পাবনায় ঘুষ না পেয়ে সহকারি শিক্ষককে পেটালেন প্রধান শিক্ষক

১৬৭
আটঘরিয়া ( পাবনা) প্রতিনিধি:  পাবনার ভাঙ্গুড়ায় উৎকোচের (ঘুষ) টাকা না পেয়ে দহ পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক রফিকুল ইসলাম (বিএসসি) কে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছেন ওই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফজলুর রহমান।
রবিবার (১৯ জুন) সকালে বেলা সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার মন্ডতোষ ইউনিয়েনের দহ পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বিদ্যালয় এলাকা জুড়ে ছাত্র-ছাত্রীসহ অভিভাবকদের মধ্যে হতাশা ও চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রায় দুই মাস পূর্বে সহকারি শিক্ষকদের টাইমস্কেলের রেজুলেশনের জন্য দহ পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের এগারো জন শিক্ষক কর্মচারী আবেদন করেন । এরপর প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষরসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে নির্দেশনা চাইলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অফিস খরচ বাবদ জনপ্রতি দুই হাজার টাকা করে উৎকোচ দাবি করেন।
কিন্তু সহকারি শিক্ষকগণ প্রধান শিক্ষকের ওই অনৈতিক দাবী পুরণ না করায় প্রধান শিক্ষক টাইমস্কেলের ফাইলের বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নেন নি। প্রায় দুমাস অতিবাহিত হলে গত রবিবার সকালে বিএসসি শিক্ষক রফিকুল ইসলাম প্রধান শিক্ষকের কক্ষে গিয়ে তার কারণ জানতে চান।
তখন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফজলুর রহমান বলেন, অফিস খরচ হিসেবে দুই হাজার টাকা করে চেয়েছিলাম কেউ দেয়নি তাই স্বাক্ষর করা হয় নি। তবে এখন যদি পনেরশো টাকা করে সবাই দেয় তাহলে স্বাক্ষর করে দেব।
তখন শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা কোন উৎকোচ (ঘুষ) দিতে পারবো না। টাইমস্কেল আমাদের অধিকার। আপনি কেন তা আমাদের দিবেন না। এমন অবস্থায় এক সময় তারা দুজনেই বিতন্ডতায় জড়িয়ে পড়েন।
এর এক পর্যায়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফজলূর রহমান উত্তেজিত হয়ে কাঠের চেয়ার দিয়ে শিক্ষক রফিকুল ইসলামের মাথায় আঘাত করলে রফিকুলের কপাল কেটে রক্তাক্ত জখম হয়। পরে অন্যান্য শিক্ষক ও ছাত্ররা তাকে উদ্ধার করে ভাঙ্গুড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বলেন, তাদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক উগ্র মেজাজী তাই তিনি মাঝে মাঝেই শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে খারাপ আচরণ করেন। প্রধান শিক্ষক প্রভাবশালী হওয়ায় আমরা সবাই কিছু বলতে পারি না।
সূত্র জানায়, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফজলুর রহমান ২০১৯ সালের ফ্রেরুয়ারিতে দহ পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রায় দশ লক্ষ টাকার বিনিময়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসাবে যোগ দান করেন। সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ অবৈধ দাবি করে সে সময় বিদ্যালয় কমিটি থেকে তার বিরুদ্ধে একটা মামলা করে যা এখন পর্যন্ত চলমান আছে।
জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফজলুর রহমান বলেন, এবিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে তার কথা বলার মানুষিকতা নেই। বিষয়টি নিয়ে পরে কথা বলবেন।
এব্যপারে বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটির নব্য সভাপতি মো.জাকির হোসেন ছবি প্রধান ও সহকারি শিক্ষকের এমন ঘৃন্য আচরণে তিনি মর্মাহত উল্লেখ করে বলেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সকলকে শান্ত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এবিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সাইফুল ইসলাম অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, ফোনে বিষয়টি শুনেছি।

Comments are closed.