বাগমারায় পুদিনা চাষে কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে

1,257

SAM_4386রোজিনা সুলতানা রোজি, বাগমারা-রাজশাহী : রাজশাহীর বাগমারায় কৃষকের মাঝে পুদিনা চাষের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। সম্প্রতি উপজেলার কিছু এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে পুদিনা চাষ শুরু হয়েছে। ভালো দামের আশায় সহজ পদ্ধতি ও অল্প খরচে চাষিরা পুদিনা চাষে ঝুঁকছেন।
জানা গেছে, বাগমারায় হাতে গোনা কিছু বাড়ির পাশে স্বল্প পরিসরে শুধু নিজেদের পরিবারের জন্য পুদিনা চাষ করেন। কিন্তু বানিজ্যিক ভাবে অধিক লাভের আশায় গত দুই বছর থেকে শুধু বাসুপাড়া ইউনিয়নেই পুদিনার চাষ করা হয়েছে। পুদিনা পাতা তরি-তরকারির সাথে সুগন্ধি হিসাবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। খাদ্যকে মূখরোচক করতে পুদিনাপাতার বিশেষ গুন রয়েছে। সুদূর অতীত থেকে এ দেশে পুদিনাপাতার চাষ হয়ে আসছে। তবে এ পরিধি কখনও বেশী হয়নি। কোন ভাবে বাড়ির আঙিনায় দু-চারটা গাছ লাগিয়ে পারিবারিক ভাবে ব্যবহার হয়ে তাকে যুগ যুগ ধরে। এলাকায় ধনিয়াপাতা ও লুটুসপাতার ব্যবহার থাকলেও পুদিনাপাতার তেমন ব্যবহার বাড়েনি। তবে বাগমারার কিছু হাট-বাজারে আঁটি আঁটি পুদিনাপাতা বিক্রি হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দেশের বড় বড় শহরে চাইনিজ রেষ্টুরেন্ট, পাঁচতারা হোটেলে ও বিয়ে বাড়িতে পুদিনার ব্যবহার বেড়েছে। বিশেষ করে রমজান মাসে বড়া, চাটনি, সালাত, বোরহানি বানানোর কাজে ব্যাপক হারে পুদিনাপাতা ব্যবহার হয়। এছাড়া পুদিনা গাছ থেকে পিপারমেন্ট তেল তৈরীসহ বিভিন্ন প্রসাধন সামগ্রী বিশেষ করে টুথ পেষ্ট, তামাক, চা সরবত, মিন্ট চকলেটসহ বিভিন্ন প্রসাধন সামগ্রীতে পুদিনার ব্যবহার রয়েছে বলে জানা গেছে। তাই পুদিনাকে শুধু বাড়ির আঙিনায় আটকে না রেখে বাগমারায় এর প্রসার ঘটানোর লক্ষে শুরু হয়েছে পুদিনা চাষ। বর্তমানে বাজারে পুদিনাপাতার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বাগমারার বাসুপাড়া ইউনিয়নের বালানগর ও বসন্তপুর গ্রামে অন্য ফসলের মতো বানিজ্যিকভাবে পুদিনা চাষ শুরু হয়েছে।
বাসুপাড়া ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামের সাইফুল ইসলাম জানান, গত দু’বছর আগে তার এক আত্মীয় মুন্সিগঞ্জের রহমত আলী ও হুরমত আলী নামের দুই আত্বীয় বাগমারায় বেড়াতে এসে এলাকার উর্বর মাটি দেখে তাকে পুদিনা চাষের পরামর্শ দেয়। তার তেমন অর্থ না থাকায় রহমতকে নিয়ে বসন্তপুর তার শ^শুর বাড়ি এলাকায় মে মাসের দিকে বিঘা দুই জমি লিজ নিয়ে পুদিনা চাষ করে। চাষকৃত পুদিনা গাছ ৪০/৫০ দিনে (প্রায় ১০ সেমি) কাটার উপযুক্ত হলে ঢাকার কাওরান বাজারে অনেক লাভে বিক্রি করে। গত মওসুমে উৎপাদন খরচ বাদে বিঘা প্রতি আড়াই লাখ থেকে তিন লাখ টাকা লাভ হয়েছে। এর পর গত বছর থেকে এলকার বালানগর, শ্যামপুর, বসন্তপুর এলাকায় ৬০/৭০ বিঘা জমি লিজ নিয়ে পুদিনা চাষ করেছেন। পুদিনাচাষী হুরমত আলী জানান, এবারে চাষকৃত বেশী জমির পুদিনা রমজানকে ঘিরে বেশী জমিতে চাষ করা হয়েছে। রমজানের শুরুতে ঢাকার বাজারে নিতে গতকাল সোমবার ক্ষেতে লোক লাগিয়ে পুদিনাপাতা কাটা শুরু করেছি। এতে গত বছরের তুলনায় অনেক আয় বাড়বে বলে তিনি জানান। এলাকায় রহমত-সাইফুলের পুদিনাচাষের দেখা দেখি অনেকে পুদিনা চাষে ঝুঁকেছেন। এলাকার অনেকের চাষে আগ্রহ থাকলেও প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও এলাকায় ব্যবহার না বাড়ায় ব্যাপক ভাবে কৃষকরা ঝুঁকি নিতে আগ্রহী হয়ে উঠেনি। বালানগর গ্রামের মোফাজ্জল হোসেন জানান, মুন্সিগঞ্জের হুরমত ও তার ভাই মিলে আমার ৫ বিঘা জমিতে পুদিনা চাষ করেছেন। জমিতে পুদিনাপাতা বেশ তরতাজা হয়েছে। বাণিজ্যিক ভাবে আমার জমিতে তাদের পুদিনা চাষ দেখে আমাকে খুব ভালো লাগছে। তিনি আরো জানান, পুদিনা চাষে এলাকায় প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে এটা বাইরের দেশে রপ্তানি করে বৈদাশিক মুদ্রা আয়েরও সুযোগ বাড়িয়ে দিতে পারে।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বাগমারায় উৎপাদন এবং দাম ভাল হওয়ায় কৃষকরা সম্প্রতি পুদিনা চাষে ঝুঁকছেন।

x