জালিয়াতি প্রতিরোধ করতেই ইভিএম: সিইসি

0 205

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট: প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা বলেছেন, ‘ভোট প্রদানে স্বচ্ছতা, জালিয়াতি প্রতিরোধ, ভোটডাকাতি ব্যালট ছিনতাই বন্ধ করতে ইভিএম পদ্ধতি। ভোটারদের স্বার্থ রক্ষার জন্য নির্বাচন কমিশন ইভিএম পদ্ধতি চালু করেছে।’

শনিবার (২৭ অক্টোবর) মহানগরীর শিববাড়ি মোড়ের পাবলিক হল চত্বরে ইভিএম মেলা উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন,  ‘ভোট গ্রহণ পদ্ধতিতে ব্যালট পেপার ব্যবহারেও অনিয়ম হয়ে থাকে। ভোটের সময়ে অনিয়মের কোনো প্রমাণ পেলে নির্বাচন কমিশন সেই কেন্দ্রে ভোট বাতিল করেন। বিগত মে মাসে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তিনটি কেন্দ্রে অনিয়ম হয়েছিল। নির্বাচন কমিশন সেটি বাতিল করে পুনরায় ভোটগ্রহণ করেছে। সেক্ষেত্রে ইভিএম পদ্ধতিতেও কিছু ত্রুটি হতে পারে। নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে চায়।’

সিইসি বলেন  ‘নির্বাচনের সময়ে আইনশৃঙ্লাবাহিনীর পিছনে নির্বাচনী ব্যয়ের একটি বড় অংশ ব্যয় হয়ে থাকে। ইভিএম পদ্ধতি চালু হলে সেটা কমবে। রাত জেগে পুলিশ, বিডিআর, আনসার ও র‌্যাব বাহিনীর ভোট কেন্দ্র ও ব্যালট বাক্স পাহারা দেয়া লাগবে না।’

ইভিএম বিরোধীতাকারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আপনারা এতে ভোটদানের পদ্ধতি দেখুন, বুঝুন তারপর বিরোধীতা করুন।’
প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আসন্ন একাদশ জাতীয় নির্বাচনে আইনের ভিত্তিতে সবার মতামত নিয়ে সীমিত আকারে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। এটি জোর করে চাপিয়ে দেয়া হবে না।’ তিনি বলেন, ইতোমধ্যে কয়েকটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে পাইলট আকারে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট নেয়া হয়েছে, যা দক্ষতার সাথে সফল হয়েছে। এই পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ করলে নির্বাচনী ব্যয় ও জনবল কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। যারা ইভিএম’র বিরোধিতা করেন তাদের তিনি ইভিএম পদ্ধতি দেখে বুঝে পরামর্শ দেয়ার আহ্বান জানান।

খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন, খুলনা বিভাগীয় নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ইউনুচ আলী। ইভিএম সম্পর্কে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে দর্শকদের মাঝে তুলে ধরেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র মেইন্টেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন। এ সময়ে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. লোকমান হোসেন মিয়া, খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি মো. দিদার আহমেদ, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. হুমায়ুন কবীর, পুলিশ সুপার এস এম শফিউল্লাহ।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ইভিএম প্রদর্শনী স্টল ঘুরে দেখেন। ইভিএম প্রদর্শনীতে নগরীর ২টি ওয়ার্ডের চারটি এলাকার ৭ হাজার ৩৯ জন ভোটার ইভিএমে ভোট দিতে পারবেন। উদ্বোধনের পর থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত নির্বাচনী পরিবেশে ইভিএমে ভোটগ্রহণ করা হয়। ভোট গ্রহণের জন্য ১৪টি কক্ষ ও ১৫ সেট ইভিএম মেশিন রয়েছে।

বিডি সংবাদ টোয়েন্টিফোর ডটকম/

Leave A Reply

Your email address will not be published.