বগুড়ায় আধিপত্যের বিস্তার নিয়ে ৩৯ দিনে ১২ খুন

0 24

দীপক কুমার সরকার, বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ায় গত ৩৯ দিনে যুবলীগের দু’জন ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের একজন নেতাসহ ১২ জনকে হত্যা করা হয়েছে। তবে এসব হত্যাকান্ড আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, পূর্ব শত্রুতাসহ নানা বিরোধের কারণেই হয়েছে। এছাড়াও ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে এক পোশাক কর্মীকে। এ সময়ে ঘটেছে দুটি ছিনতাইয়ের ঘটনা। একের পর এক খুন ও অপরাধ সংঘটিত হওয়ায় সাধারণ মানুষ আইনশৃংখলা বাহিনীর তৎপরতার সমালোচনা করছে। তবে ব্যক্তিগত বিরোধে হত্যাকা-গুলো ঘটছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কথা বলে লাভ নেই পুলিশের পক্ষ থেকে মন্তব্য করা হয়েছে।

অনুসন্ধান ও মামলার নথি দেখে জানা গেছে, গত ১৪ জুন বেলা দেড়টার দিকে একদল সন্ত্রাসী বগুড়া শহরের আকাশতারা এলাকায় সাবগ্রাম বন্দর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল তালেবকে (৩২) প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও গলাকেটে হত্যা করে। দু’দিন আগে ১২ জুন বেলা ১১টার দিকে শহরের আকাশতারা এলাকায় দুর্বৃত্তরা শাকিল ওরফে তালপট্টি শাকিলকে (৩৫) কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পূর্ব বিরোধের জের ধরে শাকিল প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করতে গেলে দা কেড়ে নিয়ে তাকে প্রতিপক্ষ হত্যা করে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

গত ৯ জুন সোনাতলার পূর্ব সুজাইতপুর গ্রামে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত পোশাককর্মী আবু রায়হান (২০) পরদিন বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে মারা যান। ৫ জুন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জুমার নামাজ আদায় করতে শাজাহানপুর উপজেলার শাকপালায় মসজিদে ঢোকার সময় মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা মাথায় কুড়ালের আঘাতে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু হানিফ মিস্টারকে (৩৪) হত্যা করে। একইদিন উপজেলার গ-গ্রাম বুড়িতলা মাঠে ঢাকা ফেরত মীম আক্তার (১৯) নামে এক পোশাককর্মীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।

এর আগে ২৬ মে শহরের জহুরুল নগরের মাহী ছাত্রাবাসে আড্ডা দেওয়ার সময় প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ শেখকে কুপিয়ে হত্যা করে। ২৫ মে বগুড়া সদরের বাঁশবাড়িয়া এলাকায় বিটল ম-ল নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ২৪ মে শিবগঞ্জ উপজেলার বিহারপুর গ্রামে ভাতিজার ছুরিকাঘাতে শামীম প্রামাণিক নামে এক ব্যক্তি খুন হন।

গত ২২ মে শিবগঞ্জের খাদইল মিস্ত্রিপাড়ায় গৃহবধূ নুরুন্নাহার বৃষ্টিকে স্বামী জুয়েল ম-ল ও অন্যরা মারপিটে হত্যার পর লাশ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে বলে অভিযোগ করা হয়। গত ১৩ মে শহরের মালগ্রামে দুর্বৃত্তরা সুরুজ নামে এক যুবককে হত্যা করা হয়। গত ৬ মে নন্দীগ্রামের কৈগাড়ি গ্রামে গৃহবধূ ফাতেমাকে স্বামী আল আমিন হত্যার পর লাশ ডোবাতে ফেলে দেয় বলে অভিযোগ আছে । গত ৬ মে গাবতলী বাজারে লুডুতে জুয়া খেলা নিয়ে বিরোধে নাহিদ নামে এক দুর্বৃত্ত চা বিক্রেতা মানিক মিয়াকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া গত ৫ মে সকালে শাজাহানপুর উপজেলার কৃষি কলেজের সামনে বগুড়া-নাটোর মহাসড়কে দূর্বৃত্তরা মোটরসাইকেলের পথরোধ ও ছুরিকাঘাত করে সোনালী ব্যাংক নন্দীগ্রাম শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার মতিয়ার রহমানের কাছে ব্যাংকের চাবি, দু’টি মোবাইল ফোন ও নগদ ১০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। গত ১৬ মে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে দুর্বৃত্তরা শাজাহানপুরের শাকপালা দীঘির পাড় এলাকায় গ্রামীণ ফোনের প্রতিনিধি ফরহাদ আহমেদের গতিরোধ করে নগদ এক লাখ ২০ হাজার টাকা ও ৯৫ হাজার টাকা মূল্যের সিম ও স্ক্যাচ কার্ড ছিনিয়ে নেয়।

এ ব্যাপারে বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সনাতন চক্রবর্তী জানান, খুন ও অন্য অপরাধগুলোর ব্যাপারে মামলা হয়েছে। অধিকাংশ আসামি চিহ্নিত ও অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের  গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গত রবিবার দুপুরে সদরের আকাশতারায় যুবলীগ নেতা আবু তালেব হত্যার ক্লু উদঘাটন ও ঘাতকদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। তিনি আরও বলেন, ‘হত্যাকা-গুলো ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বে ঘটেছে। তাই এসবকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি বলা যাবে না।’

Leave A Reply

Your email address will not be published.