পাবনা বিসিক শিল্প নগরী জলাবদ্ধতায় বেহাল দশা

১৬৭
আটঘরিয়া প্রতিনিধি: জরুরি নেই কোন পদক্ষেপ। জলাবদ্ধতায় সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছে পাবনা বিসিক শিল্পাঞ্চলের সাধারণ ব্যবসায়ীরা। একটু বৃষ্টিতেই কাদাপানির ছড়াছড়িতে একাকার হয়ে যায়। বছরের বেশির ভাগ সময়েই তাদের মালামাল পরিবহনে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই ড্রেনের পানি প্রবেশ করে প্রতিষ্ঠানগুলোর ভেতরে।
বিসিক সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পাবনা পৌর এলাকার ছাতিয়ানী মহল্লায় ১৯৬২ সালে ৯০ একর জায়গা নিয়ে স্থাপিত হয় বিসিক শিল্পনগরী।
 পরবর্তী সময়ে আরো ৩৫ একর জায়গা অধিগ্রহণ করে বর্তমানে ১২৫ একর বিশাল জায়গা নিয়ে জেলার এই ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প অঞ্চলে ব্যবসাবাণিজ্য করছে প্রতিষ্ঠানগুলো।
পাবনা বিসিকের তিনটি প্রবেশ পথে চার কিলোমিটার সড়ক ও আট কিলোমিটার ড্রেন রয়েছে। এখানে ছোট-বড় মিলিয়ে শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে ২০৩টি। সব মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে পাবনা বিসিক শিল্পনগরীতে।
পাবনা বিসিকে পণ্য নিয়ে আসা পরিবহন চালক আফতাব আলী, রমজান শেখ, কালু মিয়া বলেন, এখানে মাল নিয়ে আসলে প্রতিটি যানবাহনের ক্ষতি গুনতে হয়। খাদে পড়ে ট্রাকের পাতিসহ ইঞ্জিনের ক্ষতি হয়।
আবার সড়কের বেহাল দশার কারণে মালামাল উঠা-নামায় সময় লাগে বেশি।
বিসিকের ব্যবসায়ী মোশারফ হোসেন ও মুক্তার হোসেন খান বলেন, এখানে আমরা সরকারি সমস্ত রাজস্ব ভ্যাট ট্যাক্স দিয়ে ব্যবসা করছি।
বিসিকের যে সব সুযোগ-সুবিধা থাকা উচি, বেশির ভাগই নেই। অনেক বার আলাপ-আলোচনা হয়েছে, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। এই বর্ষার সময়ে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের গোডাউনের মালামাল নষ্ট হয়ে যায়।
ড্রেন ও রাস্তা দুটোই খারাপ। সরু রাস্তার ভেতরে জায়গা কম বলে প্রধান সড়কের ওপরে গাড়ি রেখে দিতে হয়। কর্তৃপক্ষকে বললেও তারা পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
পাবনা বিসিক শিল্পনগরীর উপ-মহাব্যবস্থাপক রফিকুল ইসলাম এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে দাবি করে
 বলেন, ব্যবসায়ীদের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে এক নম্বর গেটের কিছু অংশের কাজ করা হয়েছে। বাজেট সংকটের কারণে সমস্যা সমাধান করা যাচ্ছে না। তবে মাস্টার প্লান দেওয়া হয়েছে। বাজেট আসলেই সমস্যা সমাধান করে বিসিককে আধুনিকতার ছোঁয়া দেওয়া সম্ভব হবে।

Comments are closed.