তানোরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মানসম্মত চিকিৎসা থেকে বিব্রত হচ্ছেন সাধারণ রোগীরা

0 40

সাইদ সাজু, তানোর প্রতিনিধি :  তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের চিকিৎসায় পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখা হয়েছে। চালু করা হয়েছে করোনা উপসর্গ রোগীদের জন্য আলাদা ইউনিট। আছে ২৪ ঘণ্টার হটলাইন। ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি কমিউনিটি ক্লিনিক। তানোরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মানসম্মত চিকিৎসা থেকে বি ত হচ্ছেন সাধারণ রোগীরা। 

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন পরে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোসহ ভবন নির্মাণ করে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় এ হাসপাতালটি উন্নীত কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। কিন্তু জনবল কাঠামো এখনো ৩১ শয্যার রয়ে গেছে। বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টিএইচওসহ চিকিৎসা কর্মকর্তার পদ আছে ২৯টি। কিন্তু কর্মরত আছেন মাত্র ১৫ জন। ১৪ জন চিকিৎসকের পদ শূন্য রয়েছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর ৮৮টি পদের মধ্যে শুন্য রয়েছে ১৭টি পদ। নিরাপত্তা প্রহরী, বাবুর্চিসহ চতুর্থ শ্রেণির ২৮টি পদের মধ্যে ১৫টি পদ শুন্য রয়েছে দীর্ঘদিন  থেকে।

দীর্ঘ প্রায় এক যুগ ধরে এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জেনারেটরটি বন্ধ হয়ে পড়ে আছে। দুইটি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে একটি অ্যাম্বুলেন্স অকেজো হয়ে গ্যারেজে পড়ে আছে। একটি অ্যাম্বুলেন্স সচল থাকলেও ড্রাইভারের পদটি শুন্য রয়েছে। ফলে করোনার নমুনা রামেক (রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল) পরীক্ষাগারে পৌঁছানো হচ্ছে ভাড়া করা অটোরিকশায়।

নির্ভর যোগ্য সুত্রে জানা গেছে, করোনাভাইরাস প্রকোপ দেখা দেয়ার পর থেকেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকদের নিয়মিত দেখা মিলে না। ফলে বিপাকে পড়ছেন স্বাভাবিক রোগীরা। তবে, স্থানীয় কয়েকটি বেসরকারি রোগ নির্ণয় কেন্দ্রলোতে (ডায়াগনস্টিক সেন্টার) প্রতিদিন বিকাল-সন্ধ্যায় প্রাইভেট চেম্বার করতেন। কিন্তু প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে হাতেগোনা কয়েকটি ছাড়া বাকি সবগুলো বন্ধ।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কর্মকর্তা (টিএইচও) ডাক্তার রোজিয়ারা খাতুন বলেন, এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও জনবল কাঠামো ৩১ শয্যারই রয়ে গেছে। করোনাকালে বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০০ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। আর গড়ে রোগী ভর্তি থাকছেন ৮ থেকে ১২ জন।

তিনি বলেন, নওগাঁ হাসপাতালে ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুই জন চিকিৎসক প্রেষণে আছেন। এছাড়া রাজশাহীতে প্রেষণে আছেন ক্যাশিয়ার, ফার্মাসিস্ট ও ল্যাব টেকনিশিয়ান। চিকিৎসক ও জনবল সংকটের কারণে রোগীদের সেবা দিতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

এ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুশান্ত কুমার মাহাতো বলেন, তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকট থাকা সত্ত্বেও স্বাভাবিক চিকিৎসা অব্যাহত রাখা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে উপজেলা পর্যায়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেয়া আছে। তবে কোন অনিয়ম হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.