‘জনগণের পিঠ দেয়ালে ঠেকেনি, জনগণ চলছে সম্মুখ পানে’

20
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ছবি : সংগৃহীত

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘জনগণের পিঠ দেয়ালে ঠেকেনি, দেশের জনগণ এগিয়ে চলছে সম্মুখ পানে। দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে বিএনপির।’

সচিবালয়ে আজ মঙ্গলবার সকালে নিজ দপ্তরে ব্রিফিংকালে এ কথা বলেন সেতুমন্ত্রী।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপির নেতাদের বক্তব্য শুনলে মনে হয় দেশ যেন যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, কিংবা দুর্ভিক্ষ চলছে এবং জনগণের পিঠ নাকি দেয়ালে ঠেকে গেছে। আসলে এসব নেতিবাচক বক্তব্য একটি দায়িত্বহীন রাজনৈতিক দলে হতাশার বহিঃপ্রকাশ ছাড়া আর কিছু নয়।’

এ ছাড়া পরিবহণের মালিক-শ্রমিক নেতৃবৃন্দকে পুনঃনির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি ভাড়া আদায় এবং যাত্রীভোগান্তি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তা না হলে দায়ী পরিবহণের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরিবহণ মালিক সমিতি ও শ্রমিক ফেডারেশনের নেতারা পুনঃনির্ধারিত হারে ভাড়া আদায়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলেও গতকাল সোমবার বিভিন্ন পরিবহণে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ডিজেল ও কেরোসিনের দাম বাড়ায় সরকার ডিজেলচালিত যাত্রীবাহী পরিবহণের ভাড়া পুনঃনির্ধারণ করেছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে আজ থেকে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে বিআরটিএ’র ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে। এরই মধ্যে দেশব্যাপী অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য মাঠ পর্যায়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, হাইওয়ে পুলিশ, জেলা পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান সড়ক পরিবহণমন্ত্রী।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কিছু কিছু গণমাধ্যম দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলেও দু-একটি গণমাধ্যম বিরূপ ও অপমানজনক সমালোচনা করছে, যা প্রত্যাশিত নয়। কেউ কেউ পাতানো খেলা বলছে, অনেকেই আঁতাতের গন্ধও খুঁজে পেয়েছেন। যাত্রী কল্যাণ সমিতি নামে একটি ভূঁয়া সংগঠনও বিষয়টি না জেনে, না বুঝে যা নয় তা সমালোচনা করছে। তাহলে পরিবহণ ধর্মঘট অব্যাহত থাকলে সেটা কি জনগণের জন্য কল্যাণকর হতো?’

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘বিএনপির আমলে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ছিল নৈমিত্তিক ঘটনা। সেটা বিএনপি ভুলে গেলেও জনগণ ভোলেনি। বিএনপির পাঁচ বছরে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছিল আট বার। তারা দাম কমাতে পারেনি। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কম থাকলেও দেশে তারা দাম বাড়িয়েছিল। আর আওয়ামী লীগ গত ১৩ বছরে পাঁচ বার দাম বাড়ালেও পাঁচ বার দাম কমিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার সাত দিনের মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম কমিয়েছিলেন।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, ‘বিএনপির অন্ধ বিষোদগার আর মিথ্যাচারের রাজনীতি তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যতকে করেছে চরম অনিশ্চিত ও বর্তমানকে করেছে ধোঁয়াশাচ্ছন্ন। এজন্যই বিএনপি আজ হতাশার সাগরে নিমজ্জিত বলে খড়-কুটো ধরে বাঁচার নিষ্ফল চেষ্টা করছে।’

ব্রিফিংয়ের আগে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) বাংলাদেশের নতুন কান্ট্রি ডিরেক্টর এডিমন গিন্টিং এবং বিদায়ী কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশের নেতৃত্বে এডিবির একটি প্রতিনিধি দল সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অফিস কক্ষে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে এডিবির সহায়তায় যেসব প্রকল্পের কাজ চলমান সেগুলোর অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়।

x