চাপমুক্ত থাকার সহজ ৭ উপায়

0 21

লাইফস্টাইল ডেস্ক: কিছু বিষয় থাকে যা মানুষ চাইলেও মন থেকে সরিয়ে ফেলতে মুছে ফেলতে পারে না। সুখের হোক কিংবা দুঃখের- সেইসব স্মৃতিগুলো বারবার ফিরে ফিরে আসে। বারবার এগোতে গিয়েও পেছন ফিরে তাকাতে হয়। দেখে নিতে হয় পেছনের অতীতটাকে।

আবার কিছু ঘটনা মানুষের মনে তৈরি করে বাড়তি চাপ। মানুষ শত চেষ্টা করেও সেই চাপ থেকে মুক্ত হতে পারে না। কেউ কেউ আবার কোনও কারণ ছাড়াই কিংবা অল্পেতেই অতিরিক্ত চাপ অনুভব করেন। কিন্তু শরীর-স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য সমস্যা যতই থাকুক আপনাকে থাকতে হবে সদা হাসিখুশি ও চাপমুক্ত।

মানুষের জীবনটা আর কয়দিনের। এই ছোট্ট জীবনে চাওয়া-পাওয়াগুলোকে সীমিত করে সুখ আর শান্তি ঠিকানা খুঁজে নেয়াটাই উত্তম। আর সেজন্য মাথা থেকে সব দুঃশ্চিন্তা-দুর্ভাবনা দূরে ঠেলে ফুরফুরে থাকার অভ্যেস গড়ে তুলতে হবে।

জীবনে চাপমুক্ত থাকার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গবেষণা বলছে, আশাবাদী মানুষেরা হতাশাবাদীদের চেয়ে অনেক বেশি দিন বাঁচেন। কারণ আশাবাদীরা নিজেদের আবেগকে অনেক সহজে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। ফলে তাদের মানসিক চাপ থাকে কম।

সব হতাশা পেছনে ফেলে একজন আশাবাদী মানুষ হয়ে উঠে জীবনকে চাপমুক্ত রাখার কিছু কৌশল বাতলে দিয়েছেন গবেষকরা। এই প্রতিবেদন সেই টিপসগুলোই তুলে ধরা হলো।

নেতিবাচক চিন্তা করা যাবে না: যা আছে তা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকুন। চাওয়া-পাওয়াগুলো সীমিত করুন। নদীর ও-পারের ঘাষ একটু বেশিই সবুজ- এমন ভাবনা মাথা থেকে সরিয়ে ফেলুন। উদ্বেগ বা দুশ্চিন্তা কাটাতে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন। কখনোই নেগেটিভ কোনও কথাবার্তাকে কানে তুলবেন না।

হাসিখুশি থাকুন: মনে সুখ থাকলেও মন খুলে হাসতে পারে না অনেকেই। কিন্তু মন খুলে যারা হাসতে জানে তাদের মানসিক চাপ অন্যদের চেয়ে একটু কমই থাকে। এজন্য আমি হাস্যরসাত্মক বাক্যালাপ কিংবা নাটক সিনেমা দেখতে পারেন। যেগুলো আপনার হাসির খোরাক যোগাবে।

আত্মপ্রশংসা: নিজের ওপর আস্থা রাখুন। আপনি চারপাশের লোকদের চেয়ে কম যোগ্য নন। আপনার মেধা, যোগ্যতা ও দক্ষতার ওপর আত্মবিশ্বাস রাখুন। নিজেকে নিজে প্রশংসা করতে শিখুন।

অস্থিরতাকে ‘না’ বলুন: কোনও বিষয়ে যদি বিপদের মুখোমুখি হন কিংবা যদি কোনও কারণে কষ্ট পেয়ে থাকেন তারপরও অস্থির হওয়া যাবে না। মনে রাখতে হবে, যা হয়েছে তা হয়েছে। সংস্কৃতে একটি কথা আছে- ‘গতস্য শোচনা নাস্তি’। যার বাংলা দাঁড়ায়-  যা গত হয়েছে তা নিয়ে অনুশোচনা করা যাবে না।

শখগুলোকে গুরুত্ব: প্রত্যেকেরই কিছু শখের বিষয় থাকে। আপনারও নিশ্চয়ই আছে। আপনি সব সময় আপনার শখের বিষয়গুলোকে ‍গুরুত্ব দিন। শখগুলোকে গুরুত্ব দিলে মনে স্বস্তি আসে। মানুষ থাকে চাপমুক্ত।

প্রতিদিন ব্যায়াম করুন: প্রতিদিন নিয়ম মেনে ব্যায়াম করতে পারলে দিনের বাকিটা সময় আপনি থাকবেন ঝরঝরে। তখন নিজেকে অনেক চাপমুক্ত মনে হবে। বন্ধুত্ব আর হাসির মতোই উপকারী আরেকটি বিষয় রয়েছে ইতিবাচক থাকার। আর তা হল শারীরিক ব্যায়াম। যার আপনার শরীর-স্বাস্থ্যকেও ভালো রাখবে।

কৃতজ্ঞতাবোধ: অপনের কৃত কর্মের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে শিখুন। কেউ একজন আপনার উপকার করলো তার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকুন। তাকে আপন করে নিতে শিখুন। তখন দেখবেন অপরিচিত মানুষটিও আপনার সবচেয়ে কাছের মানুষ হয়ে উঠবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.