বাস-ট্রেন-লঞ্চে ঘরমুখো মানুষের ঢল

0 443

বিডি সংবাদ টোয়েন্টিফোর ডটকম : পবিত্র ঈদুল আযহা বা কোরবানির ঈদের বাকি আর মাত্র একদিন। আর তাই স্বজনদের সাথে ঈদ করতে ঢাকা ছাড়ছেন ঘরমুখী মানুষ। পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে গত বৃহস্পতিবার থেকে মানুষ ঢাকা ছাড়তে শুরু করলেও সোমবার (২০ আগস্ট) সকালে স্টেশনে স্টেশনে ছিল যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়।

বাস, লঞ্চ টার্মিনালসহ রেল স্টেশনগুলোতে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। রাজধানীর কমলাপুর, বিমানবন্দর রেলস্টেশনসহ, মহাখালী, গাবতলী, সায়দাবাদ, শ্যামলী, কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ড ও সদরঘাট লঞ্চঘাটে ঘরমুখী মানুষের ঢল নেমেছে।

সোমবার সকাল থেকেই পরিবার- পরিজন নিয়ে বাস, ট্রেন ও লঞ্চের জন্য যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। অনেককে লঞ্চ, বাস ও ট্রেনের ছাদে চড়েও যেতে দেখা গেছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলস্টেশনে মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। ট্রেনের ছাদ, ইঞ্জিন ও দরজায় ঝুলতে দেখা যায় যাত্রীদের। অতিরিক্ত যাত্রী বহনের বিধিনিষেধের তোয়াক্কা করতে দেখা যায়নি।

কমলাপুর রেলস্টেশনের ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্তী বলেন, ‘গতকাল থেকে ঢাকামুখী ট্রেনে যথেষ্ট চাপ, এই চাপ এখনও চলছে। আজকে দুপুরে পর থেকে গার্মেন্টসগুলোতে ছুটি দেয়া হবে তাই বিকেল থেকে যাত্রীদের চাপ আরও বাড়বে। যা আগামীকালও থাকবে’।

রাজধানীর বাসস্ট্যান্ডগুলোতেও ছিল ঘরমুখী মানুষের প্রচণ্ড ভিড়। কারও টিকিট আগে থেকেই কাটা কেউবা হন্যে হয়ে খুঁজছেন টিকিট। সোমবার গাবতলী বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, ঈদের আগের সেই চিরচেনা রূপ।

খালি বাস এসে খুব বেশিক্ষণ দাঁড়াতে হচ্ছে না। মুহূর্তের মধ্যে ভরে যাচ্ছে বাসের সিট। আর যারা সিট পাচ্ছেন না তাদের জায়গা হচ্ছে হয় বাসের ইঞ্জিন কাভারে আর না হয় ছাদে।

কুষ্টিয়াগামী যাত্রী কলেজ শিক্ষার্থী মিনহাজ দীর্ঘদিন পর ঈদে বাড়ি যাচ্ছেন। বাসে সিট ফাঁকা নেই। তাই বসে গেছেন ইঞ্জিন কাভারে। কিন্তু টিকিটের দাম সেই একই দিতে হয়েছে তাকে। তিনি বলেন, ‘কিছু করার নেই, বাড়ি যেতে হবে। মা অপেক্ষা করছেন। ক্লাসের পাশাপাশি টিউশনি করি , তাই যেতে একটু দেরি হয়ে গেছে। না হলে আরও আগেই বাড়ি যেতাম।’

একই চিত্র মহাখালী আন্ত: জেলা বাস টার্মিনালেও। যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে বাস কাউন্টারের কর্মচারীদের।

লঞ্চঘাটেও ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে। সকাল থেকেই সদরঘাট থেকে লঞ্চগুলো সময় মেনে ছেড়ে যাচ্ছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শতাধিক লঞ্চ বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যায়।

কথা হয় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক মো. আলমগীর কবিরের সাথে। তিনি বলেন, এবারও আমরা শক্ত অবস্থানে রয়েছি। কোনো অবস্থায়ই লঞ্চের ছাদে লোক উঠতে দেয়া হচ্ছে না। অতিরিক্ত যাত্রী ওঠানোর সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। পর্যাপ্ত নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে এবার ঈদযাত্রা নিশ্চিত করা হয়েছে।

ব্রেকিংনিউজ/

Leave A Reply

Your email address will not be published.