বাগেরহাটে কৃষক লেবুয়াত এর উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল হাইব্রীড জাতের ধান এখন সারাদেশে মডেল

1,230

এস.এম. সাইফুল ইসলাম কবির, বাগেরহাট : বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার বেতাগায় কৃষক লেবুয়াত এর উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল হাইব্রীড জাতের ধান এখন সারাদেশে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। তার উদ্ভাবিত ধান কেজি প্রতি ৪শত টাকা দরে সংগ্রহ করতে তার বাড়িতে শতশত কৃষককের ভিড় জমেছে। কি করে এই ধান উদ্ভাবিত করা হয়েছে তা সরেজমিনে প্ররিদর্শন করতে কৃষি মন্ত্রনালয়ের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের বীজ নিয়ে গবেষণা শুরু হয়েছে। সরেজমিনে অনুসন্ধ্যানে গিয়ে জানা গেছে, চাকুলী গ্রামের মোঃ লেবুয়াত শেখ পেশায় একজন সাধারন কৃষক। গত ২০১৬সালে তিনি তার ক্ষেতে আফতাব জিরো-৫ জাতের ধান রোপন করেন। সেই ধানের মধ্যে ২/৩টি শীষ এত বড় ও উচ্চ ফলনশীল যা দেখে তার মাতা ফাতেমা বেগম অবাক হয়ে যান। তখন তিনি তিনটি শীষ বীজ রাখার জন্য সংরক্ষন করেন। পরবর্তী বছর ১শতক জমিতে তিনি সেই ধানের চাষ করেন। সেই বীজ দিয়ে তিনি চলতি বছর মাত্র ৭৫শতক জমিতে রোপন করেন। সেই ধান এখন বেতাগার অলংকারে পরিনত হয়েছে। বিষয়টি নিজে চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা অসম্ভাব। প্রতিটি ধানের শীষ ১২/১৩ইঞ্চি লম্বা,শীষে যে পরিমান ধান হয়েছে তাতে ১হাজার থেকে শুরু করে ১২শতটি ধান এবং তার ওজন ৩০/৪০গ্রাম। যা দেশের অন্য কোন স্থানে উদ্ধাবিত হয়েছে বলে নজির পাওয়া যায়নী। এই উচ্চ ফলনশীল ধান দেখতে শতশত কৃষক লেবুয়াতের ক্ষেতে ভিড় জমিয়েছে। কেউ কেউ বীজ ধান ক্রয় করতে আগে ভাগে নাম মোবাইল নম্বার লিখিয়েছেন। তিনি প্রতি কেজি ধান এখন ৪শত টাকা কেজি দরে বিক্রয় করছেন।
অনুসন্ধ্যানে গিয়ে দেখা গেছে, একটি বীজে ৬/৭টি শীষ নিয়ে বড় একটি গোজ। তা ছাড়া শীষ এত মোটা (নলের মত) যা ঝড় বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় ধানের কোন ক্ষতি করতে পারবেনা। তাছাড়া এত বড় শীষে এত গুলি ধান হলেও তাতে চিটা নাই বললেও চলে। লেবুয়াতের উদ্ভাবিত ধান এখন কৃষক থেকে শুরু করে কৃষিবিদ ও গবেষকদের গবেষনার প্রধান বন্ত্রুতে পরিনত হয়েছে। কৃষক লেবুয়াত কি ভাবে এই উচ্চ ফলনশীল ধান উদ্ভাবিত করলেন তা নিয়ে ঢাকার গাজীপুর কৃষি গবেষনা ইনস্টিটিউটে ব্যাপক গবেষনা চলছে। কৃষক লেবুয়াত জানান, আফতাব জিরো-৫ এর মধ্যে তিনটি বড়বড় শীষ দেখতে পেয়ে তার মাতা ফাতেমা বেগম সে গুলি সংগ্রহ করে বীজ রাখেন। সেই বীজের ধান এখন একর প্রতি ১শত ৩০মন উৎপাদন হয়েছে। তিনি ৭৫শতক জমিতে এই ধানের চাষ করেছেন। উপ-সহকারী কৃষি অফিসার প্রদিপ কুমার মন্ডল ও মোঃ সোলায়মান মন্ডল জানান, শুরুতে তারা লেবুয়াতের ক্ষেতে গিয়ে ধানের নমুনা দেখে অবাক হয়ে যান। তখন তারা লেবুয়াত-কে হাতে কলমে ও সর্বক্ষনিক পরামর্শ প্রদান করেন। বেতাগা ইউনিয়ন মৎস্য ও কৃষি সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোঃ ইউনুস আলী শেখ এর সাথে আলাপ করা হলে তিনি বলেন,অন্যান্য জমিতে যে পরিমান সার কীটনাশক ব্যাবহার হয়ে থাকে এখানেও তাই ব্যাবহার করা হয়েছে। তা ছাড়া লবনাক্ত উচু নিচু জমিতে এই ধান রোপন করা হলে ফলনের কোন ক্ষতি হবে না। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ মোতাহার হোসেন এর সাথে আলাপ করা হলে তিনি বলেন, কৃষক লেবুয়াত যে উন্নত জাতের ধান উদ্ভাবিত করেছে তা সারাদেশের একটি মডেল। তার চাকুরী বয়সে এত বড় শীষ গোছে মোটা উচ্চ ফলনশীল ও সংখ্যায় এত বেশি আর কোন দিন দেখেন নী। তিনি ধানের বীজ সংগ্রহ করে গবেষনা গারে পাঠিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন।

x