নিয়মিত মাছ খেলে আয়ু বাড়ে

462

স্বাস্থ্য অনলাইন ডেস্ক : নিয়মিত মৎস্যভোজনে বাড়ে দীর্ঘায়ুর সম্ভাবনা। এ কারণে দীর্ঘ জীবন লাভ করতে চাইলে খাদ্যতালিকায় নিয়মিত মাছের অন্তর্ভুক্তি জরুরি। ১৬ বছর ধরে পরিচালিত দীর্ঘ এক গবেষণার ভিত্তিতে এ দাবি করছেন বিজ্ঞানীরা। মোট ৪ লাখ ২১ হাজারেরও বেশিসংখ্যক ব্যক্তির তথ্য পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে এ গবেষণা চালানো হয়।

দীর্ঘদিন ধরেই খাদ্যতালিকায় নিয়মিত মাছের অন্তর্ভুক্তির কথা বলে আসছেন পুষ্টিবিদরা। এক্ষেত্রে তৈলাক্ত মাছের ওপরই তাদের পক্ষপাত একটু বেশি। উচ্চমানের প্রোটিন, ভিটামিন ও স্বাস্থ্যকর তেলসমৃদ্ধ মাছ গ্রহণের নানা উপকারিতা ও উপযোগিতা নিয়ে অসংখ্য গবেষণাও চালানো হয়েছে। যেগুলোর প্রতিটিতেই নিয়মিত মৎস্যভোজনের পক্ষে নানা তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।

তৈলাক্ত মাছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে প্রচুর পরিমাণে। এ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড বা মাছের তেল এখন বিজ্ঞানী ও সাপ্লিমেন্ট উৎপাদনকারীদের কাছে বিশেষ মনোযোগ পাচ্ছে। ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস, হূদযন্ত্রের সুস্বাস্থ্য রক্ষা ও প্রদাহ কমানোর ক্ষেত্রে মাছের তেলের কার্যকারিতার সপক্ষে প্রচুর প্রমাণ হাজির করেছেন বিজ্ঞানীরা। বিস্তারিত গবেষণা চলছে আরো অনেক।

মানসিক স্বাস্থ্য, বার্ধক্য ও দৃষ্টিশক্তির সঙ্গে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের সংযোগ নিয়েও গবেষণা হয়েছে বিস্তর। তবে এসব বিষয়ে পাওয়া তথ্যের মধ্যে পরস্পরবিরোধিতা অনেক। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পাওয়া তথ্য-উপাত্তও জোর দিয়ে বলার মতো খুব একটা শক্তিশালী নয়।

কিন্তু আলোচ্য গবেষণাটির ফল নিয়ে কোনো ধরনের সন্দেহের অবকাশ নেই। ৪ লাখ ২০ হাজার মানুষের স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত তথ্য ১৬ বছর ধরে টানা পর্যবেক্ষণ ও এর ভিত্তিতে গবেষণা দাঁড় করানো চাট্টিখানি কথা নয়! উপরন্তু গবেষণায় উঠে আসা ফলাফলও একেবারেই পরিষ্কার।

গবেষকরা এখানে সাধারণ একটি প্রশ্নের সমাধান করতে চেয়েছেন, মৃত্যুহার কমানোয় মাছের ভূমিকা কতটুকু এবং তাতে ওমেগা-৩ কীভাবে কাজ করে? এজন্য যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত এনআইএইচ-এএআরপি ডায়েট অ্যান্ড হেলথ স্টাডি জরিপের ১৬ বছরের তথ্য পর্যালোচনা করেন তারা। এখন পর্যন্ত স্বাস্থ্য ও খাদ্যতালিকার সম্পর্ক নিয়ে পরিচালিত জরিপগুলোর মধ্যে এটিই বৃহত্তম। এজন্য ২ লাখ ৪০ হাজার ৭২৯ জন পুরুষ ও ১ লাখ ৮০ হাজার ৫৮০ জন নারীর দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্য নিয়ে ১৬ বছরের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এ সময়ের মধ্যে নিয়মিতই এদের সবার স্বাস্থ্যের ওপর পর্যবেক্ষণ চালানো হয়। গবেষণা চলকালে ৫৪ হাজার ২৩০ জন পুরুষ ও ৩০ হাজার ৮৮২ জন নারী মারা যান।

গবেষণায় দেখা যায়, যারা নিয়মিত ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডসমৃদ্ধ মাছ খেয়েছেন; তাদের মধ্যে হূদরোগ, ক্যান্সার, শ্বসনতন্ত্র ও লিভারের রোগে মৃত্যুহার অনেকখানিই কমে গেছে। গবেষকদের সিদ্ধান্ত হলো, মাছ ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড যত বেশি গ্রহণ করা হবে, মৃত্যুঝুঁকিও তত কমতে থাকবে। গবেষণায় উঠে আসা ফলাফল জার্নাল অব ইন্টারনাল মেডিসিনে প্রকাশ করা হয়।

ব্রেকিংনিউজ/

x