেষ্টিত অঞ্চলটিকে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দরের সাথে সরাসরি সংযুক্ত করার পরিকল্পনা করছে।

তিনি বলেন, উত্তর-পূর্ব অংশে আমাদের বিশেষ নজরে রয়েছে। আমরা চট্টগ্রাম বন্দরের সাথে ত্রিপুরাকে সংযুক্ত করছি। চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলো ভারত মহাসাগরীয় বাণিজ্যের সাথে সংযুক্ত হতে পারে।

তিনি বলেন, এখন মুম্বাই বা চেন্নাই থেকে উত্তর-পূর্বে মালামাল নেয়া হয় রেল ও সড়কপথে কলকাতা হয়ে গৌহাটিতে। চট্টগ্রাম বন্দরের সাথে সংযুক্ত করতে পারলে তা হবে দারুণ একটি কানেকটিভিটি।

মাধব বলেন, বঙ্গোপসাগরীয় উপকূলে চট্টগ্রাম হলো সবচেয়ে ব্যস্ত সমুদ্রবন্দর। উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলো পাঁচটি দেশের সাথে সংযুক্ত: বাংলাদেশ, ভুটান, নেপাল, মিয়াননমার ও তিব্বতের মাধ্যমে চীন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপাল (বিবিআইএন) উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে। উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোকে ব্যবহার করে চট্টগ্রামের মাধ্যমে ভারত মহাসাগরে যাওয়ার জন্য চীনকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা উত্তর-পূর্বকে চীনের সাথে সংযুক্ত করছি না। আমাদের ভিশন হলো, তারা স্বাভাবিক প্রতিবেশী। উত্তর-পূর্বের চীনের সাথে বিশাল সীমান্ত রয়েছে। দক্ষিণ পশ্চিম চীন ভারতের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলকে কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করে চট্টগ্রামের মাধ্যমে ভারত মহাসাগরে যেতে পারে। আমরা তা তেমন খতিয়ে দেখিনি। আমরা কেবল ভেবেছিলাম যে সিকিমের মাধ্যমে চীন কলকাতা হয়ে ভারত মহাসাগরে যেতে পারে। এখন দেখা যাচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরও দারুণ সম্ভাবনাময়।

তিনি বলেন, অরুনাচল প্রদেশে আমাদের বিপুল চ্যালেঞ্জ রয়েছ। চীন ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ, চীন, ভারত, মিয়ানমার (বিসিআইএম) প্রস্তাব করেছে। এটি হবে তাদের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের অংশবিশেষ।

বিআরআইয়ের লক্ষ্য হলো আসিয়ান, আফ্রিকা, চীন ও ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে কানেকটিভিটি বাড়ানা। বিআরআইয়ের মধ্যে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপিইসি) রয়েছে।

ব্রেকিংনিউজ/

Leave A Reply

Your email address will not be published.