দেশের হাসপাতালগুলোতে ৪০% ডাক্তারই অনুপস্থিত

0 279

স্বাস্থ্য ডেস্ক : দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে কর্মরত ডাক্তারদের উপস্থিতি খুবই নগণ্য। মোট চিকিৎসকের মধ্যে বড়জোর ৬০ শতাংশ ডাক্তারকে কর্মস্থলে পাওয়া যায়। ৪০ শতাংশই অনুপস্থিত।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এ সংক্রান্ত এক অভিযানে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

সোমবার (২১ জানুয়ারি) দেশের আট জেলার সরকারি ১১ হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে একযোগ অভিযান চালায় দুদকের অ্যানফোর্সমেন্ট টিম। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চালানো অভিযানে মোট চিকিৎসকদের প্রায় ৪০ ভাগ ডাক্তারকে কর্মস্থলে উপস্থিত পাওয়া যায়নি।

এর মধ্যে ঢাকার বাইরে ৭টি হাসপাতালে অনুপস্থিত চিকিৎসকের হার প্রায় ৬১.৮ শতাংশ। তবে অভিযানকালে রাজধানীর মুগদা জেনারেল হাসপাতালের সব ডাক্তারকেই কর্মস্থলে উপস্থিত পাওয়া যায়।

৮ জেলার ১১ হাসপাতালগুলো হলো- ঢাকার কর্মচারী কল্যাণ হাসপাতাল, মা ও শিশু সদন ও মুগদা জেনারেল হাসপাতাল, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, রংপুরের পীরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, দিনাজপুর সদর হাসপাতাল, কুষ্টিয়ার কুমারখালি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পাবনার সদর জেনারেল হাসপাতাল ও আটঘরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

দুদক কর্মকর্তারা জানান, চিকিৎসকদের অনুপস্থিতির কারণে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীরা প্রতিদিনই হয়রানির শিকার ও স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দুদক অভিযোগ কেন্দ্রে (১০৬) আসা এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতালগুলোতে একযোগে অভিযান পরিচালনা করে দুদক অ্যানফোর্সমেন্ট টিম।

৮ জেলার ১০ হাসপাতলে মোট রোস্টার ডিউটি বণ্টনকৃত চিকিৎসকের সংখ্যা ২৩০ জন থাকলেও কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিত পাওয়া যায় ৯২ জন চিকিৎসককে, যা মোট চিকিৎসকের ৪০ শতাংশ।

এর মধ্যে মুগদা হাসপাতাল বাদে ঢাকার দুই হাসপাতালের ৯৯ জন ডাক্তাদের মধ্যে ১১ জন অনুপস্থিত ছিল। ঢাকার বাইরের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে এ চিত্র আরো ভয়াবহ। ঢাকার বাইরের ৭ জেলার মোট হাসপাতালে রোস্টার ডিউটি বণ্টনকৃত চিকিৎসকের সংখ্যা ১৩১ জন থাকলেও অনুপস্থিত ছিলেন ৮১ জন। এক্ষেত্রে অনুপস্থিতির হার মোট চিকিৎসকের প্রায় ৬১.৮ শতাংশ।

এদিকে রাজধানীর মুগদা জেনারেল হাসপাতালে অভিযানকালে জরুরি বিভাগের এক কর্মচারী মো. আবু মুসা ভূঞা (স্ট্রেচার বিয়ারার) দায়িত্বরত অবস্থায় রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণকালে দুদক টিমের কাছে হাতেনাতে ধরা পড়েন। দুদক টিমের সুপারিশক্রমে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করা হয়।

এ বিষয়ে অ্যানফোর্সমেন্ট অভিযানের সমন্বয়ক দুদকের মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘স্বাস্থ্য সেক্টরে এ অবক্ষয় অত্যন্ত দুঃখজনক। মানবসেবার চেতনা না থাকলে চিকিৎসা সেবা পরিত্যাগ করা উচিৎ। তবে দায়িত্বে অবহেলার বিষয়ে দুদক কঠোর অবস্থান নেবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তাদেরকে চাকরি হারাতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সারা দেশের স্বাস্থ্য সেক্টর দুদকের নজরদারিতে থাকবে।’সূত্র: ব্রেকিংনিউজ/

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.

x