বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রপ্তানিতে আবারো শীর্ষে সৌদি আরব

0 ১,৫৫২

বিডি সংবাদ টোয়েন্টিফোর ডটকম : বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রপ্তানিতে আবারো দাপট বাড়ছে সৌদি আরবের। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে মোট কর্মী রপ্তানির প্রায় ৫২ শতাংশ গিয়েছিল সৌদি আরবে, ফেব্রুয়ারিতে সেটি বেড়ে সাড়ে ৬১ শতাংশ আর সর্বশেষ মার্চে সেটি আরো বেড়ে প্রায় ৬৩ শতাংশে উন্নীত হয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে। আর ২০১৬ সালে কর্মী রপ্তানিতে সৌদি আরবের অবদান ছিল ১৯ শতাংশ।

সৌদি আরবে জনশক্তি রপ্তানি ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় মোট কর্মী রপ্তানিতেও আকাশছোঁয়া গতি পেয়েছে। বিগত ২০১৬ সালে প্রতিমাসে সর্বোচ্চ কর্মী যেত সাড়ে ৮১ হাজার জন। গত মার্চ মাসে সেটি বেড়ে এক লাখ সাড়ে ৬ হাজার জনে উন্নীত হয়েছে।

জানতে চাইলে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক (ইমিগ্রেশন) আতিকুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এটা নিঃসন্দেহে বলা যায় সৌদি আরবের কারণেই জনশক্তি রপ্তানির এই ব্যাপক গতি। এটি ধরে রাখা গেলে বছর শেষে আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। ‘ তিনি আরো বলেন, ‘সৌদি আরবের বেশির ভাগ ভিসা আসছে প্রবাসে থাকা আত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমে। এ ছাড়া তিনজন পুরুষ কর্মীর বিপরিতে একজন নারী কর্মী থাকার শর্তর পরও কর্মী রপ্তানিতে রেকর্ড গতি এসেছে। ‘

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর হিসাবে, ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে মোট কর্মী গেছে সাড়ে ৮১ হাজার জন, এর মধ্যে সৌদি আরবে গেছে ৪২ হাজার ২৭২ জন, যা মোট কর্মী রপ্তানির প্রায় ৫২ শতাংশ। ফেব্রুয়ারিতে মোট কর্মী গেছে ৮৫ হাজার জন এর মধ্যে সৌদি আরবে গেছে ৫২ হাজার ২৫৬ জন, যা মোট কর্মীর সাড়ে ৬১ শতাংশ। মার্চ মাসে এক লাখ ৬ হাজার ৫০১ জন কর্মী বিদেশ গেছে এর মধ্যে সৌদি আরবে গেছে ৬৬ হাজার ৮২৮ জন, যা মোট কর্মীর প্রায় ৬৩ শতাংশ।

জানা গেছে, কর্মী রপ্তানিতে দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষে থাকা ওমান ও কাতারকে পেছনে ফেলে ২০১৬ সালের নভেম্বর থেকেই শীর্ষস্থান দখল করে বাংলাদেশের সবচে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরব। সেই নভেম্বরে শীর্ষে থাকা সৌদি আরবে কর্মী গিয়েছিল ২৭ হাজার ৭৮৪ জন, সেই মাসে ওমানে কর্মী যেত সাড়ে ১৬ হাজার জন আর কাতারে যেত প্রায় ১০ হাজার। ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে সেটি আকাশছোঁয়া গতি পায়।

জানা গেছে, ২০১৪ সাল পর্যন্ত কর্মী সৌদি আরবে কর্মী রপ্তানিতে ধস নেমেছিল। ২০১৫ সালে কিছুটা গতি পেয়ে ৫৮ হাজারে উন্নীত হয়, আর ২০১৬ সালে সেটি আরো বেড়ে ১ লাখ ৪৪ হাজার জনে উন্নীত হয়। ২০১৭ সালের তিন মাসে বিগত একবছরের চেয়ে বেশি রপ্তানি হয়েছে। জানুয়ারি থেকে মার্চে কর্মী গেছে ১ লাখ ৬১ হাজার ৩৫৬ জন।

কর্মী রপ্তানিকারকদের সংগঠন বায়রা চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কমিটির আহ্বায়ক এমদাদ উল্লাহ বলছেন, সৌদি আরবে দুজন পুরুষের সাথে একজন নারী কর্মী পাঠানোর শর্ত জুড়ে দেওয়ায় চট্টগ্রাম এর পুরো সুফল পাচ্ছে না। এই অঞ্চলের নারী কর্মীদের বিদেশ যেতে আগ্রহ খুব কম। এটি এখনো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। এরপরও সৌদি আরবের বাজার খুলে যাওয়ায় আমরা স্বস্তিতে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.