ডায়াবেটিস কী, কেন হয়, কীভাবে মুক্ত থাকবেন

0 170

স্বাস্থ্য ডেস্ক : বিশ্বজুড়ে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা বাড়ছেই। বাংলাদেশেও প্রতিদিনই এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। খ্যাদ্যাভ্যাস, জীবনযাপনে লাগামহীন অবস্থাই অনেক সময় এ রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ডায়াবেটিস একটি হরমোন সংশ্লিষ্ট রোগ। দেহযন্ত্র অগ্ন্যাশয় যদি যথেষ্ট ইনসুলিন তৈরি করতে না পারে অথবা শরীর যদি উৎপন্ন ইনসুলিন ব্যবহারে ব্যর্থ হয়, তাহলে যে রোগ হয় তা হলো ‘ডায়াবেটিস’ বা ‘বহুমূত্র রোগ’। তখন রক্তে চিনি বা শকর্রার উপস্থিতিজনিত অসামঞ্জস্য দেখা দেয়।

ইনসুলিনের ঘাটতিই হল এ রোগের মূল কথা। অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত হরমোন ইনসুলিন, যার সহায়তায় দেহের কোষগুলো রক্ত থেকে গ্লুকোজকে নিতে সমর্থ হয় এবং একে শক্তির জন্য ব্যবহার করতে পারে। ইনসুলিন উৎপাদন বা ইনসুলিনের কাজ করার ক্ষমতা-এর যেকোনো একটি বা দুটোই যদি না হয়, তাহলে রক্তে বাড়তে থাকে গ্লুকোজ। আর একে নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে ঘটে নানা রকম জটিলতা, দেহের টিস্যু ও যন্ত্র বিকল হতে থাকে।

ডায়াবেটিসের সুনির্দিষ্ট কোনও চিকিৎসা নেই। তবে এই নিয়ন্ত্রণ রাখতে হয় প্রতিদিনের জীবনযাপনের দ্বারা। চলুন পাঠক জেনে নিই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার সহজ কিছু টিপস:

১. শরীরের প্রতি নজর বাড়ান: প্রতিদিন গোসলের পর মাথা থেকে পায়ের আঙ্গুলের নখ পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করুন। খেয়াল করুন কোথাও কোন কাটা ঘা, ক্ষত চিহ্ন বা ফুসকুড়ি ইত্যাদি আছে কিনা। সাধারণত শরীরের যেসব স্থান আদ্র থাকতে পারে জীবাণু ওসব স্থানেই বাসা বাঁধতে পারে। তাই এসব জায়গা ভালো করে খেয়াল করুন।
২. খালি পায়ে হাঁটবেন না: ঘরে কিংবা ঘরের বাইরে যেখানেই হাঁটুন পায়ে অবশ্যই জুতো থাকতে হবে। খালি পায়ে হাঁটা যাবে না।
৩. সঙ্গে খাবার রাখুন: আমরা কাজের ব্যস্ততায় অনেক সময়ই খাবার কথা ভুলে যাই কিংবা সময় করে উঠতে পারি না। কিন্তু ডায়াবেটিস রোগীদের তা করলে চলবে না। তাই সবসময় সাথে মিষ্টি জাতীয় কিছু খাবার রাখা প্রয়োজন।
৪. রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা মাপুন: নিয়মিত রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা মেপে দেখুন। এতে নিজেই নিজের অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারবেন।
৫. ব্লাড সুগার মাপা: প্রতিদিন ব্যায়াম করার আগে ও পরে আপনি আপনার ব্লাগ সুগারটা মেপে নিন। যারা নিয়মিত জিমে বা বাসায় ব্যায়াম করে থাকেন তাদের জন্য এটা খুব জরুরি। ব্যায়াম করলে ব্লাড গ্লুকোজ কতটুকু কমে তা এ থেকে বোঝা যাবে। খুব বেশি ব্যায়ামের কারনে হাইপোগ্লাইসেমিয়া হতে পারে। সতর্ক থাকুন।
৬. ইনসুলিন নির্বাচন: ডায়াবেটিস হলে রোগীকে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে গিয়ে জীবনযাপনের ধরন জানাতে হবে। রোগী যদি খুব ব্যস্ততায় থাকেন কিংবা নিয়ম করে খাবার খেতে না পারেন তবে সে অনুযায়ী ইনসুলিন নিতে হবে।
৭. খাদ্যাভ্যাস: ডায়াবেটিস রোগীদের গ্লুকোজের পরিমাণ কম এমন খাবার খাওয়া উচিৎ। এর মধ্যে মটরশুঁটি, সবুজ শাকসবজি, লেবুজাতীয় ফল, মিষ্টি আলু, টমেটো, বাদাম, টক দই খেতে পারেন।
৮. পর্যাপ্ত পানি পান: অনেকেই পানি পানের প্রতি আগ্রহী নয়। ভালো ভালো খাবার খেয়েছেন, কিন্তু পানি পান করতে অনীহা। এই অনীহা ভাব ত্যাগ করতে হবে। বেশি মাত্রায় ব্লাড সুগার শরীরে পানির চাহিদা বাড়িয়ে দেয়। এতে করে ত্বকে শুষ্কাতা দেখা দেয়। তাই নিয়মিত প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন।
৯. ব্যায়াম: প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট হালকা ব্যায়াম করতে হবে। যারা একসঙ্গে সময় করে উঠতে পারেন না তারা তিনবারে ১০ মিনিট করে ৩০ মিনিট ব্যায়াম করুন।
১০. প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম বা ফার্স্ট এইড বক্স রাখুন বাসায়: ডায়াবেটিসের কারণে সামান্য আঘাতও অনেকসময় বড় হয়ে দেখা দেয়। তাই সবসময় হাতের কাছে প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম বা ফার্স্ট এইড বক্স প্রস্তুত রাখতে হবে। বক্সে অবশ্যই ক্ষত পরিষ্কার করার জন্য হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড থাকতে হবে। এছাড়া থাকতে হবে অ্যান্টিবায়োটিক ক্রিম ও পরিষ্কার জীবাণুমুক্ত গজ কাপড়।

ব্রেকিংনিউজ/

Leave A Reply

Your email address will not be published.