তামিম মাঠে নামতেই সাহস বেড়ে গিয়েছিল: মুশফিক

0 195

স্পোর্টস ডেস্ক : নিজেদের ব্যাটিং ইনিংসের শুরুতেই কব্জিতে আঘাত পেয়ে ‘রিটায়ার্ড হার্ট’ হয়ে ড্রেসিং রুমে ফিরে গেলেন বাংলাদেশের ড্যাশিং ওপেনার তামিম ইকবাল। পরে হাসপাতালে স্ক্যান করানো হলে জানা যায় হাতের কব্জিতে চিড় ধরা পড়েছে।

জানা গেল তামিমের এশিয়া কাপই শেষ। পরে টিভিতেও দেখা গেল হাতে ব্যান্ডেজ এবং গলায় সেই হাত ঝুলিয়ে রেখেছেন তামিম। তখন কেইবা ভেবেছিলো এ ম্যাচেই আবারো ব্যাট হাতে মাঠে নামবেন তামিম।

একে একে যখন একপাশে উইকেটের পর উইকেট পড়ছে, তখন অন্য পাশে অপরাজিত থেকে যান সেঞ্চুরি করা মুশফিক। এ পরিস্থিতিতে ম্যাচের ৪৭তম ওভারের ৫ম বলে আউট হয়ে যান মোস্তাফিজুর রহমান।

বল তখনও বাকি ১৯টি। দলীয় রান ২২৯। এ পরিস্থিতিতে অপরাজিত থাকা তামিম ইকবাল মুশফিকের সঙ্গে জুটি বাঁধতে মাঠে নেমে পড়লেন।

অবিশ্বাস্য মনে হলেও এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে শনিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এমনটি ঘটেছে।

তিনি যখন মাঠে ঢুকছিলেন তখন ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোর ধারাভাষ্যে বলা হচ্ছিল, ‘অবিশ্বাস্য দৃশ্য! ১১ নম্বর ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঠে ঢুকছেন তামিম, তাও মাত্র একটি হাত নিয়ে! এটা তামিম ইকবালের বিরল সাহসের নজির হয়ে থাকবে!’

বাম হাতটা তাঁর চলছিলো না তাই এদিন ডানহাতেই ব্যাট চালিয়েছেন তিনি। তামিম মাঠে নামার সময় দলের স্কোর ছিল ২২৯। মাঠে নেমেই সুরাঙ্গা লাকমালকে এক হাত দিয়ে মোকাবেলা করেন তামিম।

সতীর্থকে এমন সাহস নিয়ে খেলতে দেখে সেঞ্চুরিয়ান মুশফিকও যেন হয়ে ওঠেন আরও দুর্দমনীয়। তামিম একপাশ আগলে রাখলেন, মুশফিক ওপাশে তুললেন ঝড়। দলের স্কোরকার্ডে যুক্ত হয় আরও মূল্যবান ৩২টি রান। বাংলাদেশের ইনিংস গিয়ে দাঁড়ায় ২৬১-তে।

জবাবে ১২৪ রানে গুটিয়ে যায় শ্রীলংকা। দুর্দান্ত বোলিং করেন মাশরাফি, মোস্তাফিজ, মিরাজরা। লংকান কোনো ব্যাটসম্যানকেই দলের হাল ধরতে দেননি তারা। এতে ১৩৭ রানের বিশাল জয় পায় টাইগাররা। বিদেশের মাটিতে এটি টাইগারদের সবচেয়ে বড় জয়।

বোলার ভালো করলেও বুক চিতিয়ে লড়াকু সেঞ্চুরি তুলে নেয়ায় ম্যাচসেরার পুরস্কার হাতে উঠেছে মুশফিকের। প্রথানুযায়ী সেই পুরস্কার নিতে এসে কথা বলেন তিনি। স্বাভাবিকভাবেই তার কণ্ঠে ঝরে তামিম বন্দনা। জানিয়ে দিলেন, তামিম মাঠে নামতেই নাকি তার সাহস আরও বেড়ে গিয়েছিল।

মুশফিক বলেন, ‘যখনই তামিমকে দেখলাম ব্যাট হাতে মাঠে নামছে, তখনই আমার সাহস বেড়ে যায়। মনে মনে সংকল্প করে ফেললাম, তার জন্য এবং দেশের জন্য কিছু করে দেখাতে হবে আমাকে।’

পাঁজরের ব্যাথা নিয়ে খেলেছিলেন মুশফিকও। বার কয়েক তাকে দেখা গেছে হাত দিয়ে পাঁজর চেপে ধরতে। তবুও খেললেন ওয়ানডে ক্যারিয়ার সেরা ১৪৪ রানের অনবদ্য এক ইনিংস।

বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এর আগে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে এ উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যানের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ছিল ১১৭। ২০১৪ সালে ফতুল্লায় ভারতের বিপক্ষে এ দুর্দান্ত ইনিংসটি খেলেন তিনি। এ নিয়েও কথা বলেন মুশি।

এইটাকেই নিজের সেরা ইনিংস হিসেবে উল্লেখ করে মুশফিক বলেন, ‘সম্ভবত এটাই আমার সেরা ব্যাটিং। কারণ, আমার শট খেলা এবং উইকেটের মধ্যে দৌঁড়ানো- দুটোই ছিল বেশ কষ্টকর।’

বিডি সংবাদ টোয়েন্টিফোর ডটকম/

Leave A Reply

Your email address will not be published.

x