জাপানি ‘গেটো’ আয়ু বাড়ায়

0 519

স্বাস্থ্য অনলাইন ডেস্ক :  ইংরেজিতে এটার নাম শেল জিনজার। জাপানিরা এটাকে গেটো নামে চিনে। বৈজ্ঞানিক নাম আলপিনিয়া জেরুমবেট। বাংলাদেশসহ পূর্ব এশিয়ার এ গাছটি আদা গোত্রীয়। তবে বাঁচে অনেক দিন।

লম্বায় এ গাছ আট থেকে ১০ ফুট হতে পারে। বেশ উজ্জ্বল রঙের ও ফানেল আকৃতির ফুল ধরে। এটা মূলত আলঙ্কারিক গাছ। গাছের পাতা রান্নায় ব্যবহত হয়। ভেষজ ওষুধেও এটা লাগে। এটা মাঝে-মধ্যে পিঙ্ক পোর্সেলিন লিলি, ভেরিগেটেড জিনজার, শেল ফ্লাওয়ার, লাইট গেলাঙগেল ও বাটারফ্লাই জিনজার নামেও পরিচিত। চিরসবুজ ও গ্রীস্মম-লীয় এ উদ্ভিদে থাকে আনুভূমিক কাণ্ড।

জাপানে এটা গেটো নামে পরিচিত। তবে দেশটির ওকিনাওয়া দ্বীপে এটার নাম সেনিন। চীনারা এটাকে বলে ইয়ান শানজিয়াঙ বা ইউটাও।

চীনের কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী খাবার এখনও এ গোছের পাতা দিয়ে মোড়ানো হয়। জাপানিরাও এক ধরনের রাইস কেক এর পাতা দিয়ে মুড়িয়ে পরিবেশন করে। এ গাছের পাতা জাপানে হারবাল টী হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এমনটি নুডলসের ঘ্রাণ বাড়াতে গেটোর পাতা ছেড়ে দেয়া হয়।

জাপানের এক বিজ্ঞানী ২০ বছর গবেষণার পর দাবি করেছেন, মানুষকে দীর্ঘায়ু করার মহৌষধের সন্ধান তিনি পেয়ে গেছেন। এটির নাম গেটো বা শেল জিনজার। জাপানের ওকিনাওয়া অঞ্চলের মানুষ এক সময় খাদ্য তালিকায় কোনো না কোনোভাবে এই গাছটা রাখতো। জাপানিদের কাছে সেই থেকেই গাছটির নাম ‘গেটো’।

শিনকিচি তাওয়াদা দীর্ঘ ২০ বছর ধরে গবেষণা করছেন এই গেটো নিয়ে। ইউনিভার্সিটি অফ রাইউকিয়ুসের কৃষিবিজ্ঞানের এই অধ্যাপক মনে করেন, গেটো সবাই খুব খেতো বলে টানা কয়েক দশক ওকিনাওয়া অঞ্চলের মানুষ বিশ্বের যে-কোনো এলাকার মানুষের চেয়ে বেশি দিন বাঁচতো।

জাপানে এখন মেয়েদের গড় আয়ু যদিও ৮৭ বছর পর্যন্ত নেমেছে, কিন্তু পুরুষের গড় আয়ু ৭৯.৪ বছরে নেমে গেছে। মেয়েদের গড় আয়ু জাপানের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় এখনো খারাপ না হলেও পুরুষদের আয়ু সবচেয়ে খারাপের তালিকায়। শিনকিচি তাওয়াদা মনে করেন, আগের মতো খাদ্য তালিকায় ‘গেটো’কে ঠাঁই দিলে সবার আয়ু আবার বাড়বে।

রীতিমতো পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন শিনকিচি তাওয়াদা। বেশ কিছু পোকামাকড়কে গেটো খাইয়ে দেখেছেন পোকাগুলো স্বাভাবিক আয়ুর শতকরা ২২.৬ ভাগ বেশি বাঁচে। তার ভাষায়, ‘পোকামাকড়ের জীবনকাল প্রায় এক চতুর্থাংশ বাড়লে মানুষের বাড়বে না কেন’? না বাড়ার কোনো কারণই দেখছেন না শিনকিচি তাওয়াদা।

হালে জাপানে গেটোর কদর আবার বাড়তে শুরু করেছে। প্রসাধন সামগ্রী তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে গেটো। সেই প্রসাধনী ব্যবহারের সুবাদে অনেকের বয়সের বলিরেখা ঢাকা পড়ছে, বুড়োবুড়কেও লাগছে অনেক তরুণ। এই টুকুতে খুশি নন শিনকিচি তাওয়াদা। তার প্রত্যাশা এই গেটো এক সময় সারাবিশ্বে রফতানি করা হবে। গেটো খেয়ে দীর্ঘায়ু লাভ করবে বিশ্বের অনেক মানুষ।

ব্রেকিংনিউজ/

Leave A Reply

Your email address will not be published.

x