বগুড়ায় বিলের পাড়ে ৩ ট্রাক কুচি করা টাকা নিয়ে তুলকালামকান্ড

0 104

বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ার শাজাহানপুরে ২৪ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে শাজাহানপুর উপজেলার খোট্টাপাড়া ইউনিয়নের চান্দাই গ্রাম সংলগ্ন খাউরা বিলের পাড়ে বিপুল পরিমাণ টুকরো টাকাগুলোর পরিত্যক্ত অবস্থায় সন্ধান পাওয়া যায় পাওয়া গেছে। কুচি কুচি করে কাটা ওই টাকা দেখে শোরগোল পড়ে যায় পুরো এলাকায়। পরিত্যক্ত ওই টাকার একাংশ বিলের পানিতেও পড়েছিল। পরবর্তীতে এনিয়ে তুলকালামকান্ড বেঁধে যায়।
খবর পেয়ে প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা আর সংবাদকর্মীরা গিয়ে ভিড় করেন সেখানে। এছাড়া উৎসুক জনতাও দলে দলে ছুটে যান সেই বিলের পাড়ে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে টাকা পড়ে থাকার ঘটনাটি।
পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের ছেঁড়াফাটা ও পরিত্যক্ত ওই টাকাগুলো পাঞ্চিং (কেটে টুকরো করা) করে বগুড়া পৌরসভাকে তা অপসারণ করতে বলে। পৌর কর্তৃপক্ষ সেই টাকা নিয়ে গিয়ে ওই স্থানে ফেলে দেয়।
চান্দাই গ্রামের বাসিন্দা নয়ন মিয়া, আবদুল জলিল, বিলকিস বেগম, জালসুকা গ্রামের রমজান আলী ও ফজলুল হক জানান, সোমবার সকাল থেকে তারা বিলের পানিতে এবং পাড়ে টাকার টুকরোগুলো পড়ে থাকতে দেখেন। গ্রামের অনেকেই জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করার জন্য সেসব টাকা বস্তায় করে বাড়ি নিয়ে যায়। পরে আশপাশের গ্রামবাসী সেই টাকা দেখতে বিলের পাড়ে ভিড় জমায়।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে বিষয়টি জানার পর শাজাহানপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ প্রথমে ওই টাকার উৎস সম্পর্কে কিছুই জানতে পারেনি। এ কারণে সেখান থেকে কয়েক বস্তা টুকরো টাকা নমুনা হিসেবে সংগ্রহ করে পুলিশ তা থানায় নেয়। পরে গোয়েন্দা বিভাগের সদস্যরা এবং কয়েকজন সংবাদকর্মী খোঁজ নিয়ে নিশ্চিত হন এগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের ছেঁড়াফাটা পরিত্যক্ত টাকা। তারাই পাঞ্চিং করা টাকাগুলো পৌর কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ব্যাংক থেকে অপসারণ করে সেখানে ফেলেছে।
এ প্রসঙ্গে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) সনাতন চক্রবর্তী জানান, শুরুতেই টাকাগুলো নিয়ে নানা ধরনের গুজব শুরু হয়। কিন্তু সেগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের বাতিল টাকা শেষ পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া গেছে ।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংক বগুড়া শাখার নির্বাহী পরিচালক জগন্নাথ ঘোষ সংবাদ কর্মীদের জানান, বেশকিছু টাকা বাতিল এবং অপ্রচলনযোগ্য হওয়ায় তা ধ্বংস করা হয় (পাঞ্চিংয়ের মাধ্যমে টুকরো করা)। তিনি বলেন, পরবর্তীতে ওই টাকাগুলো অপসারণ করার জন্য পৌরসভাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তারা ব্যাংক থেকে টাকাগুলো অপসারণ করে সম্ভবত সেখানে ফেলেছে।
যে কারণে ‘টুকরো টুকরো’ এত টাকা:
শাজাহানপুরে সড়কের পাশে বিলের তীরে বিপুল পরিমানের টুকরো টুকরো টাকা মিলেছে। যা নিয়ে প্রশ্ন ও কৌতূহল দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। এত টুকরো টুকরো টাকা এল কোথা থেকে? এমন কৌতূহল মিটেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের বগুড়া কার্যালয়ের উত্তরে। ব্যাংক থেকে জানানো হয়েছে, টুকরো টুকরো টাকাগুলো বাতিল ও অচল।
বাংলাদেশ ব্যাংক বগুড়া শাখার যুগ্ম ব্যবস্থাপক মো. শাজাহান জানান, টাকাগুলো মেশিন দিয়ে কেটে ফেলা হয়েছে। যা কখনোই জোড়া লাগানো যাবে না। বগুড়া পৌরসভার মাধ্যমে বর্জ্য হিসেবে নোটের টুকরোগুলো ফেলা হয়েছে। এক ট্রাক বর্জ্য ফেলা হয়েছে ওই স্থানে। এ ধরনের বিপুল বর্জ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের রয়েছে। সেগুলো পর্যায়ক্রমে পৌরসভার মাধ্যমে ফেলে দেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের আদেশ অনুসারে, ১ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বাতিল নোট পুড়িয়ে ধ্বংস করে ফেলা হয়। পর্যায়ক্রমে ১শ, ৫শ ও ১ হাজার টাকার বাতিল নোট টুকরো টুকরো করে কেটে ফেলা হয়। পরিবেশের ক্ষতির বিষয়টি চিন্তা করে টাকা পোড়ানো হয় না। টুকরো টুকরো করা টাকার ১ হাজার ৮শ বস্তা জমা হয় ব্যাংকের বগুড়া কার্যালয়ে। গত দুই দিন আগে (২২ আগস্ট) সেখান থেকে ২৪০ বস্তা ফেলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে বাতিল টুকরো টাকা বর্জ্য হিসেবে ফেলে দিতে পৌরসভার মেয়রকে চিঠি দেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে বগুড়া পৌরসভার কনজারভেন্সি পরিদর্শক মামুনুর রশিদ জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক বগুড়া শাখার যুগ্ম-ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ শাজাহান স্বাক্ষরিত চিঠি দিয়ে পৌরসভাকে জানানো হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক বগুড়া ও খুলনা শাখার বাতিল ও অপ্রচলনযোগ্য টাকাগুলো বর্জ্য হিসেবে গৃহীত হয়েছে। সেগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক বগুড়া শাখার নির্দিষ্ট ডাস্টবিন থেকে অপসারণ করতে অনুরোধ করা হয়। সেইমতে গত ২০ আগস্ট স্বাক্ষরিত ওই চিঠি পৌরসভা ২২ আগস্ট পাওয়ার পর গত রবিবার পৌরসভার ট্রাকযোগে তিন ট্রাক টাকার টুকরো ওই বিলের ধারে ফেলে দেওয়া হয়।
তবে এ দিকে বাতিল নোটের বর্জ্য এভাবে জলাশয়ের পাশে ফেলে দেওয়া কতটা যৌক্তিক হয়েছে এ নিয়ে হচ্ছে সমালোচনা। তবে বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট করে সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন বগুড়া পৌরসভার সচিব রেজাউল করিম। তিনি বলেন, টুকরো করা নোটের বস্তা পৌরসভার নির্ধারিত ডাম্পিং স্টেশনে ফেলার নির্দেশনা দেওয়া ছিল। তবে এ কাজে পৌরসভার পরিচ্ছন্ন পরিদর্শকের গাফিলতি রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

x