নাটোরে সড়ক দুর্ঘটনায় মা নিহত হলেও বেঁচে গেল ছোট মুহিব

১৫৫
নাটোর প্রতিনিধি: নাটোরের বড়াইগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় মা নিহত হলেও ৩ বছরের শিশু সন্তান মুহিব এঘটনায় নিহত হয়েছেন মোট ৭ জন আহত হয়েছেন প্রায় ১৫ জন। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কে গাজী অটো রাইস মিলের সামনে এ দূর্ঘটনা ঘটে। সড়ক দুর্ঘটনায় সময় দেখতে পান বাসের জানালার কাঁচের টুকরো এবং জানালার লোহার অংশ তার স্ত্রী মিলির মুখমন্ডল আর শরীরের ভেদ করে রক্তাক্ত ক্ষত করে দিয়েছে। সন্তানকে পাশের সিটে রেখে স্ত্রীকে বাঁচাতে আত্ম চিৎকারে আর আকুতি যেন আশে পাশের বাতাস ভারি করে দিয়েছে । কিন্তু তার পরেও কাউকে সহযোগীতার জন্য পাননি। নিজের চোখের সামনে নিজ স্ত্রীর ক্ষত বিক্ষত হয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু মেনে নিতে পারছেনা। ৩ বছরের শিশু মুহিব বার বার তার মাকে চাচ্ছে। বাবা রফিকুল ইসলাম বাক রুদ্ধ। সন্তানকে কি শান্তনা দেবে সেটাও ভেবে পাচ্ছেনা। নিহত মিলির স্বামী ও শিশু মুহিব এর বাবা রফিকুল ইসলাম ঘটনার এমন বর্ননা দিচ্ছিলেন।
রফিকুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি লালপুর উপজেলার ওয়ালিয়া এলাকায়। আর তিনি বিয়ে করেন পার্শবর্তি বাগাতিপাড়া উপজেলার গালিমপুর গ্রামের মাইনুল ইসলামের বড় মেয়ে মোহনা আক্তার মিলি (২৬) কে। রফিকুল ইসলাম ঢাকা মিরপুর -১ এ অনলাইন ব্যবসা করেন। সেই সুবাদে ঢাকাতেই ঈদ করেন তারা।  শনিবার সকাল ৬.৩০ মিনিটে মিনিটে ঢাকা থেকে ন্যাশনাল পরিবহনে নিজ বাড়ি নাটোরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন তারা।
জানা যায়, ঢাকা থেকে ন্যাশনাল পরিবহনের একটি বাস রাজশাহী বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের গাজী অটোরাইস মিলের সামনে থাকা একতা পরিবহনের একটি বাসকে অতিক্রম করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা সিয়াম পরিবহন নামের অপর একটি বাসের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় সিয়াম পরিবহন ছিটকে গিয়ে গাজী অটোরাইস মিলের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের সাথে ধাক্কা লাগে। ন্যাশনাল পরিবহনও মহাসড়কের পাশের গাছের সাথে ধাক্কা লেগে কিছুটা নেমে যায়। এতে ন্যাশনালের ৪ যাত্রী ও সিয়ামের ২ যাত্রী ঘটনাস্থলেই মারা যান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো একজনের মৃত্যু হয়।
উভয় বাসের সামনের অংশ দুমড়ে মুচড়ে যায়। এতে উভয় বাসের অন্তত ১৫জন যাত্রী আহত হন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বনপাড়া হাইওয়ে থানা, বড়াইগ্রাম থানা ও বনপাড়া ফায়ারসার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। আহত যাত্রীদের বনপাড়া,নাটোর ও রাজশাহীর বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ন্যাশনাল পরিবহনের যাত্রী এনামুল হক বলেন, বনপাড়ার গাজী অটোরাইসমিল ও পাটোয়ারী ফিলিং ষ্টেশনে সামনের বাকে একতা পরিবহনের একটি বাসকে অতিক্রম করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা সিয়াম পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। মুহুর্তেই যাত্রীরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে যান। এ সময় একটি বাস গাজী অটোরাইস মিলের একটি ট্রাকের সঙ্গেও ধাক্কা খায়। ঘটনাস্থলে তিনি ছয় জনের মৃতদেহ দেখতে পান বলে জানান। তিনিসহ বহু যাত্রীকে তিনি আহত অবস্থায় দেখেছেন।
ন্যাশনাল পরিবহনের যাত্রী রাজন (৩২) ও আক্তারী খানম (৪১) বলেন, গাড়ীটি অযথাই বেপরোয়া গতিতে চালাচ্ছিলেন চালক। অনেক যাত্রীর অনুরোধেও গতি কমান নাই । অবশেষে দুর্ঘটনায় পড়তে হলো। কেরে নিল ৭টি তাজা প্রাণ।
নিহতরা হলেন সিয়াম পরিবহনের যাত্রী নাটোর সদর থানার পাইকোরদল এলাকার প্রবাসী শাহজাহান মিয়ার ছেলে কাউছার রহমান (১৮) এবং মেয়ে সাদিয়া আক্তার (১২) ও শ্যালক নাটোর সদর থানার পাইকোরদল এলাকার মুক্তার হোসেনের ছেলে আলমগীর হোসেন (৪৮) এবং ন্যাশনাল পরিবহনের যাত্রী নাটোরের লালপুর থানার ওয়ালিয়া এলাকার মোহনা আক্তার মিলি (২৬), মাগুড়া সদর থানার মিজানুর রহমান (৩০), চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার ও নাটোর নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক মশিউর রহমান (৫০) ও টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার থানার বেঙ্গুনিয়া গ্রামের আব্দুল জলিল (২৬)।

Comments are closed.