তানোরে ১৬১টি ঘর পেলেন ভুমিহীন পরিবার

১৪৭

তানোর প্রতিনিধি: একটা ঘর পেয়ে মানুষ যখন হাসে তখন সব থেকে বেশি ভালো লাগে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতির পিতা এটাই তো চেয়েছিলেন। ২৬ এপ্রিল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আশ্রায়ণ-২ প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, একটা ঘর পেলে মানুষের সব কিছু পেয়ে যায়। আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে অনেক বেদখল জমি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এ জন্য প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ২৩ জানুয়ারি প্রথম পর্যায়ে ৬০ হাজার ১৯১টি ঘর, একই বছর ২০ জুন ৫৩ হাজার ৩০০টি ঘর হস্তান্তর করা হয়েছে।

প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে নির্মিত মোট ঘরের সংখ্যা এক লাখ ১৭ হাজার ৩২৯টি। তৃতীয় পর্যায়ে নির্মাণাধীন একক ঘরের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৬৭৪টি। এর মধ্যে আজ ৩২ হাজার ৯০৪টি হস্তান্তর হয়েছে। জানা গেছে, মুজিববর্ষ উপলক্ষে একটি পরিবারও গৃহহীন ও ভূমিহীন থাকবে না প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন ঘোষণার পর থেকে যাদের নিজস্ব জমি নেই, ঘর নেই তাদের জমি ও ঘর দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ অধীনে এসব বাড়ি নির্মাণ করা হচ্ছে।

এসব ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে সরকারি খাস জায়গা কিংবা দখল হওয়া জায়গা দখলমুক্ত করে।ইতোমধ্যে দেশের আট বিভাগে বিপুল পরিমাণ বেদখল হওয়া সরকারি খাস জমি উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা এই জমির মূল্য প্রায় দুই হাজার ৯৬৭ কোটি টাকা। কয়েকটি আশ্রয়ণ প্রকল্প ঘুরে দেখা গেছে, ঘরগুলো বেশ মজবুতভাবে নির্মাণ করা হচ্ছে। ঘরসহ বাড়ি যাদের দেওয়া হবে, আগেই তাদের বলে দেওয়া হয়েছে।

এতে করে ঘরগুলো সঠিক তদারকির সুযোগ পাচ্ছেন ভূমিহীনরা।আশ্রয়নের অধিকার, শেখ হাসিনার উপরহার’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে ঈদ উপহার হিসেবে সারাদেশের ন্যায় রাজশাহীর তানোরে আশ্রায়ণ দ্বিতীয় প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে ১৬১টি ভূমি ও গৃহহীন পরিবার পেলেন স্বপ্নের নীড়।

৬ এপ্রিল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে তানোরের উপকারভোগী ১৬১ জনের মধ্যে জমির দলিলসহ এসব ঘরের চাবি আনুষ্ঠানিক ভাবে হস্তান্তর করা হয়। এ উপলক্ষে উপজেলা পরিষদ ও প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) প্রকৌশলী তারিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় ও নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পঙ্কজ চন্দ্র দেবনাথের সভাপতিত্বে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপকারভোগীদের মধ্যে ঘরের চাবি ও দলিল হস্তান্তর করেন সাংসদ প্রতিনিধি ও উপজেলা চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না।

অন্যান্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান সোনিয়া সরদার ও আবু বাক্কার, উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভুমি)স্বীকৃতি প্রামানিক, তানোর থানার অফিসার ইন্চার্জ ওসি কামরুজ্জামান মিয়া,উপজেলা প্রকৌশলী সাইদুর রহমান, জনস্বাস্থ্য সহকারী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম উপজেলা যুবউন্নয়ন কর্মকর্তা সাদিকুজ্জামান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ, বাধাইড় ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান ও পাঁচন্দর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিত প্রমুখ।

এছাড়াও উপজেলায় কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিগণ। জানা যায়, আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের আওতায় ৩য় পর্যায়ে উজেলার সাত ইউনিয়নের প্রতিবন্ধী, ভিক্ষুক, রিকশাচালক, দিনমজুর, বিধবা, কাজের মহিলাসহ ভুমি ও গৃহহীন পরিবারকে জমিসহ এসব সেমিপাকা ঘর দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি বাড়িতে থাকছে দুটি বেড রুম, একটি রান্নাঘর, একটি মানসম্মত স্যানিটারি টয়লেট ও একটা প্রশস্ত বারান্দা।

সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দুই শতক জমির মালিকানাসহ নির্দিষ্ট ডিজাইন ও মানসম্মতভাবে সুদৃশ্য রঙিন টিনশেডের দুর্যোগ সহনীয় ঘরগুলো নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি ঘরের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে দুই লাখ ৩৯ হাজার ৯শত ১৯ টাকা।

Comments are closed.