পুঠিয়ার মাদ্রাসার সভাপতি ও অধ্যক্ষ’র বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ

0 260

পুঠিয়া প্রতিনিধিঃ রাজশাহীর পুঠিয়ার ধোপাপাড়া মোহনপুর আলিম মাদ্রাসার সভাপতি ও অধ্যক্ষ’র বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী (কেরানী) হাবিবুল্লা সাজাপ্রাপ্ত হয়ে প্রায় ৫ মাসের জেলে থাকা অবস্থায় বেতন উত্তোলন হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, রাজশাহী জেলার পুঠিয়া উপজেলার ধোপাপাড়া মোহনপুর আলিম মাদ্রাসা অবস্থিত। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বর্তমান সুপারেন্টেন্ড/অধ্যক্ষ হিসাবে কর্মরত আছে মোঃ ফজলুর রহমান। আর ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির দায়িত্বে আছেন মুনছুর রহমান। আর সেখানে কর্মরত আছে অফিস সহকারী (কেরানী) হাবিবুল্লা।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, একই উপজেলার হলহলিয়া গ্রামের ইকবাল পাওনা টাকার দাবী একটি মামলা নং-৩৩৭ সি/২০১৬ পুঠিয়া দায়ের করেন। এর প্রেক্ষিতে গত ৩০ মে ১৮ সালে রাজশাহীর যুগ্ন দায়রা জজ ২য় আদালত এর জজ মোহাম্মাদ আবুল কালাম আজাদ রায় দেন যে, এক বছরের কারাদন্ড এবং ১৬ লক্ষ টাকা চেকে উল্লেখিত ১৫ লাখ ও ১ লাখ সরকারী কোষাগারে জমা দিতে হবে। পালাতক থাকা অবস্থায় গত ২৫ নভেম্বর ১৮ তারিখে হাবিবুল্লাকে পুঠিয়া থানা পুলিশ বানেশ্বর এলাকা থেকে আটক করে রাজশাহী জেল খানায় প্রেরণ করেন।

এলাকাবাসী জানায়, মামলার কারণে তাকে কখনো মাদ্রাসায় আসতে দেখিনা। শুনেছি প্রায় ৫ মাস থেকে একটি মামলার রায়ে ১ বছরের জেল হয়েছে। এখন বর্তমানে জেলে আছে। যদি সে জেলে থাকে, তাহলে সে মাদ্রাসায় আসেনা তাহলে সে বেতন পায় কি করে।

জানা গেছে, বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী কোন শিক্ষক-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলে তা ৩ মাসের মধ্যে নিস্পত্তি করতে হবে। নিয়ম অনুযায়ী সাময়িক বরখাস্ত থাকা অবস্থায় তিনি হাফ বেতন-ভাতা সুবিধা পাবে। কিন্তু সুপারেন্টেন্ড/অধ্যক্ষ এবং সভাপতির অনিয়মের মাধ্যমে তিনি পুরো বোতন পাচ্ছে।

ধোপাপাড়া মোহনপুর আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ফজলুর রহমান স্বত্যতা স্বীকার করে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। তবে তিনি বলেন হাবিবুল্লাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

পুঠিয়া সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজার মোঃ জাহেদুল ইসলাম জানান, স্কুলের সভাপতি ও অধ্যক্ষ’র স্বাক্ষরিত বেতন ভাতার বিল জমা দেওয়া হলে আমরা সেই বেতন-ভাতার টাকা তাদের ব্যক্তিগত একাউন্টে জমা হয়। তবে হাবিবুল্লাহ কোথায় আছে জানিনা। তবে তার বেতনের টাকা তার একাউন্টে জমা হয়।

মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোহাঃ জাহিদুল হক জানান, কোন ব্যক্তি যদি সাজা প্রাপ্ত হয়ে জেলা থাকে সে ব্যক্তি বেতন পেতে পারে না। আর যদি বেতন-ভাতার বিলের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করে এর জন্য ম্যানেজিং কমটি ও অধ্যক্ষ দায়ী।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

x