বন্যায় ৬১ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, সর্বস্বহারা ৬ লাখ

0 340

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. এনামুর রহমান জানিয়েছেন, ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে দেশের অন্তত ২৮ জেলায় চলমান বন্যায় ৬০ লাখ ৭৪ হাজার ৪১৫ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সর্বস্ব হারিয়েছেন ৬ লাখ ৩০ হাজার ৩৮৩ জন। আর ৫৪ লাখ ৪০ হাজার ৩২ জন আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

তিনি জানান, বন্যায় এখন পর্যন্ত দেশের ১৪ জেলায় ৭৫ জন মারা গেছেন। যাদের বেশিরভাগই শিশু। এর মধ্যে পানিতে ডুবে ৬৭ জন ও নৌকা ডুবে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

রবিবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ে চলমান বন্যা পরিস্থিতি ও ত্রাণ কার্যক্রম নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।

ক্ষতিগ্রস্ত ২৮ জেলার মধ্যে ১৬৩ উপজেলা, ৪৯ পৌরসভা, ৯৬১ ইউনিয়ন এবং ৬ হাজার ৫৩টি গ্রামে বন্যা আঘাত হেনেছে বলেও প্রতিমন্ত্রী জানান।

তিনি জানান, ২৮ জেলায় বন্যায় ৫ লাখ ৬৬ হাজার ৩৭৮ ঘরবাড়ি, ১ লাখ ৫৩ হাজার ৭৩৩ একর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ৪৫টি গবাদিপশু ও ২২ হাজার ৩৩৯টি হাঁস-মুরগি মারা গেছে। এছাড়া ৪ হাজার ৯৩৯টি শিক্ষা বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ৭ হাজার ২৭ কিলোমিটার সড়ক, ২৯৭টি ব্রিজ বা কালভার্ট, ৪৫৯ কিলোমিটারে বাঁধ, ৬০ হাজার ২৮৯টি টিউবয়েল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এনামুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে সব সময় বন্যার্তদের সহায়তা দেয়া হচ্ছে। তাদের খোঁজখবর রাখা হচ্ছে। সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করায় বন্যার ক্ষতি দ্রুত কাটিয়ে উঠা সম্ভব হচ্ছে। বাংলাদেশ এখন সফলভাবে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা অর্জন করেছে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সারা দেশে বন্যা মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা প্রতিটি জেলায় পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুদ রেখেছি।’

এদিকে মন্ত্রণালয় মৃতের সংখ্যা ৭৫ বললেও স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসাবে শতাধিক লোকের প্রাণহানি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. শাহ কামাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই মৃতের সংখ্যা জানিয়েছি।’

ত্রাণ বিতরণে বৈষম্যের অভিযোগ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, ‘দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করা দেশের ২২ শতাংশ মানুষকে আমরা ত্রাণ সরবরাহ করেছি। আমরা সেই হিসাবে পর্যাপ্ত ত্রাণ দিয়েছি। তারপরও যদি শুনি কোথাও ত্রাণ পাচ্ছে তবে আমরা সেখানের জন্যও ত্রাণ সরবরাহ করবো।’

মো. শাহ কামাল জানান, আগামী ২৭ জুলাই পর্যন্ত ২৭ হাজার ৩৫০ টন চাল, ৪ কোটি ৭১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ৩৯০০ বান্ডেল ঢেউ টিন বন্যার্ত মানুষের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা গৃহ মঞ্জুরী, ১ লাখ ১৩ হাজার কার্টন শুকনো ও অন্যান্য খাবার, শিশু খাদ্যের জন্য ১৮ লাখ টাকা, গো খাদ্যের জন্য ২৪ লাখ টাকা এবং ৮ হাজার ৫০০ তাঁবু বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

x