বিএনপি নাম জমা না দিলেও কিছু যায় আসে না : তথ্যমন্ত্রী

২৩০
নওগাঁ পৌর আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে আজ বৃহস্পতিবার প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। ছবি : এনটিভি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য সার্চ কমিটিতে বিএনপি নাম জমা না দিলেও কিছু যায় আসে না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, নির্বাচন কমিশন গঠনে এমন অংশগ্রহণমূলক উদ্যোগ আশপাশের কোনো দেশে নেওয়া হয়নি। যেখানে তিনশর বেশি নাম জমা পড়েছে, সেখানে বিএনপির ঘরে বসে থাকলেও কোন লাভ নেই।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নওগাঁর জিলা স্কুল মাঠে নওগাঁ পৌর আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি সরাসরি নাম জমা না দিয়ে গোপনে অন্যদের মাধ্যমে নাম জমা দিয়েছে এবং তাঁদের বুদ্ধিজীবীরা সেখানে গিয়েছেন। দেশের মানুষ বলছেন, তাঁরা যে নামগুলো দিয়েছেন, আসলে সেগুলো বিএনপির নাম।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘সার্চ কমিটির মাধ্যমে নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে। গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে দেশে সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। যে নির্বাচনে জনগণের মতামত প্রতিফলিত হবে। যদিও বিএনপি কখনোই খুশি হবে না। ফেরেশতা বসিয়ে কমিশন গঠন করা হলেও তাঁরা মানবেন না।’

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিএনপিকে অনুরোধ জানাবো, এভাবে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে কোন লাভ হবে না। আপনারা সরাসরি নাম না দিয়ে এখন আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছেন।’

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের সংবাদ সম্মেলনে আমরা আসামির জবানবন্দি শুনেছি। নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করার প্রক্রিয়াকে বিতর্কিত করার চেষ্টায় সংবাদ সম্মেলন ডেকে একের পর এক মিথ্যা বানোয়াট তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করে যাচ্ছে বিএনপি।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সার্চ কমিটিতে নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য তিনশর বেশি নাম জমা পড়েছে। যাঁরা সার্চ কমিটিতে আছেন, তাঁরা এমন একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন, যে কমিশন সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। যে নির্বাচন কমিশন আগামীতে নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেবেন।’

‌‘জনগণের রায়ে আওয়ামী লীগই আবারও ক্ষমতায় আসবে’ উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‌‘বিএনপি কখনই খুশি হবে না। জয়ের নিশ্চয়তা না দিলে ফেরেশতা বসিয়ে কমিশন গঠন করলেও বিএনপি খুশি হবে না।’

পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাদের আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বসানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে সম্মেলনে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘সব সময় সুদিন থাকবে, সেটি মাথায় রাখবেন না। সব সময় একটি রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় থাকবে, সেটি মনে করার কোনো সুযোগ নেই।’

মন্ত্রী বলেন, ‘যে কোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। যাঁরা ক্ষমতার হালুয়া-রুটির জন্য দল করে, তাঁদের নেতৃত্বে আনা যাবে না। যাঁরা পিঠ বাঁচানোর রাজনীতি করে, তাঁদেরকে নেতৃত্বে আনা যাবে না। মূল নেতৃত্ব তাঁদের হাতেই থাকবে, যাঁরা ত্যাগী এবং পরীক্ষিত সৈনিক।’

আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় নওগাঁ জিলা স্কুল মাঠে ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধন করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল মালেক। সম্মেলনে প্রধান বক্তা ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী ও নওগাঁ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাধন চন্দ্র মজুমদার। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদক রোকেয়া সুলতানা, সদস্য নূরুল ইসলাম, সাংসদ ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক, শহীদুজ্জামান সরকার, ছলিম উদ্দিন তরফদার, নিজাম উদ্দিন জলিল, আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।

দুপুরে সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন শেষ হয়। দ্বিতীয় অধিবেশন বসে নওগাঁ সার্কিট হাউস মিলনায়তনে। সেখানে পৌর নেতৃত্বের কমিটি নির্বাচিত হবে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ২৯ নভেম্বর নওগাঁ পৌর আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয়েছিল। ওই সম্মেলনে দেওয়ান ছেকার আহমেদকে সভাপতি ও মোহাম্মদ আলীকে সাধারণ সম্পাদক করে ৬৭ সদস্যবিশিষ্ট পৌর কমিটি গঠন করা হয়। তিন বছর পর সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও গত সাত বছরে কোনো সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি। সাত বছর পর আজ অনুষ্ঠিত হলো নওগাঁ পৌর আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন।

Comments are closed.