ঝিনাইদহে সবজির মৌসুমেও সবজিতে আগুন

0 2,765

mail-google-comজাহিদুর রহমান তারিক, ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহের বাজারগুলোতে বিভিন্ন ধরনের সবজি আসলেও দামে দ্বিগুণ হারে বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতারা হতাশ হয়ে পড়েছে। হঠাৎ করে সবজির দাম বাড়ায় কাঁচাবাজারে ক্রেতাদের মাঝে কৌতুহলের সৃষ্টি হয়েছে।
ঝিনাইদহের ছয় থানার বিভিন্ন হাটবাজারগুলো সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, আগাম সবজির দাম যেন একেবারে আকাশ ছোঁয়া। ঝিনাইদহ জেলা সদরের সবজি বাজার গুলোতেও আগুন, অনেকেই আবার প্রয়োজনের তাগিতে বাধ্য হয়ে বেশি দরেই সবজি কিনছেন।
এ সময়ে বাজারের দাম বাড়া সবজিগুলো হচ্ছে-সিম ৭০ টাকা, মেটে আলু ৮০ টাকা কেজি, কচু ৪০ টাকা কেজি , টমেটো ১০০ টাকা কেজি, বরবটি ৮০ টাকা কেজি, ফুলকপি ৪০ টাকা কেজি, পাতা কপি ৪০ টাকা কেজি, মরিচ ৮০ টাকা কেজি, করলা ৬০ টাকা, পিয়াজ ৪০ টাকা, রসুন ১৭০ টাকা, আদা ১০০ টাকা, পটল ৪০ টাকা, আলু ৩০ টাকা, বেগুন ৫০ থেকে ৬০ টাকা, মুলা ৩০ টাকা কেজি, পালোং ও সবুজ শাখ ৮ টাকা আটি।
এদিকে সাধের লাউ প্রতিটি ৩০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত হিসাবে বিক্রি হয়। এ ছাড়াও লাল শাক, মুলা শাক, পাট শাক, পালোং শাক, লাউ শাক দ্বিগুন হারে বিক্রি হচ্ছে। আবার ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ওয়াবদার বাজার, সদরের হাট, নগরবাথান বাজার, হলিধানীবাজার, হাটগোপালপুর, বাজার গোপালপুর,  ডাকবাংলা বাজার, আঠার মাইল বাজার এলাকাগুলো সবজিগ্রাম হিসেবে পরিচিত। এসব বাজারে সবুজ সবজি আসলেও দামে আগুন, আকাশছোয়া দামে ক্রেতাদের হাতের নাগালের বাইরে থাকায় হতাশা দেখা দিয়েছে ঝিনাইদহ সদরবাসীদের।
ঝিনাইদহের জেলা সদরের ওয়াবদা বাজারের বাজার করতে আসা ক্রেতাদের মধ্যে কথা হয় হাফিজ মোল্লার সাথে। তিনি সাংবাদিককে বলেন, বাজারে এতো সবজি, তারপরেও দ্বিগুণ দাম। বাধ্য হয়েই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে কাঁচাবাজারের এই সবজি। হাফিজ মোল্লার সাথে যোগ দেন ভ্যানচালক আজগার আলী। তিনি বলেন, ভাই সারাদিন ভ্যান চালিয়ে যা রোজগার হচ্ছে তার বেশির ভাগই চলে যাচ্ছে এই কাঁচাবাজারে।
এসময় কিছু সবজি বিক্রেতা ও কয়েক জন সবজি ব্যবসায়ীর সাথে কথা হলে তারা বলেন, ভাই কী বলবো, বেশি দামে কিনতে হচ্ছে ক্ষেত চাষীদের কাছ হতে। তাই বেশি দাম দিয়ে কিনে লাভ তো করতে হবে। কেজি প্রতি ৫ টাকা করে লাভ করে থাকি।
এদিকে বাজার নিয়ন্ত্রন না থাকায় ব্যবসায়ীরা দ্বিগুন হারে বিভিন্ন সবজিতে লাভ করছে বলে ক্রেতাদের অভিযোগ উঠেছে। এ দিকে সবজি ব্যবসায়ীরা নিজের ইচ্ছা মত দাম বাড়ার কারনে প্রতিটি হাটবাজারে সবজির বাজার নিয়ন্ত্রন কমিটি গঠনের দাবি জানান ক্রেতারা।

ঝিনাইদহে লাখে ১০ হাজার টাকা ঘুষের বিনিময়ে জমি অধিগ্রহন-কে এই চুটলিয়ার নান্টু দালাল ?
জাহিদুর রহমান তারিক, ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কুফাডাঙ্গা মৌজায় গ্রীড স্টেশনের জন্য জমি অধিগ্রহনে লাখে ১০ হাজার টাকা ঘুষ প্রদানে উদ্বুদ্ধ করেছিলো একরামুল হক নান্টু নামে এক ব্যক্তি। তিনি চুটিলিয়া গ্রামের মৃত সদর উদ্দীনের ছেলে। তার মাধ্যমেই এলাকার কৃষকরা অফিসে ঘুষ প্রদান করেন বলে অভিযোগ। ঘুষের টাকা কোন কৃষক দিতে রাজি না হলে নান্টু তাদেরকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করতো।
কৃষকদের অভিযোগ নান্টুর মাধ্যমে টাকা প্রদানের কথা স্বীকার করার পর অধিগ্রহনের জন্য শুনানী করা হতো। এখন প্রশ্ন উঠেছে কে এই নান্টু ? কৃষকদের জমির টাকা কেন তিনি মাধ্যম হয়ে অফিসে দিয়েছেন ? কি তার স্বর্থ ? বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। তারা নান্টু দালালের বিচার দাবী করেছেন।
চুটলিয়া গ্রামের কৃষক ওহিদুল ইসলাম মন্ডল অভিযোগ করেন, নান্টুর কথা মতো তারা অফিসে ঘুষ দিয়েছেন। ঘুষের টাকা প্রতিবেশি আব্দুলের কাছ থেকে ধার নিয়েছেন এমন কথাও স্বীকার করেছেন ওহিদুল। যদিও তিনি জেলা প্রশাসনের অফিসে এ নিয়ে আয়োজিত শুনানীতে বিষয়টি অস্বীকার করেন।
তবে একটি মানবাধিকার বিষয়ক তদন্ত দলের কাছে ভিডিও ফুটেজ আছে। সেখানে চুটলিয়ার ওহিদুল ও কুলফাডাঙ্গার খুদিরাম এবং মতিয়ার রহমান তাদের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহনের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। কৃষকদের অভিযোগ চুটলিয়ার একরামুল হক নান্টু দালাল সেজে তাদেরকে ক্ষতি করেছেন। রাস্তার পাশে তাদের লাখ টাকা শতক দেওয়ার কথা বলে প্রলোভন দেখিয়েছেন।
এছাড়া জমিতে কচু ক্ষেত না থাকলেও জালিয়াতির মাধ্যমে নিচু জমিতে কচু ক্ষেত দেখিয়ে সরকারী টাকা নয়ছয় করা হয়েছে। কুলফোডাঙ্গা গ্রামের কৃষক কাশিনাথ বিশ্বাস বলেন, তিনি ও তার ভাই কনক চন্দ্রের কাছ থেকে ২৬ শতক জমি অধিগ্রহন করা হয়েছে। তিনি জানান, টাকা তুলতে অফিসে নান্টু দালালের মাধ্যমে কিছু টাকা দিলেও আমি তা বলতে চাচ্ছি না। কারণ আমার কাছে ঘুষের টাকা লেনদেনের কোন প্রমান নেই। তাছাড়া আমি হিন্দু মানুষ। কোন ঝামেলায় জড়াতে চায় না।
কাশিনাথ জানান, আমার কোন নগদ টাকা ছিল না। আমি নান্টুর কাছ থেকে সুদে টাকা নিয়ে ঘুষ দিয়েছি। বিষয়টি নিয়ে একরামুল হক নান্টু জানান, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্য নয়। যারা ঘুষের টাকা অফিসে দিতে পারছিলো না, তাদের আমি টাকা হাওলাদ দিয়ে সহায়তা করেছি। আমি টাকা সুদে দিয়েছি, সুদ আর আসল তো নেবই। তিনি পাল্টা অভিযোগ করেন, আমি নয়, অধিগ্রহন অফিসের কানুনগো সিরাজুল ইসলাম কৃষকদের কাছ থেকে এক লাখে ১০ হাজার টাকা নিয়েছে।
উল্লেখ্য এ নিয়ে সরকারের দুদকসহ বিভিন্ন দপ্তরে নামে-বেনামে অভিযোগ করা হয়েছে। ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক ও প্রেসক্লাবেও লিখিত অভিযোগের কপি দেওয়া হয়েছে। ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক দপ্তরে ঘুষ গ্রহনের বিষয়ে একটি তদন্তও হয়েছে। কৃষকদের মধ্যে কেও কেও তাদের কাছ থেকে টাকা নেবার বিষয়টি লিখিত আকারে জানিয়েছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.