পুঠিয়ার জিউপাড়া ইউপির ভূয়া জন্ম সনদ দিয়ে বাল্য বিবাহ ও ভিজিডি সুবিধা ভোগ করার অভিযোগ

0 575

পুঠিয়া (রাজশাহী) প্রতিনিধি : রাজশাহীর পুঠিয়ার জিউপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সচিব, মেম্বার ও ইউটিসি পরিচালকের সহযোগিতায় ভূয়া জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি করে বাল্য বিবাহ এবং সরকারী মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের ভিজিডি তালিকা ভূক্ত হয়ে সুবিধা ভোগ করার অভিযোগ উঠেছে।
রাজশাহী জেলার পুঠিয়া উপজেলার ৬ নং জিউপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ইসুকৃত জন্ম নিবন্ধন সনদ সূত্রে জানা গেছে, সরিষাবাড়ি গ্রামের মোঃ আঃ খালেক সিকদার এবং মৃত রাবেয়া বেগমের মেয়ে স্বর্ণা খাতুন, নিবন্ধিত নম্বর ৮১১৮২৫৪০২৬৭৫৩, ইস্যুর তারিখ ১৫/০১/২০১৯, বহি নং-১০, নিবন্ধনের তারিখ ০৯/০৯/২০০৭, জন্ম তারিখ ১৮/০৮/২০০০ দেখানো হয়েছে। জন্ম সনদে জিউপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রুহুল আমিন সরকার এবং সচিব রবিউল ইসলাম স্বাক্ষরিত তারিখ ২০/০১/১৯।
এলাকাবাসী জানান, মোঃ আঃ খালেক সিকদার নামে কোন ব্যক্তি সরিষাবাড়ি এলাকায় নাই। জিউপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা সংরক্ষিত আসনের সদস্য (মেম্বার) জেসমিন আরা আলেয়ার ভাই রবিউল ইসলাম স্বার্ণকে অপ্রাপ্ত বয়স্ক অবস্থায় কোথায় থেকে বের করে এনে বিয়ে করেছে। আর তাকে প্রত্যক্ষভাবে সহযোগীতা করেছে মেম্বার। তার ভায়ের বিয়ে বৈধ্য করার জন্য মেম্বার নিজে তার ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চেয়ারম্যান, সচিব ও ইউটিসি পরিচালকের সহযোগিতায় ভূয়া জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি করে বাল্য বিবাহ বৈধ্য করে। শুধু তাই নয় সেই নাবালিকা ভাইয়ের বৌ স্বর্ণা এবং পিতার নাম মোঃ আঃ খালেক সিকদার দেখিয়ে ভিজিডি তালিকা নং ৭২ ভোগ করছে। এতে মেম্বর মন্তব্য করে আমার ক্ষমতা আছে তাই করেছি আরো করবো বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্বার্ণ খাতুন জানায়, আমি ৮ম শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় বিয়ে হয়েছে। আর তার পিতার বাড়ি কোথায় এবং স্কুলের নাম কি জানতে চাইলে তিনি বলেন বলা যাবেনা বলে এড়িয়ে যায়।
গত মঙ্গলবার দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদে সরেজমিনে গিয়ে ইউটিসি পরিচালক ওয়াশিম কম্পিউটারের মাধ্যমে জন্ম সনদ যাচাই করে জানান এই নামে কোন নাম নিবন্ধন নেই। এবং রেজিষ্টারেও নেই। জন্ম রেজিষ্ট্রার নাম্বার (বিআরএন) এ সার্চ দিয়ে বার্ট রের্কড নট ফাউন্ড বলে জানান।
সচিব রবিউল ইসলাম জানান, ইউটিসি পরিচালক ওয়াশিম আমাকে দিয়েছে আমি সহি করে দিয়েছি।
ইউপি চেয়ারম্যান রুহুল আমিন সরকার জানান, সরিষাবাড়ি গ্রামের মোঃ আঃ খালেক সিকদার নামে কোন ব্যক্তিকে চিনি না। তবে সচিব হচ্ছে সরকারী কর্মচারী তিনি যাচাই বাছাই করে আমাকে জন্ম সনদ দিয়েছে আমি স্বাক্ষর করে দিয়েছি।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকার্তা মাহাবুবা সুলতানা নিকট ভূয়া জন্ম সনদ দিয়ে ভিজিডি তালিকা নং ৭২ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান। এই নাম উপজেলা মিটিং এ বাতিল করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ওলিউদজ্জামান জানান, এ বিষয়ে তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.