নির্বাচিত খবর

বন্যাকালীন স্বাস্থ্য সমস্যা ও করণীয়

করোনাকালে কয়েক দফা বন্যায় বাংলাদেশের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বন্যার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে নদী ভাঙনে দিশেহারা হয়েছেন নদী পারের মানুষ। বন্যায় ক্ষেতের ফসল ও ঘরবাড়ি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন পানিবন্দিরা। দেশের উত্তর অঞ্চল পানিতে টইটুম্বর বাদ যায়নি হাওর এলাকা। সেখানে সামান্য শুকনো জায়গায় গরু-ছাগল ও গৃহপালিত পশু-পাখি নিয়ে গাদাগাদি করে বসবাস করছেন বন্যাকবলিতরা। ফলে সেখারে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। সামান্য অসেচতনতায় পানিবাহিত রোগ সেখানে মহামারি আকারও ধারণ করতে পারে।  চলুন জেনে নেওয়া যাক বন্যাকালীন রোগ ছড়িয়ে পড়ার কারণ ও প্রতিকারের উপায়গুলো-

বন্যার সময়ে যেসব রোগ হতে পারে:

১. পেটের পীড়া: পেটের পীড়া নানা রকম হয়ে থাকে। যেমন:
ক. ডায়রিয়া, কলেরা।
খ. আমাশয়।
গ. টাইফয়েড।
ঘ. ভাইরাল হেপাটাইটিস

২. বুকের প্রদাহ: কফ, কাশি, শ্বাসকষ্ট নিয়ে নিউমোনিয়া, ব্রংকাইটিস প্রভৃতি হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে শিশুরাই বেশি আক্রান্ত হয়।

৩. জ্বর: নানা রকম ভাইরাল বা ব্যাকটেরিয়াল জ্বর হয়ে থাকে।

৪. চর্মরোগ: যেমন- খোস পাচড়া, ছত্রাকঘটিত সংক্রমণ প্রভৃতি চর্মরোগ হয়ে থাকে।

৫. চোখের প্রদাহ: যেমন- কনজাংটিভাইটিস, আইরাইটিস।

৬. সর্প দংশন : নানা রকম সর্পদংশনের ঘটনাও ঘটে থাকে।

৭. বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়া: বন্যার সময় শিশুরা অনেকসময় সাতার না জানার দরুন পানিতে ডুবে মারা যায়। এছাড়াও রয়েছে মশার প্রাদুর্ভাব।

প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবিলায় করণীয়:

বন্যা মোকাবিলায় সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্য ব্যাবহার করা। পানিকে সেকে কমপক্ষে আধা ঘণ্টা ফোটাতে হবে। তাছাড়া, ফিটকিরি, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট দিয়েও পানি বিশুদ্ধ করা যায়। প্লেট, গ্লাস, হাত ভালো করে বিশুদ্ধ পানি দিয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে। বাসি, নষ্ট খাবার পরিহার করতে হবে।

বন্যার পানিতে বেশি হাঁটা, চলা, গোসল করা পরিহার করতে হবে। এতে করে জ্বর, বুকের প্রদাহ, চর্মরোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।

শিশুদেরকে বিশেষ যত্ম নিতে হবে। অসাবধানতার কারণে পানিতে যাতে পড়ে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। শিশুদেরকে শুষ্ক পরিবেশে এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন অবস্থায় রাখতে হবে।

ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে খাবার স্যালাইন খেতে হবে। বমি বেশি হলে শিরায় স্যালাইন দিতে হবে। অতিমাত্রায় পাতলা পায়খানা, বমি হলে, রক্ত গেলে, জ্বর থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

বৃষ্টি, ঝড়, বন্যার কারণে ঠান্ডা লেগে অনেকসময় কফ-কাশি, শ্বাসকষ্ট, জ্বর প্রভৃতি হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে কিছু উপসর্গ নিরাময়ের ঔষধ সেবনের পরও উপকার না পেলে ডাক্তারের স্মরণাপন্ন হতে হবে। বন্যার সময় চর্মরোগ দেখা দিলে যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব চিকিৎসকের সহযোগিতা নিতে হবে।

সাপে কামড়ালে আক্রান্ত স্থানের উপরে মোটা কাপড় দিয়ে বেধে ক্ষতস্থান ভালো করে পরিষ্কার করে নিতে হবে। যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। বন্যা প্রতিরোধে সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি জনসচেতনতাই পারে বন্যাকবলিত মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে দিতে।

প্রিন্ট করুন

বিভাগ: স্বাস্থ্য