পাকিস্তানে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ৯৭, বিস্ময়করভাবে বেঁচে গেলেন দুই যাত্রী

0 20

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পাকিস্তানের করাচিতে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৯৭ জন নিহত হয়েছেন। তবে অলৌকিকভাবে দুই যাত্রী বেঁচে গেছেন বলে জানিয়েছেন সিন্ধ প্রদেশ কর্তৃপক্ষ। পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনসের (পিআইএ) বিমানটিতে ৯১ যাত্রীসহ ৯৯ আরোহী ছিলেন। শুক্রবার (২২ মে) বিকালে করাচির একটি আবাসিক এলাকায় আছড়ে পড়ে বিমানটি। খবর ডন, জিও টিভি।

পিআইএ’র মুখপাত্র আব্দুল্লাহ হাফিজ জানান, শুক্রবার বিকেলের দিকে করাচির জিন্নাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে মডেল কলোনি আবাসিক এলাকায় যাত্রীবাহী ওই বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটে। পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থার (পিআইএ) এ–৩২০ এয়ারবাসটি ৯১ জন যাত্রী ও ৮ জন ক্রু নিয়ে লাহোর থেকে করাচি যাচ্ছিল। জিন্নাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেই অবতরণের কথা ছিল এটির।

এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনার পরও বেঁচে গেছেন প্লেনের দুই যাত্রী। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিন্ধের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মিডিয়া কো-অর্ডিনেটর মীরান ইউসুফ। তিনি জানান, বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের একজন হলেন ব্যাংক অব পাঞ্জাবের প্রেসিডেন্ট জাফর মাসুদ, আরেকজনের নাম জুবায়ের।

মীরান বলেন, ‘জুবায়েরের শরীরের ৩৫ শতাংশ পুড়ে গেছে, তাকে করাচি সিভিল হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। জাফর মাসুদের চারটি হাঁড় ভেঙে গেছে। তিনি দারুল সেহাত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাদের দুজনের অবস্থাই স্থিতিশীল।’ব্রেকিংনিউজ

প্রত্যক্ষদর্শী শাকিল আহমেদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, জিন্নাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কয়েক কিলোমিটার দূরে আবাসিক এলাকায় আছড়ে পড়ে বিমানটি। আছড়ে পড়ার আগে একটি মোবাইল টাওয়ারকে ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনাস্থলের বেশ কয়েকটি বাড়ি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিমানটি দুই দফায় রানওয়েতে নামার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। এরপর বিমানবন্দরের পাশের আবাসিক এলাকায় আছড়ে পড়ে। এতে ওই এলাকার বেশ কিছু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আহত হন স্থানীয় অন্তত ৩০ জন বাসিন্দা। দুর্ঘটনার পর পরই উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি সেনাবাহিনীও ওই অভিযানে অংশ নেয়। হতাহতদের উদ্ধার করে আশপাশের হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রাদেশিক সরকার হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে।

পিআইএর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এয়ার মার্শাল আরশাদ মালিক বলেন, উড়োজাহাজের পাইলট কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে যোগাযোগ করে কারিগরি ত্রুটির কথা বলেছিলেন। দুটি রানওয়ে প্রস্তুত ছিল উড়োজাহাজটির অবতরণের জন্য।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এ ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। দুর্ঘটনার কারণ জানতে যথাযথভাবে তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে বিভিন্ন দেশের মতো পাকিস্তানও উড়োজাহাজ চলাচল স্থগিত করেছিল। কয়েক দিন আগে বাণিজ্যিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়।

পাকিস্তানের সাম্প্রতিক উড়োজাহাজ দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনাটি ঘটে ২০১০ সালে ইসলামাবাদে। ওই দুর্ঘটনায় বেসরকারি বিমান সংস্থা এয়ারব্লুর একটি যাত্রবাহী উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে ১৫২ আরোহীর সবাই নিহত হন। এটাই এখন পর্যন্ত পাকিস্তানের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিমান দুর্ঘটনা।

এ ছাড়া ২০১২ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ১২৭ আরোহীর সবাই নিহত হন। আর ২০১৬ সালে পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চল থেকে ইসলামাবাদ যাওয়ার পথে যাত্রীবাহী বিমানে আগুন লাগলে ৪৭ জন নিহত হন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.