বগুড়ার শেরপুরে বিদ্যালয়ের নিয়োগে অনিয়ম দুর্নীতি ॥ বিজ্ঞ আদালতের নিষেধাজ্ঞা জারী উপেক্ষি

736

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার শেরপুরের বিরাকৈর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে গ্রন্থগারিক ও কম্পিউটার অপারেটর পদে নিয়োগে স্বজনপ্রীতি, মোটা অংকের উৎকোচ গ্রহন সহ নানা অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ম্যাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির বিরুদ্ধে। চাকুরী প্রত্যাশীদের মামলার প্রেক্ষিতে নিষেধাজ্ঞা জারী করেছে বিজ্ঞ আদালত। এদিকে বিজ্ঞ আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে ওই নিয়োগ কমিটি তড়িঘড়ি করে গোপনে নিয়োগ সম্পন্ন করায় গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে ওই নিয়োগ সংক্রান্ত কোন বক্তব্য দিতে ওই শিক্ষা কর্মকর্তা রাজী না হওয়ায় বিষয়টি জানাজানি হলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সচেতনমহলে।
অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, উপজেলার বিশালপুর ইউনিয়নের বিরাকৈর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের জনবল নিয়োগের জন্য একজন সহকারি গ্রন্থাগারিক ও নি¤œমান সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে গত ২০১৭ সালের ১১ ও ১৩ এপ্রিল দৈনিক ভোরের ডাক ও দৈনিক করতোয়া পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন প্রধান শিক্ষক। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির সুত্র ধরে একই উপজেলার শরীফপুর গ্রামের কফিল উদ্দিনের ছেলে আব্দুল হাকিম ওই নিয়োগের যথাযথ প্রক্রিয়ার সকল শর্তের ভিত্তিতে নি¤œমান সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে আবেদন করে। পরবর্তীতে ওই নিয়োগ পরীক্ষার গত ০৭/০৮/২০১৭ ইং ধার্য তারিখে আব্দুল হাকিমসহ অন্যান্য প্রার্থীরা উপস্থিত হলে নিয়োগ কমিটি অজ্ঞাতকারণে ওইদিনের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করে। এদিকে ওই নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে পুনরায় পরীক্ষা গ্রহনের চেষ্টা করলে নানা অভিযোগের কারণে পরপর ৩দফা তারিখ পরিবর্তন হয়। চলতি মার্চ মাসের ২৫ তারিখে পুনরায় নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহন করা হবে গোপনে জানতে পারলেও তার নামে কোন ইন্টারভিউ কার্ড ইস্যু করা হয়নি বলে আবেদনকারী আব্দুল হাকিম জানিয়েছেন। এদিকে ওই বিদ্যালয়ের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত দুটি নিয়োগ পরীক্ষার নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ স্পষ্ট হয়ে উঠে। এ সংক্রান্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খান এখতিয়ার উদ্দিন ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জিয়াউর রহমানসহ ৮জনকে বিবাদী করে গত ২০১৭ সালে বগুড়া সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলা নং ১২৪/২০১৭ দায়ের করে ভুক্তভোগী চাকুরী প্রত্যাশী গোলাম মোস্তফাসহ কয়েকজন। আদালতে মামলার প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালত ওই নিয়োগ পরীক্ষায় নিষেধাজ্ঞা কল্পে বিবাদীদের কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করলে বিবাদীরাও আদালতে আপিল করেন। এদিকে আদালতে মামলার বিষয়টি গোপন করে ওই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি ও নিয়োগ কমিটি গত ২৫ মার্চ পুনরায় নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টায় চাকুরী প্রত্যাশী আব্দুল হাকিম বিজ্ঞ আদালতের নিষেধাজ্ঞার আদেশ কপি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে প্রদান করলেও অজ্ঞাত কারণে ওই নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত না করার অভিযোগ উঠেছে ।
এ বিষয়ে ওই পদে চাকুরী প্রত্যাশী ভুক্তভোগী আব্দুল হাকিম বলেন, ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির কারসাজিতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করে তাদের নিজস্ব লোককে নিয়োগ পাইয়ে দিতেই এহেন নাটক করে নিয়োগ সম্পন্ন করেছেন।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খান এখতিয়ার উদ্দিন বলেন, আদালতের মামলার বিষয়টি উড়িয়ে দিয়ে বলেন, নিয়োগ পরীক্ষার দিন বিজ্ঞ আদালতের নিষেধাজ্ঞা আসার আগেই নিয়োগ সম্পন্ন করেছে নিয়োগ কমিটির সদস্যরা। কর্তা অধীন কাজ, এখন আর কিছু করার নেই বলে দাবী করেন ওই প্রধান শিক্ষক।
এ প্রসঙ্গে শেরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নজমুল হক ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, ওই বিদ্যালয়ের নিয়োগ পরিক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে ফোনে কোন বক্তব্য দেবনা, উপজেলায় আসেন, সাক্ষাত করেন আলোচনায় বসবো !
এ ব্যাপারে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ওই নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়টি অবগত নই। তবে জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

x